ঢাকা ০১:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদকাসক্ত ছেলেকে ধরিয়ে দিলেন মা, হল ছয় মাসের জেল জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ বাস্তবায়ন করা হবে : প্রধানমন্ত্রী দেশের সরকারি গুদামে ১৭.৭১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুদ রয়েছে : খাদ্যমন্ত্রী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তৈরি করতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া : তথ্যমন্ত্রী অনূর্ধ্ব-১৮ মহিলা জোনাল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি উন্মোচন জামালপুরে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু মাদারগঞ্জে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের রুগ্নদশার অবসান চাই কাল পিতৃভূমি বগুড়ায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে আইএমএফ-এর শর্তের সম্পর্ক নেই : অর্থমন্ত্রী

মাদারগঞ্জের বালিজুড়ী বাজার-জামথল সড়কে খানাখন্দ, দেড় লাখ মানুষের দুর্ভোগ

মাদারগঞ্জ : বালিজুড়ী বাজার-জামথল সড়কের বেহালা দশায় পথচারী ও যানবাহনের চালক-যাত্রীদের ঝূঁকি বেড়েছে। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম 

সাড়ে ছয় কিলোমিটার সড়কের পিচঢালাই উঠে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ইটের খোয়া ও পাথর। সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দের। একটু বৃষ্টি হলেই সেখানে পানি জমে। বাধ্য হয়েই এই সড়কে প্রতিনিয়ত চলাচল করে হাজারো মানুষ ও যানবাহন। ফলে প্রায়ই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। এমন বেহাল অবস্থা জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী বাজার-জামথল সড়কের। স্থানীয় লোকজন দীর্ঘদিন ধরে এ সড়ক সংস্কারের দাবি জানালেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বালিজুড়ী বাজার-জামথল সড়কের বেশির ভাগ অংশের পিচঢালাই ও ইট-খোয়া উঠে খানাখন্দে ভরে গেছে। বেহালদশার কারণে দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়েই যাত্রী সাধারণসহ চালকদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। অনেক সময় অটোরিকশা ও সিএনজি উল্টে আহতের ঘটনাও ঘটছে। ছোট-বড় গর্ত এড়িয়ে পরিবহনগুলোকে চলতে হচ্ছে এঁকেবেঁকে হেলেদুলে, যা চালকদের জন্য কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

মাদারগঞ্জ : বালিজুড়ী বাজার-জামথল সড়কের বেহালা দশায় পথচারী ও যানবাহনের চালক-যাত্রীদের ঝূঁকি বেড়েছে। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জানা গেছে, মাদারগঞ্জ পৌরসভার চাঁদপুর, চর গাবেরগ্রাম, দক্ষিণ চর বওলা, বালিজুড়ী ইউনিয়নের চর শুভগাছা, কামারিয়ারাচর, বগুড়ার সারিয়াকান্দী উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের জামথল, চর ঘাগুয়া, টেংড়াকুড়া এলাকাসহ ২০টি প্রত্যন্ত অঞ্চলের দেড় লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের অবলম্বন এ সড়ক। শুধু যাতায়াতই নয়। এই সড়ক দিয়েই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা চলাচল করে। এছাড়া চরাঞ্চলের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল এই সড়ক দিয়েই বালিজুড়ী বাজারসহ আশপাশের বাজারে নিয়ে যান।

অটোরিকশাচালক তোফায়েল ইসলাম বলেন, সড়কের দুরবস্থার কারণে এই সড়কে অটোরিকশা চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। অধিকাংশ সময় অটোরিকশা হেলে যায়। এতে অনেক যাত্রী পড়ে আহত হচ্ছেন। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

জাহিদুল ইসলাম নামের একজন ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, আর ছবি তুলে কোন লাভ নেই। অনেকেই শুধু শুধু ছবি তুলে নিয়ে যান। রাস্তা মেরামতের কোন কাজ হয় না। এই অবস্থা কোথাও আছে বলে আমার জানা নেই। কিছু ইটের আদলা (ভাঙা ইট) ফেলে রাখলেও তো চলাচল করা যেত।

চাঁদপুর এলাকার বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, বালিজুড়ী বাজার-জামথল সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ, হাঁটাচলা করা খুব কষ্ট কর। পুরো সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে। বৃষ্টি হলেই সড়ক পরিণত হয় ডোবা-নালায়। কাদা পানিতে চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বিশেষ করে রোগী, নারী ও শিশুরা বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

