পানিনিষ্কাশনে ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি হলেই জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার চরগোলাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে এখন মাঠ পানিতে থৈ থৈ করছে। জলাবদ্ধতায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ইউনিয়ন পরিষদ ও ভূমি অফিসে আসা সেবাপ্রার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এই মাঠে শিশুদের খেলাধুলার কোলাহল থাকার কথা। সেখানে সাঁতার কাটছে স্থানীয় কৃষকদের হাঁস। বিদ্যালয় মাঠ সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়া হলে আগামীতে আরও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, উপজেলার জোড়খালী ইউনিয়নের চরগোলাবাড়ি এলাকায় ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বিদ্যালয়টি। ভাল ফলাফল ও খেলাধুলার জন্য বিদ্যালয়টির বেশ সুনাম রয়েছে। ২০২৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয় গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়টির বিশাল মাঠের পাশে একটি উচ্চ বিদ্যালয়, ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মাদরাসা ও দুটি মসজিদ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে যাতায়াতের একমাত্র পথ বিদ্যালয়টির মাঠ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যালয় মাঠ যেন একটি বিশাল জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। জমে থাকা পানির কারণে শিক্ষার্থীদের চলাচল, শরীরচর্চা, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, খেলাধুলা এবং সমাবেশ কার্যক্রম একেবারেই থমকে গেছে। অন্যদিকে সেবা নিতে এসে দুর্ভোগে পড়ছেন ইউনিয়ন পরিষদ ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আসা লোকজন। ইউনিয়ন পরিষদ ও ভূমি অফিসে যেতে পোহাতে হচ্ছে কাদা-ময়লাযুক্ত হাঁটুপানি। এছাড়া জলাবদ্ধ মাঠের ঘাস ও আগাছার পচা দুর্গন্ধে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বিঘ্নিত হচ্ছে।
ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা ফুলজোড় এলাকার জাহিদুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠ পেরিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হয়। কিন্তু মাঠে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় কাদা পানি মাড়িয়ে শত শত মানুষকে ইউনিয়ন পরিষদ ও ভূমি অফিসে সেবা নিতে যেতে হচ্ছে। অনেক সময় কাদা পানি পড়ে জামা-কাপড় ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পড়ে নষ্ট হয়ে যায়।
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র রায়হান বলেছে, মাঠে পানি থাকায় শ্রেণিকক্ষের বাইরে বের হতে পারি না। ফুটবল অনুশীলনও বন্ধ হয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে বিদ্যালয়ে আবদ্ধ হয়ে থাকতে হয়। আমরা মাঠে দ্রুত মাটি ভরাটের দাবি জানাচ্ছি।
অভিভাবক বাবুল সরকার বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠ তুলনামূলক নিচু এবং পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বর্ষাকাল জুড়েই বিদ্যালয় মাঠে বৃষ্টির পানি জমে থাকে। স্থায়ী সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে শিক্ষার্থীদের শরীরচর্চা, খেলাধুলা ও শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার দাবি জানান তিনি।
৫ নম্বর ইউনিয়নের জাহানারা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মাঠের চারপাশে বেশকয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মাঠে পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীদের সব সময় শ্রেণিকক্ষেই থাকতে হচ্ছে। এতে তাদের মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে।
চরগোলাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শাহীনুর ইসলাম বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয়ের মাঠে পানি জমে যায়। মাঠে জলাবদ্ধতার কারণে সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিরোপা জেতা খেলোয়াড়েরা অনুশীলন চালিয়ে যেতে পারছে না। আর মাঠের ঘাস ও আগাছা পঁচা দুর্গন্ধ, স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ এবং মশা বংশবিস্তার করছে। ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ডেঙ্গু আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নূরুল আমিন এ প্রতিবেদককে বলেন, সরকারিভাবে বরাদ্দ পেলে বিদ্যালয়টির মাঠে মাটি ভরাট করা হবে। সেই সাথে স্থানীয়ভাবে সমাধান করতে ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির শাহ এ প্রতিবেদককে বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য চরগোলাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ১৭টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবেদন করেছেন। কিন্তু পরিষদের বরাদ্দ না থাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে কোন ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তর জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যবস্থা নিলে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
খাদেমুল ইসলাম : নিজস্ব প্রতিবেদক, মাদারগঞ্জ, বাংলারচিঠিডটকম 



















