দশ বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা ভবনেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের কার্যক্রম। ভবনের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল, খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা, বেরিয়ে এসেছে রড। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রারের অফিস ভবনটি যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে ঢালাইয়ের রড বের হয়ে গেছে। দেয়ালজুড়ে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। মেঝের ঢালাই উঠে গেছে অনেক স্থানে। বিদ্যুৎ লাইনও ঝুঁকিপূর্ণ। ভেঙে গেছে ভবনের দরজা-জানালা। বৃষ্টি হলে ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে। ফলে দলিলপত্র রক্ষায় টেবিলের উপর পলিথিন ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, ১৯৮৭ সালের দিকে ভবনটি উপজেলা ফৌজদারি ও দেওয়ানি আদালত হিসেবে নির্মিত হয়। পরে আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে এটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভবনটির অবস্থা অবনতির দিকে যায়। ২০১৬ সালে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।
প্রতিদিন জমি রেজিস্ট্রি ও দলিলসংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে তিন শতাধিক মানুষ এ কার্যালয়ে আসেন। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যেই প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হচ্ছে। তা ক্রমেই বাড়ছে। তবে নতুন ভবন নির্মাণ বা কার্যালয় স্থানান্তরের দাবি দীর্ঘদিনেও বাস্তবায়ন হয়নি।
দলিল লেখক আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রতিদিন জমি রেজিস্ট্রি ও দলিলসংক্রান্ত নানা কাজে এখানে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করে। কিন্তু এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি অফিস দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পরিচালিত হওয়া দুঃখজনক।
রেজিস্ট্রার অফিসের নকলনবিশ সাইফুল ইসলাম বলেন, সংস্কারের অভাবে ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তবু বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। মূল্যবান দলিলপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
সেবা গ্রহীতা ইউনুস আলী বলেন, সরকার যেখানে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পায়, সেখানে এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে অফিস পরিচালনা দুঃখজনক। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এখানে নারী ও বয়স্ক মানুষও আসেন, তাদের নিরাপত্তা কে নিশ্চিত করবে?
উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার আবু কালাম এ প্রতিবেদককে বলেন, পরিত্যক্ত এই ভবনে আমরা সাতজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছি। এখানে ৩৫ জন নকলনবিশ ও প্রায় ৯০ জন দলিল লেখক কাজ করেন। বিষয়টি জেলা রেজিস্ট্রারকে জানানো হয়েছে। পুরোনো ভবনটি সংস্কারের উপযোগী নয়। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ না হলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
খাদেমুল ইসলাম : নিজস্ব প্রতিবেদক, মাদারগঞ্জ, বাংলারচিঠিডটকম 


















