ঢাকা ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫ আগস্ট আমাদের দিয়েছে বাক স্বাধীনতা : মুফতী আজিজী

জামালপুর : সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ এর নেতা মুফতী শেখ ইহতেশাম বিল্লাহ আজিজী। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতী শেখ ইহতেশাম বিল্লাহ আজিজী বলেছেন, ৫ আগস্ট আমাদেরকে স্বাধীনতা দিয়েছে, দিয়েছে বাক স্বাধীনতা। আমাদের কথা প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার হয়। সে জন্য আমরা ধন্যবাদ জানাই। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আমরা কিন্তু নতুন ফ্যাসিস্টের আধিপত্য দেখছি। আমরা কি দেখছি? আমরা এইগুলা চেয়েছিলাম না। এই নতুন বাংলাদেশে যেখানে দেড় হাজারের উপরে শহীদ হয়েছে, যেখানে ১৫ হাজার ছাত্র-জনতা পঙ্গু হয়েছে। এত ত্যাগ এত তিতীক্ষা এত সাধনা এত বিপ্লবের পর এদেশে কিন্তু নৈরাজ্য থেমে থাকেনি।

১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকালে শহরের মডেল মসজিদ অডিটরিয়ামে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ জামালপুর জেলা শাখা আয়োজিত দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, যারা আগে খেলা হবে বলতো। তারা কিন্তু খেলতে পারেনি। তারাই আগে আউট হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আপনারা যদি ভেবে থাকেন ১৬ বছরের জগদ্দল পাথরের মত, যাদের কাছে সিয়ামপদ, লেমপদ, হাইপদ, পুলিশ, বিডিআর, বিএসএফ সব থাকা সত্ত্বেও মসনদে থাকা সম্ভব হয়নি। যাদের কাছে কিছু নাই, যারা দীর্ঘ ১৬ বছর ঈদের পর আন্দোলন করবে, ঈদের পর আন্দোলন করবে, ঈদ আর আসে নাই, তারা যদি মনে করেন এদেশের বিপ্লবী জনতার চিন্তা চেতনার বিরুদ্ধে গিয়ে কোন কিছু করবেন, সেইটা জাতি হতে দিবে না।

শেখ ইহতেশাম বিল্লাহ আজিজী বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনারকে আহ্বান জানাই গণভোটের ব্যবস্থার মাধ্যমে জরিপ করে পি আর পদ্ধতিতে নির্বাচন দিতে। সরকার নাই। বর্তমান সরকার তো একঅর্থে তত্ত্বাবধায়ক সরকার না। বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার বিদায়ের উপর গতানুগতিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়। বরং বিপ্লবের মাধ্যমে সরকার। এটা কুলি মজুরের সরকার। এটা জনগণের সরকার। আমরা চাই সমস্ত রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে আগামী সম্ভাব্য নির্বাচন। স্বাধীনতা উত্তর, একাত্তর স্বাধীনতা উত্তর, ৫৩ বছর পরবর্তী সবচাইতে নির্ভেজাল এবং স্বচ্ছ একটা নির্বাচন।

তিনি বলেন, আপনারা অতীতের ইতিহাস তুললেই দেখবেন অতীতে এমন কিছু নির্বাচন হয়েছে। স্বচ্ছ হয়নি এমনটা বলা যায় না। ’৯৬ সালের নির্বাচন অনেকটা স্বচ্ছ ছিল। কিন্তু স্বচ্ছ নির্বাচন আর সকলের অংশগ্রহণ এক জিনিস নয়। স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচন করলে কালো টাকার পথ বন্ধ হয় না। বরং পি আর পদ্ধতিতে নির্বাচন করলে কালো টাকার পথ বন্ধ হয়। এককেন্দ্রিক প্রচার বন্ধ হবে। দলকেন্দ্রিক প্রচারণা উঠে আসবে। আপনারা লক্ষ্য করবেন যিনি প্রার্থী হন তিনি দুই কোটি টাকা ইনভেস্ট করেন। তিনি পঞ্চাশ কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেন। এটাইতো স্বাভাবিক।

