জামালপুরের বকশীগঞ্জে একজন মাদরাসাছাত্রীকে অপহরণের ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রদলের সভাপতিসহ ছয়জনের নামে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। থানায় মামলা দায়েরের পর ২৯ এপ্রিল মঙ্গলবার ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করেছে বকশীগঞ্জ থানা পুলিশ।
বকশীগঞ্জ থানা পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, বাট্টাজোড় ইউনিয়নের পুরান বাট্টাজোড় গ্রামের বাসিন্দা ও বাট্টাজোড় মীর কামাল হোসেন দাখিল মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ২৭ এপ্রিল রবিবার অপহৃত হয়। ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের মাঝ গেদরা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে শাহীন ও তার সহযোগীদের নেতৃত্বে ওই ছাত্রীকে মাদরাসার সামনে থেকে অপহরণ করা হয়।
এ ঘটনা জানাজানি হলে বাট্টাজোড় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিটন আকন্দ, তার ছেলে বাট্টাজোড় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ইসরাফিল আকন্দ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তারা অপহৃত ছাত্রীর বাবাকে মীমাংসার জন্য চাপ দেন। তিনি মীমাংসায় রাজী না হওয়ায় তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে মারপিট করেন তারা। মেয়েকে অপহরণের ঘটনায় ২৯ এপ্রিল ওই ছাত্রীর বাবা বকশীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে বকশীগঞ্জ থানা পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করেন।
ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে বাট্টাজোড় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিটন আকন্দ, ছাত্রদলের সভাপতি ইসরাফিল আকন্দ ও মূল হোতা শাহীন মিয়াসহ ছয়জনের নামে এবং অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও ১০ থেকে ১৫ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে বাট্টাজোড় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিটন আকন্দকে মোবাইলে ফোন করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দিতেই তিনি ফোনকল কেটে দেন।
বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ এ প্রতিবেদককে বলেন, এক মাদরাসাছাত্রীকে অপহরণের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। ওই ছাত্রীকেও উদ্ধার করা হয়েছে। অপহরণের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
জিএম ফাতিউল হাফিজ বাবু : নিজস্ব প্রতিবেদক, বকশীগঞ্জ, বাংলারচিঠিডটকম 



















