ঢাকা ১১:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
একটি মহল রাজনীতির নামে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, সতর্ক থাকুন : প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের জন্য আমি এ পর্যন্ত এসেছি : ড. নিলোফার এমপি জাতীয় ঐকমত্য ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে চলচ্চিত্র শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নেওয়া হবে : তথ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেবেন না : পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে মির্জা ফখরুল ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে হাসি ফুটলো ১২৯৫ পরিবারে কৃষিপণ্য উৎপাদন বিপণনে প্ল্যাটফর্ম গঠন পরিচালনা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত ১৭ মে বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস : সচেতনতা ও প্রতিরোধ এবং একজন ডা. জাকির হোসেন মাদারগঞ্জে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ১১০ কোটি টাকার গবাদিপশু  সরিষাবাড়ীতে চড়ক পূজা, জমজমাট মেলা, উপচে পড়া ভিড় নবাঙ্কুরের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত
চাহিদার চেয়ে পশু বেশি, দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা 

মাদারগঞ্জে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ১১০ কোটি টাকার গবাদিপশু 

মাদারগঞ্জ : কোরবানির জন্য প্রস্তুত গবাদি পশু। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম 

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে বাণিজ্যিক ও পারিবারিকভাবে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার পশু গবাদি প্রস্তুত করা হয়েছে। সাড়ে চার শতাধিক বাণিজ্যিক ও তিন হাজার ১১৯টি প্রান্তিক খামারে কোরবানির এসব পশু লালন-পালন করছেন খামারিরা।

চলতি বছর উপজেলায় রেকর্ডসংখ্যক পশু কোরবানির জন্য মোটাতাজা করা হয়েছে। আর কিছুদিন পরই শুরু হবে এসব কোরবানির পশুর কেনাবেচা। সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন খামারি, ব্যাপারী ও সম্ভাব্য ক্রেতারা। তবে গবাদিপশুর খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় কোরবানির পশুর উৎপাদন খরচও বেড়েছে।

এতে পশুর দাম বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও বিক্রি ও ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন স্থানীয় খামারিরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি বছর উপজেলায় গবাদিপশু কেনাবেচায় লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১১০ কোটি টাকা। তবে চাহিদার তুলনায় পশুর সংখ্যা বেশি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত লাভ কতটা হবে, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে খামারিদের মধ্যে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর মাদারগঞ্জে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১০ হাজার ১৫০টি। বিপরীতে খামার ও পারিবারিকভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে ১৭ হাজার ৫০০টি পশু। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত রয়েছে সাত হাজার ৩৫০টি পশু। এর মধ্যে ছয় হাজার ৩৬৬টি গরু, ১৫৪টি মহিষ, নয় হাজার ২১৪টি ছাগল, এক হাজার ৭২০টি ভেড়া এবং ৪৬টি অন্যান্য পশু রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে উপজেলার এসব পশু দেশের বিভিন্ন এলাকার চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গরুর খামারি আব্দুর রহমান জানান, তিনি এবার দেশি জাতের ২৫টি গরু লালন-পালন করছেন। গরুকে খাবার হিসেবে কাঁচা ঘাস, খৈল, ভুট্টা এবং ধানের গুড়াসহ প্রাকৃতিক খাবার খাওয়াচ্ছেন। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় পশুখাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় গরু পালনে খরচ বেড়েছে তার। কয়েকদিন পরই বিক্রির জন্য এসব গরু বাজারে তোলা হবে বলে জানান তিনি।

বালিজুড়ী ইউনিয়নের নাংলা এলাকার সিরাজুল ইসলাম বলেন, কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য পাঁচটি দেশি গরু প্রস্তুত করছি। কয়েক বছর আগে বিদেশি জাতের গরু পালন করে লোকসান হয়েছিল। সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করছি। কিন্তু গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবারও ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

একই এলাকার মিজানুর রহমান বলেন, তিনটি বিদেশি জাতের গরু পালন করছি। আশা করছি ভাল দামে বিক্রি করতে পারব। তবে গরু চুরির আতঙ্কে রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছি না।

ছাগল খামারি তাজুল ইসলাম বলেন, গত বছর ছাগল বিক্রি করে ভাল দাম পেয়েছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার ৫০টি ছাগল পালন করছি। বাজার পরিস্থিতি ভাল থাকলে এবারও ভাল দাম পাওয়ার আশা করছি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার আতিকুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, খামারিদের গবাদিপশুকে দানাদার খাদ্য ও কাঁচা ঘাস খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভিটামিন খাওয়াতে বলা হয়েছে। নিষিদ্ধ রাসায়নিক ও হরমোন ব্যবহার না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক উপায়ে মানসম্মত মাংস উৎপাদনে খামারিদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, চলতি বছর মাদারগঞ্জে কোরবানির পশুর চাহিদা ১০ হাজার ১৫০টি। বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার পশু। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে উপজেলার এসব পশু দেশের বিভিন্ন এলাকার চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

