ঢাকা ১২:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইসলামপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ মাদারগঞ্জে বাঁশির শব্দে ছুটল ঘোড়া, উল্লাসে মাতল হাজারো দর্শক জামালপুরে নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ক এপির বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০২৬ : বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশে মর্যাদা ও অধিকার চাই নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে জামালপুরে মিডিয়া ওরিয়েন্টেশন প্রতি ইউনিয়নে গড়ে তোলা হবে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট : প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক সহকারী গণমাধ্যম শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে: মির্জা ফখরুল শিশুদের স্কুলমুখী করতে মিড ডে মিল চালু করতে চাই : প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত নকলায় আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করলেন সংসদ সদস্য ফাহিম চৌধুরী

ইসলামপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় ৯৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট বাবদ বরাদ্দ দেওয়া ১০ লাখের বেশি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়ায় আত্মসাতের অভিযোগ উঠছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা বিরুদ্ধে।

১০ হাজার ৫০০ টাকা শিক্ষকদের কাছ থেকে ফেরত নিয়ে জমা না দেওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জামালপুর কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েছেন শিক্ষকেরা ।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৯৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট খরচ বাবদ বিদ্যালয় প্রতি ১২ হাজার টাকা করে বরাদ্দ আসে। আয়কর ও ভ্যাট বাদ দিয়ে ১০ হাজার ৫০০ টাকা করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের কাছে দেওয়া হয়। প্রধান শিক্ষকেরা গত জুন মাসে ব্যাংক থেকে ওই টাকা উত্তোলন করেন।

শিক্ষকদের অভিযোগ, জুলাই মাসে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার কথা বলে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিকট ওই টাকা ফেরত নেন। পরে তা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া না দেওয়ায় অভিযোগ করেন শিক্ষকেরা। এছাড়াও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহানারা খাতুন যোগদানের পর থেকেই অফিস পরিচালনায় স্বেচ্ছাচারিতা, সরকারি বরাদ্দ, প্রেষণ, পরীক্ষা পরিচালনা ও বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও করেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ৯৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৮ থেকে ২০টিতে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। বাকি বিদ্যালয়গুলোতে সংযোগ নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষকেরা।

গাইবান্ধা ইউনিয়নের মরাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুন্নাহার বলেন, জুন মাসে ১০ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়েছিল। জুলাইয়ে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ সরকার রাজস্ব খাতে জমা দেওয়ার কথা বলে তার ক্লাস্টারের বিদ্যালয়গুলোর টাকা ফেরত নিয়েছেন।

পূর্ব কান্দারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমার বিদ্যালয়ে প্রতি মাসে প্রায় এক হাজার টাকা ইন্টারনেট বাবদ খরচ হয়। গত জুনে ইন্টারনেট খরচ হিসাবে ১০ হাজার ৫০০ টাকা পাওয়ার পর ১১ জুলাই সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা হারুন-অর-রশীদ ওই টাকা ফেরত নিয়েছেন।

বেলগাছা ঘোনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমীন ও ধনতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাইনুল হকও একই অভিযোগ করেন।

শিক্ষকেরা আরও জানান, উপজেলার ১৭৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৬টির জন্য ইন্টারনেট খাতে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমানে মাত্র ১৮ থেকে ২০টি বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত বেসরকারি সংস্থা (আইএসপি) সংযোগ দিতে দেরি করায় অনেক শিক্ষক নিজেদের খরচে ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন বলেও জানান তারা।

ইসলামপুর উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমাজ সভাপতি সৈয়দ মাসুদুর রহমান রাজা বলেন, ৯৬টি বিদ্যালয়ের জন্য ইন্টারনেট খাতে বরাদ্দ আয়কর ও ভ্যাট বাদ দিয়ে বিদ্যালয়গুলোকে ১০ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হলেও পরে রহস্যজনক ভাবে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে টাকা ফেরত নেয়া হয়।

সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা হারন-অর রশিদ বলেন, শিক্ষকদের কাছ থেকে তোলা টাকা ইন্টারনেট কোম্পানিকে দেওয়া হয়েছে।