জামালপুর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নওয়াজিস রহমান বিশ্বাস বলেন, বালিজুড়ী বাজার-জামথল সড়কটি সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছি। প্রকল্পটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সড়কটি ২৪ ফুট প্রশস্ত করার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি ঢাকা থেকে এসে সড়কটি দেখে গেছে। তারা মতামত দিয়েছে সড়কটি ২৪ ফুটের স্থলে ১৮ ফুট প্রশস্ত করার জন্য। এটি এখনও অনুমোদন হয়নি। অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। তবে আপাতত সড়কের গর্তগুলোতে দ্রুত কিছু খোয়া ও বালু ফেলা হবে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পানি জমে যাওয়ায় কয়েক দিন ধরে এমন অবস্থা হয়েছে বলে জানান তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদকাসক্ত ছেলেকে ধরিয়ে দিলেন মা, হল ছয় মাসের জেল

মাদারগঞ্জের বালিজুড়ী বাজার-জামথল সড়কে খানাখন্দ, দেড় লাখ মানুষের দুর্ভোগ

আপডেট সময় ১০:১২:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫

সাড়ে ছয় কিলোমিটার সড়কের পিচঢালাই উঠে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ইটের খোয়া ও পাথর। সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দের। একটু বৃষ্টি হলেই সেখানে পানি জমে। বাধ্য হয়েই এই সড়কে প্রতিনিয়ত চলাচল করে হাজারো মানুষ ও যানবাহন। ফলে প্রায়ই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। এমন বেহাল অবস্থা জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী বাজার-জামথল সড়কের। স্থানীয় লোকজন দীর্ঘদিন ধরে এ সড়ক সংস্কারের দাবি জানালেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বালিজুড়ী বাজার-জামথল সড়কের বেশির ভাগ অংশের পিচঢালাই ও ইট-খোয়া উঠে খানাখন্দে ভরে গেছে। বেহালদশার কারণে দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়েই যাত্রী সাধারণসহ চালকদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। অনেক সময় অটোরিকশা ও সিএনজি উল্টে আহতের ঘটনাও ঘটছে। ছোট-বড় গর্ত এড়িয়ে পরিবহনগুলোকে চলতে হচ্ছে এঁকেবেঁকে হেলেদুলে, যা চালকদের জন্য কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

মাদারগঞ্জ : বালিজুড়ী বাজার-জামথল সড়কের বেহালা দশায় পথচারী ও যানবাহনের চালক-যাত্রীদের ঝূঁকি বেড়েছে। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জানা গেছে, মাদারগঞ্জ পৌরসভার চাঁদপুর, চর গাবেরগ্রাম, দক্ষিণ চর বওলা, বালিজুড়ী ইউনিয়নের চর শুভগাছা, কামারিয়ারাচর, বগুড়ার সারিয়াকান্দী উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের জামথল, চর ঘাগুয়া, টেংড়াকুড়া এলাকাসহ ২০টি প্রত্যন্ত অঞ্চলের দেড় লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের অবলম্বন এ সড়ক। শুধু যাতায়াতই নয়। এই সড়ক দিয়েই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা চলাচল করে। এছাড়া চরাঞ্চলের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল এই সড়ক দিয়েই বালিজুড়ী বাজারসহ আশপাশের বাজারে নিয়ে যান।

অটোরিকশাচালক তোফায়েল ইসলাম বলেন, সড়কের দুরবস্থার কারণে এই সড়কে অটোরিকশা চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। অধিকাংশ সময় অটোরিকশা হেলে যায়। এতে অনেক যাত্রী পড়ে আহত হচ্ছেন। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

জাহিদুল ইসলাম নামের একজন ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, আর ছবি তুলে কোন লাভ নেই। অনেকেই শুধু শুধু ছবি তুলে নিয়ে যান। রাস্তা মেরামতের কোন কাজ হয় না। এই অবস্থা কোথাও আছে বলে আমার জানা নেই। কিছু ইটের আদলা (ভাঙা ইট) ফেলে রাখলেও তো চলাচল করা যেত।

চাঁদপুর এলাকার বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, বালিজুড়ী বাজার-জামথল সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ, হাঁটাচলা করা খুব কষ্ট কর। পুরো সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে। বৃষ্টি হলেই সড়ক পরিণত হয় ডোবা-নালায়। কাদা পানিতে চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বিশেষ করে রোগী, নারী ও শিশুরা বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

জামালপুর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নওয়াজিস রহমান বিশ্বাস বলেন, বালিজুড়ী বাজার-জামথল সড়কটি সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছি। প্রকল্পটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সড়কটি ২৪ ফুট প্রশস্ত করার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি ঢাকা থেকে এসে সড়কটি দেখে গেছে। তারা মতামত দিয়েছে সড়কটি ২৪ ফুটের স্থলে ১৮ ফুট প্রশস্ত করার জন্য। এটি এখনও অনুমোদন হয়নি। অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। তবে আপাতত সড়কের গর্তগুলোতে দ্রুত কিছু খোয়া ও বালু ফেলা হবে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পানি জমে যাওয়ায় কয়েক দিন ধরে এমন অবস্থা হয়েছে বলে জানান তিনি।