জামালপুরে ‘খাদ্যের নিরাপত্তা এবং নিরাপদ খাদ্যের পাঁচটি চাবিকাঠি’ বিষয়ক আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়। ২৬ জানুয়ারি, সোমবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জামালপুর জেলা কার্যালয় এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রসাশক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী। সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী বলেন, খাদ্য নিরাপদ করার জন্য সকলকে সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। নিরাপদ খাদ্যের পাঁচটি চাবিকাঠি আবশ্যিকভাবে মেনে চলতে হবে। জেলা প্রশাসনের স্বউদ্দ্যোগে এই ধরনের আলোচনা সভা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হচ্ছে যা চলমান থাকবে। ভেজাল খাদ্যমুক্ত জামালপুর প্রতিষ্ঠায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান তিনি।
সভায় প্রধান আলোচক হিসাবে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ. কে. এম. আব্দুল্লাহ-বিন-রশিদ পাঁচটি চাবিকাঠির বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কর্তৃক নির্ধারিত নিরাপদ খাদ্যের পাঁচটি চাবিকাঠি হল: পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা (হাত ও রান্নাঘরের সরঞ্জাম), কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখা, খাবার ভালভাবে রান্না করা, নিরাপদ তাপমাত্রায় খাবার রাখা এবং নিরাপদ পানি ও কাঁচামাল ব্যবহার করা এই পাঁচটি চাবিকাঠি খাদ্যবাহিত রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
তিনি আরও বলেন, খাদ্যে ভেজাল কমানোর জন্য মালিক পক্ষ থেকে উদ্যোগ নিতে হবে। ভাল এবং মানসম্মত খাদ্য উপকরণ ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া রঙের ব্যবহার যথা সম্ভব কমাতে হবে। প্রতিটি খাদ্য উৎপাদন স্থাপনায় ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। খেজুরের গুড় ও রসের ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। খাদ্যোপকরণ ব্যবহার এর প্রতি বিশেষ আলোকপাত করেন তিনি।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার আবু নাসের মোহাম্মদ শফিউল্লাহ।
সভায় জামালপুর জেলার স্যানিটারি ইন্সপেক্টরগণ, মালিক সমিতিসমূহের প্রতিনিধি, হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিক-ম্যানেজার, দই-মিষ্টি-বেকারির মালিক, ম্যানেজার এবং শেফ, ভ্রাম্যমাণ চটপটির দোকানদার, ফুচকার দোকানদার, ঝালমুড়ি বিক্রেতা, চাইনিজ রেস্টুরেন্টের খাদ্যকর্মীসহ অন্যান্য খাদ্য স্থাপনার মালিক, ম্যানেজার এবং কারিগরগণ উপস্থিত ছিলেন।
নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা আবু নাসের মোহাম্মদ শফিউল্লাহ নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক নাতিদীর্ঘ আলোচনার পাশাপাশি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে খাদ্য অনিরাপদ হওয়ার পথ পরিক্রমা এবং খাদ্য নিরাপদ রাখার উপায় বর্ণনা করেন। পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ ও কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম সম্পর্কে সকলকে অবহিত করেন তিনি।
সভায় মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ইকরামুল হক নবীন জানান, তারা এধরনের কার্যক্রম থেকে শিখছেন। পাশাপাশি খাদ্য ব্যবসাকে শিল্পের দিকে ধাবিত করতে এধরনের সভা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনায় ও পরামর্শে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি৷
সভায় বিশেষ আকর্ষণ হিসাবে সঠিক পালনীয় কাজের পুরষ্কার হিসাবে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অংশগ্রহনকারীদের মধ্যে দু’জনকে পুরস্কৃত করেন।
জাহাঙ্গীর সেলিম : সম্পাদক, বাংলারচিঠিডটকম 



















