জীবন অনিত্য, অনিশ্চিত—তবুও অত্যন্ত মূল্যবান। আর এই মূল্যবান জীবনকে অর্থবহ করে তোলার অন্যতম উপায় হলো মানবসেবা। চিকিৎসা পেশা এমনই একটি মহান পেশা, যেখানে মানবসেবাই প্রধান লক্ষ্য। আজকের তরুণ চিকিৎসকরাই আগামী দিনের বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের নেতৃত্ব দেবেন।
তরুণ চিকিৎসক ডা. জুনায়েদ বিন জাকির দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসক পরিবারের উত্তরসূরি। তার পরিবারের ইতিহাসের সঙ্গে বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবার ইতিহাস ওতোপ্রোতোভাবেই জড়িত। ডা. জুনায়েদের বাবা অধ্যাপক ডা. মো. জাকির হোসেন দেশের একজন খ্যাতিমান মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং হাইপারটেনসন এ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, রংপুর ও অধ্যাপক ডা. মো. জাকির হোসেন গণগ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তার সহোদর বড়ো বোন, আপন ফুফু-ফুপাসহ পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের মধ্যেও রয়েছেন একাধিক চিকিৎসক।
ডা. জুনায়েদের পিতামহ ডা. ওয়াছিম উদ্দিন আহমেদ ১৯৩৬ সালে এলএমএফ এবং ১৯৩৮ সালে এমসিপিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি নিজ এলাকা বগুড়ার ধুনট উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গোসাইবাড়ী বাজারে ইউসুফিয়া মেডিকেল স্টোর প্রতিষ্ঠা করেন, যা বর্তমানে ডা. ওয়াছিম-ওয়ালেদা চিকিৎসাকেন্দ্র নামে পরিচিত, সেখানে টানা অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছিলেন তিনি। জানা যায়, এই ডিসপেনসারিটি ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
পিতার সেই মানবসেবার ধারাবাহিকতা ধরে রেখে অধ্যাপক ডা. মো. জাকির হোসেন গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এই চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়মিত বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে এসেছেন।
ডা. জাকিরের একমাত্র পুত্র ডা. জুনায়েদ বিন জাকিরও পারিবারিক এই মহৎ ঐতিহ্য অনুসরণ করে চিকিৎসা পেশায় আত্মনিয়োগ করেছেন। পিতা, ফুফু-ফুপা ও পিতামহের মানবসেবামূলক আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ৩১ জুলাই ২০২৬ (শুক্রবার) সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ডা. ওয়াছিম-ওয়ালেদা চিকিৎসাকেন্দ্রে চল্লিশ জন রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছেন তিনি।
এর আগেও, ২৪ জুলাই ২০২৬ (শুক্রবার) রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার মর্ণেয়া ইউনিয়নের আনন্দবাজার মোফাজ্জল হোসেন নূরানী একাডেমি মাদরাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত একটি ফ্রি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল ক্যাম্পে তিনি চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ওই মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করে হাইপারটেনশন এ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, রংপুর। প্রায় চল্লিশ সদস্যের চিকিৎসক দলের অন্যতম সদস্য হিসেবে ডা. জুনায়েদ বিন জাকির নিজে উপস্থিত থেকে রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছেন।
নতুন প্রজন্মের এই প্রতিশ্রুতিশীল চিকিৎসকের প্রতি আমাদের প্রত্যাশা- তিনি যেন তার প্রতিটি কাজে আন্তরিকতা, একনিষ্ঠতা ও নৈতিকতার পরিচয় দেন। চিকিৎসা পেশার মূল লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ; তাই তার দ্বারা যেন কোনো মানুষের ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে তিনি সর্বদা সচেতন থাকবেন। কারণ, একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় ও সম্মান প্রতিষ্ঠিত হয় তাঁর কর্মের মাধ্যমে। নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনই একজন চিকিৎসকের সবচেয়ে বড় অর্জন।
দেশের সুস্থ, সচেতন ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে চিকিৎসকদের ভূমিকা অপরিসীম। একটি জেলার চিকিৎসকগণ সেই অঞ্চলের জনস্বাস্থ্যের প্রতিনিধি। মানবিক মূল্যবোধ, পেশাগত দক্ষতা ও সেবার আদর্শে উজ্জীবিত ডা. জুনায়েদের মতো তরুণ চিকিৎসকদের হাত ধরেই গড়ে উঠুক একটি সুস্থ, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ। আমরা নিরন্তরধারায় তরুণ চিকিৎসক ডা. জুনায়েদ বিন জাকিরকে অভিনন্দন ও অজস্র শুভকামনা জানাই।
লেখক : নজরুল গবেষক ও সাহিত্য-সমালোচক
শাহ্ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান : নজরুল গবেষক ও সাহিত্য-সমালোচক 













