জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ঝাউগড়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ রৌমারী বিল যেন ঋতু ভেদে ভিন্ন রূপে সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে উঠে সারাবছর। শীতের শুরুতে বিস্তীর্ণ রৌমালি বিল শুকিয়ে গেলে সরিষার আবাদ শুরু করে কৃষকেরা। তখন সরিষার হলুদ ফুলের চাদরে ঢাকা পড়ে গোটা বিল। এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে জেলা এবং জেলার বা্ইরের প্রকৃতিপ্রেমী, তরুণ-তরুণী, নব দম্পতিদের সমাগম ঘটে।
সরিষাফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা কলেজ পড়ুয়া তরুণরা বলেন, অপরূপ সুন্দর, চারদিকে শুধু হলুদ আর হলুদ। ফুলের মৌ মৌ গন্ধে খুব ভাল লাগছে। মধু চাষীদের কাছ থেকে কম দামে মধুও কিনতে পারছি এখানে। সব মিলিয়ে দারুন একটি পরিবেশ।

বিলের আশেপাশে গ্রামের তরুণরা বলেন, আমরা প্রতিদিন সরিষাখেতে সন্ধ্যার পর বাদ্যযন্ত্র দিয়ে গান-বাজনা করি এবং আনন্দে মেতে উঠি। এই হলুদের সমারোহ দেখার জন্য অনেক তরুণ, নব দম্পতি, প্রকৃতিপ্রেমিরা আসেন প্রতিদিন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সরিষাখেতের মাঝখানে মৌচাষীরা মধু সংগ্রহের জন্য তাবু গেড়েছে। পাশেই মৌমাছির বাক্স সারিবদ্ধভাবে সাজানো আছে। কথা হয় মৌচাষী জিএম মিজানুর রহমান মিস্টারের সাথে। তারা সাতক্ষীরা থেকে এখানে এসেছেন মধু সংগ্রহের জন্য।
মৌচাষী জিএম মিজানুর রহমান মিস্টার বলেন, এই রৌমারী বিলে পাঁচ বছর ধরে আমরা মধু সংগ্রহের জন্য আসি। এই বিলে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে সরিষার আবাদ হয়।প্রতিবছর এখানে তিন মাস মধু সংগ্রহ করি। যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে তাহলে এই রৌমারি বিলে এ বছর ২৫০ কলোনি (বাক্স) থেকে প্রায় ৬০ মণ মধু সংগ্রহ করতে পারব। কিন্তু সরিষাচাষীরা সরিষার ভাল ফলনের জন্য বিষ দিবেন। বিষ ছিটালে এখান থেকে আর মধু সংগ্রহ করতে পারবো না। কারণ ক্ষেতে বিষ ছিটালে মৌমাছি মারা যাবে। সবাইকে বলেছি মধু সংগ্রহ করলে সরিষাখেতের কোন সমস্যা হয় না। বরং উৎপাদন আরো বেশি হয়। কয়েকদিনের মধ্যে টাঙ্গাইল মির্জাপুর চলে যাবো মধু সংগ্রহের জন্য।
ঝাউগড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হিল্লোল সরকার বলেন, এই রৌমারী বিল বর্ষাকালে চারদিকে পানি থৈ থৈ করে। শীতকালে সরিষা ফুলের হলুদ সমারোহে অসাধারণ এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শরতের শুরুতে এই বিলে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা আয়োজন করে থাকি। বর্ষা ও শীতকালে হাজার হাজার প্রকৃতিপ্রেমিরা বেড়াতে আসেন। মেলান্দহবাসী এই রৌমারী বিলকে পর্যটন এলাকা হিসেবে ঘোঘণা করেছি ইতিমধ্যে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক জাহিদ হোসেন রবি বলেন, আমার বাড়ি জামালপুর হওয়ায় প্রতি বছর দু’বার রৌমারী বিলের প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে আসি। এখানে এলে ছবি আঁকার উপাদান খোঁজে পাই। এই বিলে বর্ষাকালে একরকম দৃশ্য এবং শীতকালে ঠিক বিপরীত দৃশ্য খোঁজে পাই। ছবি আঁকার অসাধারণ উপাদান রয়েছে এখানে।
স্থানীয় কাপাসহাটিয়া গ্রামে গড়ে উঠা মুক্তিসংগ্রাম জাদুঘরের ট্রাস্টি হামিদুর রহমান দোদুল সরকার বলেন, মেলান্দহ উপজেলায় রৌমারী বিলটি একটি ঐতিহ্যবাহী বিল। এই বিলে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। বিলের পাশেই গান্ধী আশ্রাম ও মুক্তিসংগ্রাম জাদুঘর। আশ্রমে এবং জাদুঘরে প্রতিদিন বিভিন্ন স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষা সফরে আসেন। শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সফরে এসে এই রৌমারী বিলের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে তারা অভিভূত হয়ে যায়। এই বিল এবং কাপাশহাটিয়া গ্রামকে পর্যটন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছি।
সুমন মাহমুদ : সংবাদদাতা, বাংলারচিঠিডটকম 



















