ঢাকা ০১:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামপুরে সরিষা উৎপাদনে অপার সম্ভাবনা, মধু আহরণে স্বাবলম্বী মৌয়ালেরা

ইসলামপুর : দিগন্ত বিস্তৃত সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহে মৌয়ালদের আয়োজন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের ইসলামপুরের মাঠে মাঠে এখন নয়নাভিরাম সরিষার হলুদ ফুলের সমারোহ। বিস্তৃত মাঠ যেন ঢেকে আছে অপার সুন্দর এক হলুদ গালিচায়। সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে এসব জমির পাশে পোষা মৌমাছির শত শত বাক্স নিয়ে হাজির হয়েছেন মৌয়ালেরা।

বাক্স থেকে হাজার হাজার মৌমাছি উড়ে গিয়ে মধু সংগ্রহে ঘুরে বেড়াচ্ছে সরিষা ফুলের মাঠে। যেন মধু সংগ্রহে পেশাদার মৌয়ালদের মহোৎসব চলছে। এ অপরূপ দৃশ্যে মুগ্ধ হচ্ছে স্থানীয় শিশু-কিশোর থেকে প্রকৃতিপ্রেমী প্রতিটি মানুষ।

সরেজমিনে ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা, পলবান্ধা, পাথর্শী, চরপুটিমারী, চরগোয়ালিনী, গোয়ালেরচর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বেশির ভাগ ফসলি জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। এসব জমিতে সরিষার ফুল ফুটেছে। আর ফুলের মধু আহরণে নেমেছেন মৌয়ালেরা। মৌয়ালদের বাক্স থেকে দলে দলে উড়ে যাচ্ছে পোষা মৌমাছি। ঘুরে বেড়াচ্ছে এ ফুল থেকে ও ফুলে। সংগ্রহ করছে মধু। মুখভরা মধু নিয়ে এরা ফিরে যাচ্ছে মৌয়ালদের বাক্সে রাখা মৌচাকে।

সেখানে মধু জমা করে ফের ফিরে আসছে সরিষার জমিতে। এভাবে সারাদিন মৌমাছিরা যেমন মধু সংগ্রহ করে, আবার বিভিন্ন ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়াতে গিয়ে পুরো জমির পরাগায়নেও সহায়তা করে। এ মৌসুমে মৌয়ালরা পোষা মৌমাছি দিয়ে প্রচুর মধু উৎপাদন করে যেমন লাভবান হচ্ছেন ঠিক তেমনি মৌমাছির ব্যাপক পরাগায়নে সরিষার বাম্পার ফলন হওয়ায় চাষীরাও আশা রাখছেন।

ইসলামপুর : এবার সরিষার আবাদ বেশ ভালো হয়েছে। হলুদ ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে প্রকৃতি। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের চন্দনপুর এলাকায় সরিষার ফুলের মধু সংগ্রহে সোনারগাও থেকে আসা পেশাদার মৌয়াল ফজলুল রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি পোষা মৌমাছির ১৩০টি বাক্স নিয়ে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহ করতে এসেছি। এখানে সরিষার ফুল থেকে মৌমাছি দিয়ে মধু সংগ্রহ করে একদিকে ভালো আয় হচেছ। অন্যদিকে মৌমাছির ব্যাপক পরাগায়নে সরিষার বাম্পার ফলন হওয়ায় স্থানীয় চাষীরাও আশার আলো দেখছেন।

একই উপজেলার পাথর্শী ইউনিয়নের দেলিরপাড় গ্রামে সরিষার ফুল থেকে পোষা মৌমাছি দিয়ে মধু সংগ্রহে নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা পেশাদার মৌয়াল জামাল হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও পোষা মৌমাছির ১৬০টি বাক্স নিয়ে সরিষার ফুলের মধু সংগ্রহে ইসলামপুরে এসেছি। প্রতি সপ্তাহে গড়ে নয় মণ মধু সংগ্রহ করা যাবে।

মৌয়ালদের আরও কয়েকজন জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দেড় শতাধিক পেশাদার মৌয়াল জামালপুরের সাতটি উপজেলায় সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহের কাজ করছেন। এসব মধু বিক্রি করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন মৌয়ালেরা। আবার মধ্যস্বত্বভোগীরা এ মধু বিদেশ রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করছেন।

ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল এ প্রতিবেদককে বলেন, চলতি রবি মৌসুমে উপজেলায় ছয় হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ছয় হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হচ্ছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে প্রায় এক দশমিক পাঁচ টন সরিষা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও উপজেলায় ২৫টি স্থানে মৌয়ালেরা মধু সংগ্রহের দুই হাজার ৯২০টি বক্স বসিয়েছেন। সরিষার ভাল ফলনের সম্ভাবনা ও মধু উৎপাদন উভয় ক্ষেত্রেই ইসলামপুর উপজেলার কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসলামপুরে সরিষা উৎপাদনে অপার সম্ভাবনা, মধু আহরণে স্বাবলম্বী মৌয়ালেরা