একটি মহল রাজনীতির নামে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, সতর্ক থাকুন : প্রধানমন্ত্রী

চাহিদার চেয়ে পশু বেশি, দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা 

মাদারগঞ্জে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ১১০ কোটি টাকার গবাদিপশু 

আপডেট সময় ১১:৩১:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে বাণিজ্যিক ও পারিবারিকভাবে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার পশু গবাদি প্রস্তুত করা হয়েছে। সাড়ে চার শতাধিক বাণিজ্যিক ও তিন হাজার ১১৯টি প্রান্তিক খামারে কোরবানির এসব পশু লালন-পালন করছেন খামারিরা।

চলতি বছর উপজেলায় রেকর্ডসংখ্যক পশু কোরবানির জন্য মোটাতাজা করা হয়েছে। আর কিছুদিন পরই শুরু হবে এসব কোরবানির পশুর কেনাবেচা। সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন খামারি, ব্যাপারী ও সম্ভাব্য ক্রেতারা। তবে গবাদিপশুর খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় কোরবানির পশুর উৎপাদন খরচও বেড়েছে।

এতে পশুর দাম বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও বিক্রি ও ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন স্থানীয় খামারিরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি বছর উপজেলায় গবাদিপশু কেনাবেচায় লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১১০ কোটি টাকা। তবে চাহিদার তুলনায় পশুর সংখ্যা বেশি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত লাভ কতটা হবে, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে খামারিদের মধ্যে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর মাদারগঞ্জে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১০ হাজার ১৫০টি। বিপরীতে খামার ও পারিবারিকভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে ১৭ হাজার ৫০০টি পশু। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত রয়েছে সাত হাজার ৩৫০টি পশু। এর মধ্যে ছয় হাজার ৩৬৬টি গরু, ১৫৪টি মহিষ, নয় হাজার ২১৪টি ছাগল, এক হাজার ৭২০টি ভেড়া এবং ৪৬টি অন্যান্য পশু রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে উপজেলার এসব পশু দেশের বিভিন্ন এলাকার চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গরুর খামারি আব্দুর রহমান জানান, তিনি এবার দেশি জাতের ২৫টি গরু লালন-পালন করছেন। গরুকে খাবার হিসেবে কাঁচা ঘাস, খৈল, ভুট্টা এবং ধানের গুড়াসহ প্রাকৃতিক খাবার খাওয়াচ্ছেন। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় পশুখাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় গরু পালনে খরচ বেড়েছে তার। কয়েকদিন পরই বিক্রির জন্য এসব গরু বাজারে তোলা হবে বলে জানান তিনি।

বালিজুড়ী ইউনিয়নের নাংলা এলাকার সিরাজুল ইসলাম বলেন, কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য পাঁচটি দেশি গরু প্রস্তুত করছি। কয়েক বছর আগে বিদেশি জাতের গরু পালন করে লোকসান হয়েছিল। সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করছি। কিন্তু গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবারও ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

একই এলাকার মিজানুর রহমান বলেন, তিনটি বিদেশি জাতের গরু পালন করছি। আশা করছি ভাল দামে বিক্রি করতে পারব। তবে গরু চুরির আতঙ্কে রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছি না।

ছাগল খামারি তাজুল ইসলাম বলেন, গত বছর ছাগল বিক্রি করে ভাল দাম পেয়েছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার ৫০টি ছাগল পালন করছি। বাজার পরিস্থিতি ভাল থাকলে এবারও ভাল দাম পাওয়ার আশা করছি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার আতিকুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, খামারিদের গবাদিপশুকে দানাদার খাদ্য ও কাঁচা ঘাস খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভিটামিন খাওয়াতে বলা হয়েছে। নিষিদ্ধ রাসায়নিক ও হরমোন ব্যবহার না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক উপায়ে মানসম্মত মাংস উৎপাদনে খামারিদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, চলতি বছর মাদারগঞ্জে কোরবানির পশুর চাহিদা ১০ হাজার ১৫০টি। বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার পশু। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে উপজেলার এসব পশু দেশের বিভিন্ন এলাকার চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।