বৈশাখী টিভি চ্যানেলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী প্রসঙ্গে জামালপুরের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক বলেছেন, বৈশাখী টিভির শুরুটা বিজয়ের মাসেই। এই বিজয়ের মাসেই আমরা ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করতেছি। আশা করি বৈশাখী টিভি দেশের মানুষের যে পালস, মানুষ কি চায়। সেই বিষয়টা অনুধাবন করে, এই বিজয়ের মাসের মূল্যবোধকে ধারণ করে এবং চব্বিশের যে গণঅভ্যূত্থান ছাত্র-জনতার আন্দোলনের আদর্শকে ধারণ করে আগামী দিনগুলোতে দেশের স্বার্থে তারা তাদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করবেন। আমি সেই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।
২৭ ডিসেম্বর, শনিবার রাতে জামালপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বৈশাখী টেলিভিশন এর ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা ও কেক কাটা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার এসব কথা বলেন।
তিনি দেশের সার্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বলেন, আমরা এখন দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছি। সামনে নির্বাচন। একই সাথে চব্বিশের আগস্টের পর থেকেই যারা পরাজিত শক্তি তারা বিভিন্নভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার নানারকম চেষ্টা করেই যাচ্ছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে টার্গেট করেও তারা বিভিন্ন রকমের বিশৃংখলা তৈরির অপচেষ্টা করে যাচ্ছে।

পুলিশ সুপার বলেন, আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি। আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। কোনো ইনফরমেশন থাকলে সেটা সুনির্দিষ্ট হতে হবে আরকি। আপনাদের কাছে যদি সঠিক ইনফরমেশন থাকে। অপরাধী জামালপুর জেলায় আছে। তাদেরকের ধরা হচ্ছে না। এমন তথ্য আপনাদের কাছে থেকে থাকলে জানাবেন। তাদেরকে ধরার জন্য আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করব। আমাদের নিজস্ব ইন্টিলিজেন্স, আমাদের তৎপরতা চলমান আছে এবং সেটা চলমান থাকবে।
তিনি বলেন, আমরা আশা করি, যে যতই অপতৎপরার চেষ্টা করুক। তারা কোনোভাবেই সফল হতে পারবে না। আমরা সব সময় প্রস্তুত আছি। একই সাথে আপনারা সাংবাদিকেরা যদি সহযোগিতা করেন। তাহলে অপচেষ্টাকারীর আসার সুযোগটা কোথায়। আমি ওই সুযোগ দেখি না। আমি কোন হুমকিও দেখি না। অন্যকোন পরিবেশ সৃষ্টি করার মত কোন সুযোগ আমি দেখি না। আমরা যদি দেশের স্বার্থে সবাই এক থাকলে। সবাই যদি এক সাথে কাজ করি। আমরা সবাই যদি সচেতন থাকি। তাহলে তারা কোনভাবেই সফল হতে পারবে না। মাদকসহ সমাজের অন্যান্য অপরাধ দমনেও দরকার সামাজিক আন্দোলন। সমাজ যদি যথাযথভাবে সামাজিক অপরাধ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ, এনজিওসহ সমাজের সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকেরা যদি আমাদের সহযোগিতা করে। আশা করি সেইসব অপরাধ নির্মূলেও আমরা কিছু করে দেখাতে পারব।
জামালপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি হাফিজ রায়হান সাদার সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও কেক কাটা উৎসবে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহেল মাহমুদ। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ১৯৭১ সালের শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যূত্থানে শহীদ ছাত্র-জনতা ও বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে শহীদ সাংবাদিকদের বিদেহী আত্মার প্রতি সম্মান জানাতে দাঁড়িয়ে একমিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এর আগে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন জামালপুর প্রেসক্লাবের সদস্য আয়নাল হক কালাচান এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন বৈশাখী টেলিভিশন এর জামালপুর জেলা প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন মুক্তা।
জামালপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমানের সঞ্চালনায় এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আহসানুজ্জামান রুমেল, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মুস্তাফিজুর রহমান আরমান, জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি শেখ আব্দুস সোবাহান, জামালপুর বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শুভ, জামালপুর টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মিন্টু, দৈনিক সচেতন কন্ঠের সম্পাদক বজলুর রহমান, জামালপুর প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, কোষাধ্যক্ষ কাভী পারভেজ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে জামালপুর প্রেসক্লাবের কর্মকর্তাবৃন্দ, সদস্য ও সহযোগী সদস্য সাংবাদিকবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ অংশ নেন।
মাহমুদুল হাসান মুক্তা : নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলারচিঠিডটকম 



