আপডেট সময় ১০:২৬:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

জামালপুরের ইসলামপুরের মাঠে মাঠে এখন নয়নাভিরাম সরিষার হলুদ ফুলের সমারোহ। বিস্তৃত মাঠ যেন ঢেকে আছে অপার সুন্দর এক হলুদ গালিচায়। সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে এসব জমির পাশে পোষা মৌমাছির শত শত বাক্স নিয়ে হাজির হয়েছেন মৌয়ালেরা।

বাক্স থেকে হাজার হাজার মৌমাছি উড়ে গিয়ে মধু সংগ্রহে ঘুরে বেড়াচ্ছে সরিষা ফুলের মাঠে। যেন মধু সংগ্রহে পেশাদার মৌয়ালদের মহোৎসব চলছে। এ অপরূপ দৃশ্যে মুগ্ধ হচ্ছে স্থানীয় শিশু-কিশোর থেকে প্রকৃতিপ্রেমী প্রতিটি মানুষ।

সরেজমিনে ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা, পলবান্ধা, পাথর্শী, চরপুটিমারী, চরগোয়ালিনী, গোয়ালেরচর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বেশির ভাগ ফসলি জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। এসব জমিতে সরিষার ফুল ফুটেছে। আর ফুলের মধু আহরণে নেমেছেন মৌয়ালেরা। মৌয়ালদের বাক্স থেকে দলে দলে উড়ে যাচ্ছে পোষা মৌমাছি। ঘুরে বেড়াচ্ছে এ ফুল থেকে ও ফুলে। সংগ্রহ করছে মধু। মুখভরা মধু নিয়ে এরা ফিরে যাচ্ছে মৌয়ালদের বাক্সে রাখা মৌচাকে।

সেখানে মধু জমা করে ফের ফিরে আসছে সরিষার জমিতে। এভাবে সারাদিন মৌমাছিরা যেমন মধু সংগ্রহ করে, আবার বিভিন্ন ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়াতে গিয়ে পুরো জমির পরাগায়নেও সহায়তা করে। এ মৌসুমে মৌয়ালরা পোষা মৌমাছি দিয়ে প্রচুর মধু উৎপাদন করে যেমন লাভবান হচ্ছেন ঠিক তেমনি মৌমাছির ব্যাপক পরাগায়নে সরিষার বাম্পার ফলন হওয়ায় চাষীরাও আশা রাখছেন।

ইসলামপুর : এবার সরিষার আবাদ বেশ ভালো হয়েছে। হলুদ ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে প্রকৃতি। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের চন্দনপুর এলাকায় সরিষার ফুলের মধু সংগ্রহে সোনারগাও থেকে আসা পেশাদার মৌয়াল ফজলুল রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি পোষা মৌমাছির ১৩০টি বাক্স নিয়ে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহ করতে এসেছি। এখানে সরিষার ফুল থেকে মৌমাছি দিয়ে মধু সংগ্রহ করে একদিকে ভালো আয় হচেছ। অন্যদিকে মৌমাছির ব্যাপক পরাগায়নে সরিষার বাম্পার ফলন হওয়ায় স্থানীয় চাষীরাও আশার আলো দেখছেন।

একই উপজেলার পাথর্শী ইউনিয়নের দেলিরপাড় গ্রামে সরিষার ফুল থেকে পোষা মৌমাছি দিয়ে মধু সংগ্রহে নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা পেশাদার মৌয়াল জামাল হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও পোষা মৌমাছির ১৬০টি বাক্স নিয়ে সরিষার ফুলের মধু সংগ্রহে ইসলামপুরে এসেছি। প্রতি সপ্তাহে গড়ে নয় মণ মধু সংগ্রহ করা যাবে।

মৌয়ালদের আরও কয়েকজন জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দেড় শতাধিক পেশাদার মৌয়াল জামালপুরের সাতটি উপজেলায় সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহের কাজ করছেন। এসব মধু বিক্রি করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন মৌয়ালেরা। আবার মধ্যস্বত্বভোগীরা এ মধু বিদেশ রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করছেন।

ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল এ প্রতিবেদককে বলেন, চলতি রবি মৌসুমে উপজেলায় ছয় হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ছয় হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হচ্ছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে প্রায় এক দশমিক পাঁচ টন সরিষা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও উপজেলায় ২৫টি স্থানে মৌয়ালেরা মধু সংগ্রহের দুই হাজার ৯২০টি বক্স বসিয়েছেন। সরিষার ভাল ফলনের সম্ভাবনা ও মধু উৎপাদন উভয় ক্ষেত্রেই ইসলামপুর উপজেলার কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।