এই বিষয়ে ইসলামপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহানারা খাতুন এই প্রতিবেদককে বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা। প্রতিটি বিদ্যালয়ের টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুদকে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করে কোন লাভ হবে না।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জামালপুর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. কামরুজ্জামান এই প্রতিবেদককে বলেন, শিক্ষকদের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসলামপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ইসলামপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট সময় ১১:০৪:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় ৯৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট বাবদ বরাদ্দ দেওয়া ১০ লাখের বেশি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়ায় আত্মসাতের অভিযোগ উঠছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা বিরুদ্ধে।

১০ হাজার ৫০০ টাকা শিক্ষকদের কাছ থেকে ফেরত নিয়ে জমা না দেওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জামালপুর কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েছেন শিক্ষকেরা ।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৯৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট খরচ বাবদ বিদ্যালয় প্রতি ১২ হাজার টাকা করে বরাদ্দ আসে। আয়কর ও ভ্যাট বাদ দিয়ে ১০ হাজার ৫০০ টাকা করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের কাছে দেওয়া হয়। প্রধান শিক্ষকেরা গত জুন মাসে ব্যাংক থেকে ওই টাকা উত্তোলন করেন।

শিক্ষকদের অভিযোগ, জুলাই মাসে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার কথা বলে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিকট ওই টাকা ফেরত নেন। পরে তা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া না দেওয়ায় অভিযোগ করেন শিক্ষকেরা। এছাড়াও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহানারা খাতুন যোগদানের পর থেকেই অফিস পরিচালনায় স্বেচ্ছাচারিতা, সরকারি বরাদ্দ, প্রেষণ, পরীক্ষা পরিচালনা ও বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও করেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ৯৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৮ থেকে ২০টিতে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। বাকি বিদ্যালয়গুলোতে সংযোগ নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষকেরা।

গাইবান্ধা ইউনিয়নের মরাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুন্নাহার বলেন, জুন মাসে ১০ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়েছিল। জুলাইয়ে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ সরকার রাজস্ব খাতে জমা দেওয়ার কথা বলে তার ক্লাস্টারের বিদ্যালয়গুলোর টাকা ফেরত নিয়েছেন।

পূর্ব কান্দারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমার বিদ্যালয়ে প্রতি মাসে প্রায় এক হাজার টাকা ইন্টারনেট বাবদ খরচ হয়। গত জুনে ইন্টারনেট খরচ হিসাবে ১০ হাজার ৫০০ টাকা পাওয়ার পর ১১ জুলাই সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা হারুন-অর-রশীদ ওই টাকা ফেরত নিয়েছেন।

বেলগাছা ঘোনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমীন ও ধনতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাইনুল হকও একই অভিযোগ করেন।

শিক্ষকেরা আরও জানান, উপজেলার ১৭৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৬টির জন্য ইন্টারনেট খাতে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমানে মাত্র ১৮ থেকে ২০টি বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত বেসরকারি সংস্থা (আইএসপি) সংযোগ দিতে দেরি করায় অনেক শিক্ষক নিজেদের খরচে ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন বলেও জানান তারা।

ইসলামপুর উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমাজ সভাপতি সৈয়দ মাসুদুর রহমান রাজা বলেন, ৯৬টি বিদ্যালয়ের জন্য ইন্টারনেট খাতে বরাদ্দ আয়কর ও ভ্যাট বাদ দিয়ে বিদ্যালয়গুলোকে ১০ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হলেও পরে রহস্যজনক ভাবে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে টাকা ফেরত নেয়া হয়।

সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা হারন-অর রশিদ বলেন, শিক্ষকদের কাছ থেকে তোলা টাকা ইন্টারনেট কোম্পানিকে দেওয়া হয়েছে।

এই বিষয়ে ইসলামপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহানারা খাতুন এই প্রতিবেদককে বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা। প্রতিটি বিদ্যালয়ের টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুদকে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করে কোন লাভ হবে না।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জামালপুর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. কামরুজ্জামান এই প্রতিবেদককে বলেন, শিক্ষকদের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।