ঢাকা ১২:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভিক্ষার চালেই চলে বৃদ্ধ দম্পতির সংসার, সড়কের পাশে ঝুপড়িতে মানবেতর জীবন বকশীগঞ্জে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা জামালপুরে ১০০ এতিম শিক্ষার্থী পেল দোস্ত এইডের শিক্ষাবৃত্তি সরকার কারিগরি শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে : ওয়ারেছ আলী মামুন নকলায় ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করলেন ফাহিম চৌধুরী ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল তিন দিনের নাট্যোৎসবে মঞ্চস্থ হচ্ছে সাদিয়া তাবাসসুম বৃষ্টি রচিত নাটক ‘ঊনচাঁদ’ বিএনপির সাবেক মহাসচিব ব্যারিস্টার সালাম তালুকদারের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিক পালিত বিএনপির সাবেক মহাসচিব সালাম তালুকদার স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
জুলাই বিপ্লবে হত্যাকাণ্ড

কবর থেকে রিপনের মরদেহ তুলতে আপত্তি, ফিরে গেলেন ম্যাজিস্ট্রেট!

জামালপুর : নিহত রিপন মিয়ার গ্রামের বাড়িতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমা উল হুসনা ও পুলিশের এসআই খাইরুল ইসলাম। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জুলাই বিপ্লবের আন্দোলনে ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার রিপন মিয়ার মরদেহ উত্তোলনে পরিবারের আপত্তির কারণে ফিরে গেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বকশীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খাইরুল ইসলাম৷ ২২ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় বাট্টাজোড় ইউনিয়নের পানাতিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, গত বছরের ৫ আগস্ট রাজধানী ঢাকার উত্তরায় জুলাই বিপ্লবের আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বকশীগঞ্জ উপজেলার চরকাউরিয়া সীমারপাড় এলাকার রেজাউল করিমের ছেলে রিপন মিয়া। তখন তাকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়। ওই ঘটনায় ঢাকার উত্তরা পূর্ব থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেন নিহত রিপন মিয়ার বড় ভাই সরকার আকতার হোসেন। ওই মামলার এক আদেশে ২৯ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট রিপন মিয়ার মরদেহ কবর থেকে তুলে আইনসহায়ক পরীক্ষা-নিরীক্ষার নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই খাইরুল ইসলাম ২২ এপ্রিল বিকালে আদালতের নির্দেশে কবর থেকে মরদেহ তুলতে বাট্টাজোড় ইউনিয়নের পানাতিয়া গ্রামে যান।

এ সময় নিহত রিপন মিয়ার বড় ভাই ও মামলাটির বাদী সরকার আকতার হোসেন কবর থেকে তার ভাইয়ের মরদেহ তুলতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আপত্তি জানান। কবর থেকে মরদেহ তোলার জন্য রিপন মিয়ার পরিবারের সম্মতি না পেয়ে মরদেহ না তুলেই ফিরে যান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

জামালপুর : নিহত রিপন মিয়ার গ্রামের বাড়িতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমা উল হুসনা ও পুলিশের এসআই খাইরুল ইসলাম। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

মামলার বাদী সরকার আকতার হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, রিপন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার প্রমাণ আছে। তার মরদেহ কবর থেকে তোলার ব্যাপারে আমাকে আগে থেকে কিছুই বলা হয়নি। তাই আপত্তি জানিয়েছি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই খাইরুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, জুলাই বিপ্লবে নিহতের পর রিপন মিয়াকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়। তাই আদালতে কবর থেকে তার মরদেহ তোলার আবেদন করি। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে ২৯ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট রিপন মিয়ার মরদেহ কবর থেকে তোলার নির্দেশ দেন। এরই প্রেক্ষিতে আমরা মরদেহ তুলতে আসি।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমা উল হুসনা এ প্রতিবেদককে বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আদালতের নির্দেশে আমরা রিপন মিয়ার মরদেহ কবর থেকে তুলতে এসেছিলাম। কিন্তু রিপনের বড় ভাই ও মামলার বাদী সরকার আকতার হোসেন মরদেহ কবর থেকে তুলতে বাধা দেন। এ বিষয়ে আদালতের পরবর্তী নির্দেশের পর কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

জুলাই বিপ্লবে হত্যাকাণ্ড

কবর থেকে রিপনের মরদেহ তুলতে আপত্তি, ফিরে গেলেন ম্যাজিস্ট্রেট!

আপডেট সময় ০৯:০৭:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫

জুলাই বিপ্লবের আন্দোলনে ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার রিপন মিয়ার মরদেহ উত্তোলনে পরিবারের আপত্তির কারণে ফিরে গেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বকশীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খাইরুল ইসলাম৷ ২২ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় বাট্টাজোড় ইউনিয়নের পানাতিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, গত বছরের ৫ আগস্ট রাজধানী ঢাকার উত্তরায় জুলাই বিপ্লবের আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বকশীগঞ্জ উপজেলার চরকাউরিয়া সীমারপাড় এলাকার রেজাউল করিমের ছেলে রিপন মিয়া। তখন তাকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়। ওই ঘটনায় ঢাকার উত্তরা পূর্ব থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেন নিহত রিপন মিয়ার বড় ভাই সরকার আকতার হোসেন। ওই মামলার এক আদেশে ২৯ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট রিপন মিয়ার মরদেহ কবর থেকে তুলে আইনসহায়ক পরীক্ষা-নিরীক্ষার নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই খাইরুল ইসলাম ২২ এপ্রিল বিকালে আদালতের নির্দেশে কবর থেকে মরদেহ তুলতে বাট্টাজোড় ইউনিয়নের পানাতিয়া গ্রামে যান।

এ সময় নিহত রিপন মিয়ার বড় ভাই ও মামলাটির বাদী সরকার আকতার হোসেন কবর থেকে তার ভাইয়ের মরদেহ তুলতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আপত্তি জানান। কবর থেকে মরদেহ তোলার জন্য রিপন মিয়ার পরিবারের সম্মতি না পেয়ে মরদেহ না তুলেই ফিরে যান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

জামালপুর : নিহত রিপন মিয়ার গ্রামের বাড়িতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমা উল হুসনা ও পুলিশের এসআই খাইরুল ইসলাম। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

মামলার বাদী সরকার আকতার হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, রিপন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার প্রমাণ আছে। তার মরদেহ কবর থেকে তোলার ব্যাপারে আমাকে আগে থেকে কিছুই বলা হয়নি। তাই আপত্তি জানিয়েছি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই খাইরুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, জুলাই বিপ্লবে নিহতের পর রিপন মিয়াকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়। তাই আদালতে কবর থেকে তার মরদেহ তোলার আবেদন করি। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে ২৯ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট রিপন মিয়ার মরদেহ কবর থেকে তোলার নির্দেশ দেন। এরই প্রেক্ষিতে আমরা মরদেহ তুলতে আসি।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমা উল হুসনা এ প্রতিবেদককে বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আদালতের নির্দেশে আমরা রিপন মিয়ার মরদেহ কবর থেকে তুলতে এসেছিলাম। কিন্তু রিপনের বড় ভাই ও মামলার বাদী সরকার আকতার হোসেন মরদেহ কবর থেকে তুলতে বাধা দেন। এ বিষয়ে আদালতের পরবর্তী নির্দেশের পর কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।