জামালপুরে উন্নয়ন সংঘের প্রধান কার্যালয় এবং সিডস প্রকেল্পর মাধ্যমে মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহিদ দিবস উদযাপিত হয়েছে। ২১ শে ফেব্রুয়ারি উন্নয়ন সংঘের নির্বাহী পরিচালক ফাহাদ মাহমুদ ইবনে হুদার নেতৃত্বে সকাল ৭টায় প্রভাতফেরী শেষে কেন্দ্রিয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
অপরদিকে উন্নয়ন সংঘ সিডস প্রকল্পের মাধ্যমে ৩১টি প্রাক- প্রাথমিক বিদ্যালেয় দুটি ব্রিজ স্কুল এবং সিডস প্রকল্পের আওতাভুক্ত ৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যদায় পালন হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত, প্রভাতফেরি ও শহিদ মিনারের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কালো ব্যাজ ধারণ, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, চিত্রাংকন ও সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি ও দেশের গান প্রতিযোগিতা ও দিবস উপলক্ষ্যে রচনা প্রতিযোগিতা এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

উৎসবমুখর পরিবেশে প্রভাতফেরিতে শিশু শিক্ষার্থী, অভিভাবক, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, শিক্ষক এবং জনসংগঠনের সদস্যগণ অংশগ্রহণ করে। ৬২০ জন প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থী. ৩০ জন ব্রিজ স্কুলের শিক্ষার্থী, ৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ২৩১ জন কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ভিন্ন ভিন্ন একুশের মিছিলে অংশ নেন।
জামালপুর সদর উপজেলায় মহান ২১শে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. সাজু মিয়া এবং জনসংগঠনের সভাপতি সাবিনা ইয়াসমিন। দিশারি প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটির সদস্য নাজমা বেগম, বিউটি বেগম এবং তাহমিনা আক্তার, স্বপ্ন ডানা প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মো. আজহারুল ইসলাম, কুটামনি স্বপ্নের সিড়ি ব্রিজ স্কুলের আলোচনা সভায় দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য রাখেন মো. সাজু মিয়া, কাজল রেখা, বুলি বেগম, সাবিনা আক্তার এবং ইউপি সদস্য মো. শাহিন মিয়া। আলোচনা শেষে ১৫ জন ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। ইউপি সদস্য শাহিন মিয়া বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
এছাড়া প্রকল্পের সহায়তার প্রদানের মাধ্যমে জামালপুর সদর উপজেলার সিডস প্রকল্পের আওতাভুক্ত ১৩টি সরকারি প্রাতমিক বিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হয়েছে। হাসিল গৌরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মহান ২১ শে ফেব্রুয়ারি শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিষয়ে বক্তব্য রাখেন প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী আসাদ এবং ডেংগারগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু যোহানুর আহমেদ, মৌহাডাংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আজহারুল ইসলাম, ডেফুলিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মারজিয়া খাতুন, তাছাড়া বিদ্যালয় এডহক কমিটির সদস্য এবং কমিউনিটির গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ আলেঅচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন। সদর উপজেলার ২০০ জন প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থী, ১৫ জন ব্রিজ স্কুলের শিক্ষার্থী, ১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬৯৭ জন শিক্ষার্থী একুশের মিছিলে অংশ নেন।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় মহান ২১ শে ফেব্রুয়ারি শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরেন আকন্দপাড়া কোফাজ উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মো. হারুন রশীদ, নয়াগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেরুন্নাহার, ভাতখাওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমতাজুল আলম ও সহকারী শিক্ষকবৃন্দ, এডহক কমিটির সদস্যবৃন্দ। খেলাধুলা, কবিতা আবৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ১১টি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ২২০ শিশুরা চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। চর হাতিভাঙ্গা ব্রিজ স্কুলের ১৫ জনকে ভিন্ন ভিন্ন ইভেন্টের বিজয়ীদের পুরস্কার দেওয়া হয়। সিডস প্রকল্পের আওতাভুক্ত দেওয়ানগঞ্জের ১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দিবসটি পালনের জন্য প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হয়।

ইসলামপুর উপজেলায় মহান ২১ শে ফেব্রুয়ারি শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন চর বাটিকামারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আতিকুর রহমান, চর বাটিকামারি নতুনপাড়া প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বক্তব্য রাখেন সাবেক ইউপি সদস্য বেলাল মিয়া, ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি-মিশু আক্তার, সিএমসির সভাপতি-বিলকিস ও চায়না খাতুন এবং সভারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাহিদা ইসলাম। গোয়ালেচর ইউনিয়নের দক্ষিণ মোহাম্দপুর প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা, গণ্যমান্য ব্যক্তি আইয়ুব আলী, ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি বিলকিস বক্তব্য রাখেন। মাদরাসাপাড়া প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চর গোয়ালিনী ইউনিয়নের শাহজামাল মেম্বার বক্তব্য রাখেন। গাইবান্ধা ইউনিয়নে বলিদাপাড়া প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মহান ২১ শে ফেব্রুয়ারির গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরেন শিক্ষক ফারহানা আক্তার, গণ্যমান্য ব্যক্তি মো. আক্তার সরকার। খেলাধুলা, কবিতা আবৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামপুর উপজেলায় ১০টি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ২০০ শিশুরা চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। সিডস প্রকল্পের আওতাভূক্ত ৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দিবসটি পালনের জন্য প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হয়।
দিবসটি পালনে উপজেলাপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা সমন্বয়কারী মো. রবিউল এমরান, হামিদুল ইসলাম এবং মো. কামাল হোসেন। সার্বিক তত্ত্ববধানে ছিলেন মো. সায়েদুল ইসলাম, প্রোগ্রাম অফিসার (শিক্ষা) উন্নয়ন সংঘ, সিডস প্রকল্প। স্ট্রমি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর অর্থায়নে উন্নয়ন সংঘ দিবসটি পালন করে।
বাংলার চিঠি ডেস্ক : 



