মুফতী আজিজী বলেন, আমি যখন আমার ব্যক্তিগত জীবনে ব্যবসায় ইনভেস্ট করি সেইটা থেকে লাভ অর্জন হবে এটাই প্রত্যাশা। বর্তমান গতানুগতিক পদ্ধতি যেইটা চালু আছে দীর্ঘদিন ধরে, সেইটার মাধ্যমে আমি পাঁচ কোটি, দশ কোটি অথবা বিশ কোটি টাকা ইনভেস্ট করলে দুইশ’ কোটি টাকা তো আমি হাতিয়ে নিব। সেইটা তো আমি আশা করতেই পারি। যে পদ্ধতিতে নির্বাচন করলে কালো টাকার পথ বন্ধ হয়ে যাবে, সেই পদ্ধতিই পি আর পদ্ধতির নির্বাচন। যার কথা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আজ থেকে ৫ বছর আগে থেকে বলে আসছে।

ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি এইচ এম আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতী হামিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য মুফতী জাহিদুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামালপুর জেলা শাখার উপদেষ্টা ডা. সৈয়দ মো. ইউনুস আহমাদ, সভাপতি মুফতী মোস্তফা কামাল, সহ-সভাপতি মুফতী সালেহ আহমাদ, সেক্রেটারি মাওলানা সুলতান মাহমুদ সিরাজী, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ জামালপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মুফতী শফিকুল ইসলাম, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ লিয়াকত হোসাইন, জাতীয় শিক্ষক ফোরাম জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মোখলেছুর রহমান, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি মুহাম্মদ নাহিদ খান প্রমুখ।

প্রথম অধিবেশন শেষে পূর্বের কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে। দ্বিতীয় অধিবেশনে মুফতী হুমায়ুন কবিরকে সভাপতি ও আশিক মাহমুদকে সহ-সভাপতি এবং মুফতী হামিদুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ জামালপুর জেলা শাখার সকল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

৫ আগস্ট আমাদের দিয়েছে বাক স্বাধীনতা : মুফতী আজিজী

আপডেট সময় ০৭:৪৫:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতী শেখ ইহতেশাম বিল্লাহ আজিজী বলেছেন, ৫ আগস্ট আমাদেরকে স্বাধীনতা দিয়েছে, দিয়েছে বাক স্বাধীনতা। আমাদের কথা প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার হয়। সে জন্য আমরা ধন্যবাদ জানাই। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আমরা কিন্তু নতুন ফ্যাসিস্টের আধিপত্য দেখছি। আমরা কি দেখছি? আমরা এইগুলা চেয়েছিলাম না। এই নতুন বাংলাদেশে যেখানে দেড় হাজারের উপরে শহীদ হয়েছে, যেখানে ১৫ হাজার ছাত্র-জনতা পঙ্গু হয়েছে। এত ত্যাগ এত তিতীক্ষা এত সাধনা এত বিপ্লবের পর এদেশে কিন্তু নৈরাজ্য থেমে থাকেনি।

১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকালে শহরের মডেল মসজিদ অডিটরিয়ামে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ জামালপুর জেলা শাখা আয়োজিত দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, যারা আগে খেলা হবে বলতো। তারা কিন্তু খেলতে পারেনি। তারাই আগে আউট হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আপনারা যদি ভেবে থাকেন ১৬ বছরের জগদ্দল পাথরের মত, যাদের কাছে সিয়ামপদ, লেমপদ, হাইপদ, পুলিশ, বিডিআর, বিএসএফ সব থাকা সত্ত্বেও মসনদে থাকা সম্ভব হয়নি। যাদের কাছে কিছু নাই, যারা দীর্ঘ ১৬ বছর ঈদের পর আন্দোলন করবে, ঈদের পর আন্দোলন করবে, ঈদ আর আসে নাই, তারা যদি মনে করেন এদেশের বিপ্লবী জনতার চিন্তা চেতনার বিরুদ্ধে গিয়ে কোন কিছু করবেন, সেইটা জাতি হতে দিবে না।

