যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে এবং অবরুদ্ধ এলাকাবাসীকে যাতায়াতের সুযোগ করে দেওয়ার দাবিতে জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের ভুক্তভোগী মধ্যনাকাটি গ্রামবাসী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি সোমবার দুপুরে স্থানীয় নাকাটি-কেন্দুয়া ঘুন্টিঘর সড়কে এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন ভুক্তভোগী গ্রামবাসী।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মধ্যনাকাটি গ্রামের ভুক্তভোগী বাসিন্দা আলিম হোসেন ময়না, আবুল হোসেন, সবুজা বেগম, জম বেগম, রেখা বেগম, চন্দ্র বানু, লুৎফর রহমান, রাজমিস্ত্রি মো. রুবেল, শিক্ষার্থী জোবায়ের হোসেন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালী হারুন অর রশিদ লিচুসহ স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি কেন্দুয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের আওতাধীন পুরাতন একটি রাস্তা দখল করে নিজেদের জমি দাবি করে আসছেন। একই সাথে তারা ওই রাস্তার জমিতে চাষাবাদ এবং মধ্যনাকাটি গ্রামের লোকজনদের যাতায়াতে বাধা দিয়ে আসছেন। প্রভাবশালী ওই ব্যক্তিদের হুমকি ও ভয়ভীতির কারণে স্থানীয়দের যাতায়াত বন্ধ হয়ে খুবই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ওই গ্রামের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষসহ মধ্যনাকাটি গ্রামের শতাধিক পরিবারের বিপুল সংখ্যক মানুষসহ সর্বস্তরের মানুষ অবরুদ্ধ হয়ে জীবনযাপন করতে হচ্ছে। পশ্চিম এলাকার কোন মানুষজনও এই রাস্তা দিয়ে পূর্বপাড়ায় যেতে পারেন না। মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া-আসা, বিয়েশাদি, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনেও চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। ওই রাস্তায় যাতায়াত করতে গেলে মারধর, নির্যাতনও করা হয়।

এদিকে মানববন্ধন শেষে ভুক্তভোগী গ্রামবাসী ওই রাস্তাটি সাংবাদিকদের দেখানোর জন্য নিয়ে গেলে প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী হারুন অর রশিদ লিচুর সমর্থকেরা সেখানে উপস্থিত হয়ে গ্রামবাসীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেন। এ নিয়ে তাদের সাথে গ্রামবাসীর তুমুল হট্টগোলও হয়।
গ্রামবাসীর অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রভাবশালী হারুন অর রশিদ লিচুর ভাতিজা মো. সাইদ এ প্রতিবেদককে বলেন, ভুলবশত ম্যাপে এই স্থানে একটা রাস্তা উঠছিল। উঠার পরে আমার চাচা হারুন অর রশিদ লিচু মামলা দায়ের করেন। মামলার রায় আমাদের পক্ষে আসে। এই জায়গায় আদালত থেকে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া আছে। এইটা হচ্ছে জমি। এখান দিয়ে কখনোই কোন রাস্তা ছিল না। এখানে আমাদের নিজস্ব জমি আছে। চাষাবাদ হয় সারাবছর ধরে। ৫ আগস্টের কয়েকদিন আগে কেন্দুয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খান সোহেল কোন কাগজপত্র না দেখেই এখানে রাস্তার জন্য খুঁটি গেড়ে দেন। সেই খুঁটিগুলো আমরা উঠায়ে ফেলি। পরে ওই গ্রামের লোকজন আবার খুুঁটি গেড়ে রাস্তার জমি বলে দাবি করে আসছেন।
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : বাংলারচিঠিডটকম 



