শেখ ইহতেশাম বিল্লাহ আজিজী বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনারকে আহ্বান জানাই গণভোটের ব্যবস্থার মাধ্যমে জরিপ করে পি আর পদ্ধতিতে নির্বাচন দিতে। সরকার নাই। বর্তমান সরকার তো একঅর্থে তত্ত্বাবধায়ক সরকার না। বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার বিদায়ের উপর গতানুগতিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়। বরং বিপ্লবের মাধ্যমে সরকার। এটা কুলি মজুরের সরকার। এটা জনগণের সরকার। আমরা চাই সমস্ত রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে আগামী সম্ভাব্য নির্বাচন। স্বাধীনতা উত্তর, একাত্তর স্বাধীনতা উত্তর, ৫৩ বছর পরবর্তী সবচাইতে নির্ভেজাল এবং স্বচ্ছ একটা নির্বাচন।

তিনি বলেন, আপনারা অতীতের ইতিহাস তুললেই দেখবেন অতীতে এমন কিছু নির্বাচন হয়েছে। স্বচ্ছ হয়নি এমনটা বলা যায় না। ’৯৬ সালের নির্বাচন অনেকটা স্বচ্ছ ছিল। কিন্তু স্বচ্ছ নির্বাচন আর সকলের অংশগ্রহণ এক জিনিস নয়। স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচন করলে কালো টাকার পথ বন্ধ হয় না। বরং পি আর পদ্ধতিতে নির্বাচন করলে কালো টাকার পথ বন্ধ হয়। এককেন্দ্রিক প্রচার বন্ধ হবে। দলকেন্দ্রিক প্রচারণা উঠে আসবে। আপনারা লক্ষ্য করবেন যিনি প্রার্থী হন তিনি দুই কোটি টাকা ইনভেস্ট করেন। তিনি পঞ্চাশ কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেন। এটাইতো স্বাভাবিক।

মুফতী আজিজী বলেন, আমি যখন আমার ব্যক্তিগত জীবনে ব্যবসায় ইনভেস্ট করি সেইটা থেকে লাভ অর্জন হবে এটাই প্রত্যাশা। বর্তমান গতানুগতিক পদ্ধতি যেইটা চালু আছে দীর্ঘদিন ধরে, সেইটার মাধ্যমে আমি পাঁচ কোটি, দশ কোটি অথবা বিশ কোটি টাকা ইনভেস্ট করলে দুইশ’ কোটি টাকা তো আমি হাতিয়ে নিব। সেইটা তো আমি আশা করতেই পারি। যে পদ্ধতিতে নির্বাচন করলে কালো টাকার পথ বন্ধ হয়ে যাবে, সেই পদ্ধতিই পি আর পদ্ধতির নির্বাচন। যার কথা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আজ থেকে ৫ বছর আগে থেকে বলে আসছে।

ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি এইচ এম আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতী হামিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য মুফতী জাহিদুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামালপুর জেলা শাখার উপদেষ্টা ডা. সৈয়দ মো. ইউনুস আহমাদ, সভাপতি মুফতী মোস্তফা কামাল, সহ-সভাপতি মুফতী সালেহ আহমাদ, সেক্রেটারি মাওলানা সুলতান মাহমুদ সিরাজী, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ জামালপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মুফতী শফিকুল ইসলাম, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ লিয়াকত হোসাইন, জাতীয় শিক্ষক ফোরাম জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মোখলেছুর রহমান, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি মুহাম্মদ নাহিদ খান প্রমুখ।

প্রথম অধিবেশন শেষে পূর্বের কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে। দ্বিতীয় অধিবেশনে মুফতী হুমায়ুন কবিরকে সভাপতি ও আশিক মাহমুদকে সহ-সভাপতি এবং মুফতী হামিদুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ জামালপুর জেলা শাখার সকল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।