ঢাকা ১০:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিষ্টি আলুর ভাল ফলনে মাদারগঞ্জের কৃষকের মুখে মিষ্টি হাসি

মাদারগঞ্জ : সিধুলী ইউনিয়নের মুজাটা গ্রামের কৃষক তাহেরুল ইসলাম নিজেদের ক্ষেত থেকে মিষ্টি আলু তুলছেন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে মিষ্টি আলুর আশাতীত ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, কম খরচে অধিক ফলন এবং বাজারে ভাল দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে মিষ্টি হাসি। ধানের তুলনায় তিনগুণ বেশি ফলন ও লাভজনক হওয়ায় মিষ্টি আলু চাষে ঝুঁকছেন অনেক কৃষক।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩৬৫ হেক্টর জমিতে মিষ্টি আলুর আবাদ হয়েছে। গত বছর এ আবাদ ছিল ১৯০ হেক্টর। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ জমিতে চাষ বেড়েছে। এবার বারি মিষ্টি আলু-৮, বারি মিষ্টি আলু-৪ ও স্থানীয় উন্নত জাতের চাষ হয়েছে বেশি। কৃষকদের উৎসাহ দিতে ১২ জন কৃষককে বারি-৮ জাতের প্রদর্শনী দেওয়া হয়।

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের পাকরুল, হিদাগাড়ী, নব্যচর, কড়ইচড়া ইউনিয়নের নলছিয়া, বাগলেরগড়, জটিয়ারপাড়া, বালিজুড়ী ইউনিয়নের চরশুভগাছা, মির্জাপুর, সুখনগরী, নাংলা, জোড়খালী ইউনিয়নের হাটমগুড়া, খামারমাগুড়া, ফুলজোড় ও সিধুলী ইউনিয়নের মদনগোপাল, মুজাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টি আলুর ব্যাপক চাষ হয়েছে। বর্তমানে কৃষকেরা জমি থেকে আলু তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

উপজেলার সিধুলী ইউনিয়নের মুজাটা গ্রামের কৃষক তাহেরুল ইসলাম বলেন, তিন বিঘা জমিতে মিষ্টি আলুর চাষ করেছি। প্রতি বিঘা জমিতে ৭০ থেকে ৮০ মণ পর্যন্ত মিষ্টি আলুর ফলন হয়েছে। বিঘা প্রতি চাষের জন্য খরচ পড়েছে ৩০-৩৫ হাজার টাকা।

মাদারগঞ্জ : সিধুলী ইউনিয়নের মুজাটা গ্রামে এবার ব্যাপক মিষ্টি আলু উৎপাদিত হয়েছে। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

তিনি আরও বলেন, ধান চাষে যেখানে খরচ বেশি ও লাভ অনিশ্চিত, সেখানে মিষ্টি আলুতে ঝুঁকি তুলনামূলক কম। স্থানীয় বাজারে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি মিষ্টি আলু ২৫-৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারেও সন্তোষজনক দাম মিলছে। ফলে উৎপাদন খরচ মিটিয়ে কৃষকেরা লাভের মুখ দেখছেন।

একই ইউনিয়নের মদনগোপাল এলাকার কৃষক হাবিবুর রহমান হবি বলেন, বাজারে মিষ্টি আলুর ভাল চাহিদা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা সরাসরি খেত থেকেই আলু সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে পরিবহন বা বাজারজাতকরণ নিয়ে আলাদা ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে না। তিনি বলেন, এখন বাজারে আলুর টান আছে। তাই আমরা ভাল দামেই মিষ্টি আলু বিক্রি করতে পারছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাবিবুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মিষ্টি আলুর ফলন ভাল হয়েছে। আমরা নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছি। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ও বাজারে চাহিদা থাকায় মিষ্টি আলু এখন একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চলতি মৌসুমে মাদারগঞ্জ উপজেলায় প্রায় নয় হাজার ২০০ মেট্রিক টন মিষ্টি আলু উৎপাদন হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব মিষ্টি আলু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন এবং আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

মিষ্টি আলুর ভাল ফলনে মাদারগঞ্জের কৃষকের মুখে মিষ্টি হাসি

আপডেট সময় ১০:২০:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে মিষ্টি আলুর আশাতীত ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, কম খরচে অধিক ফলন এবং বাজারে ভাল দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে মিষ্টি হাসি। ধানের তুলনায় তিনগুণ বেশি ফলন ও লাভজনক হওয়ায় মিষ্টি আলু চাষে ঝুঁকছেন অনেক কৃষক।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩৬৫ হেক্টর জমিতে মিষ্টি আলুর আবাদ হয়েছে। গত বছর এ আবাদ ছিল ১৯০ হেক্টর। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ জমিতে চাষ বেড়েছে। এবার বারি মিষ্টি আলু-৮, বারি মিষ্টি আলু-৪ ও স্থানীয় উন্নত জাতের চাষ হয়েছে বেশি। কৃষকদের উৎসাহ দিতে ১২ জন কৃষককে বারি-৮ জাতের প্রদর্শনী দেওয়া হয়।

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের পাকরুল, হিদাগাড়ী, নব্যচর, কড়ইচড়া ইউনিয়নের নলছিয়া, বাগলেরগড়, জটিয়ারপাড়া, বালিজুড়ী ইউনিয়নের চরশুভগাছা, মির্জাপুর, সুখনগরী, নাংলা, জোড়খালী ইউনিয়নের হাটমগুড়া, খামারমাগুড়া, ফুলজোড় ও সিধুলী ইউনিয়নের মদনগোপাল, মুজাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টি আলুর ব্যাপক চাষ হয়েছে। বর্তমানে কৃষকেরা জমি থেকে আলু তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

উপজেলার সিধুলী ইউনিয়নের মুজাটা গ্রামের কৃষক তাহেরুল ইসলাম বলেন, তিন বিঘা জমিতে মিষ্টি আলুর চাষ করেছি। প্রতি বিঘা জমিতে ৭০ থেকে ৮০ মণ পর্যন্ত মিষ্টি আলুর ফলন হয়েছে। বিঘা প্রতি চাষের জন্য খরচ পড়েছে ৩০-৩৫ হাজার টাকা।

মাদারগঞ্জ : সিধুলী ইউনিয়নের মুজাটা গ্রামে এবার ব্যাপক মিষ্টি আলু উৎপাদিত হয়েছে। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

তিনি আরও বলেন, ধান চাষে যেখানে খরচ বেশি ও লাভ অনিশ্চিত, সেখানে মিষ্টি আলুতে ঝুঁকি তুলনামূলক কম। স্থানীয় বাজারে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি মিষ্টি আলু ২৫-৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারেও সন্তোষজনক দাম মিলছে। ফলে উৎপাদন খরচ মিটিয়ে কৃষকেরা লাভের মুখ দেখছেন।

একই ইউনিয়নের মদনগোপাল এলাকার কৃষক হাবিবুর রহমান হবি বলেন, বাজারে মিষ্টি আলুর ভাল চাহিদা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা সরাসরি খেত থেকেই আলু সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে পরিবহন বা বাজারজাতকরণ নিয়ে আলাদা ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে না। তিনি বলেন, এখন বাজারে আলুর টান আছে। তাই আমরা ভাল দামেই মিষ্টি আলু বিক্রি করতে পারছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাবিবুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মিষ্টি আলুর ফলন ভাল হয়েছে। আমরা নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছি। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ও বাজারে চাহিদা থাকায় মিষ্টি আলু এখন একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চলতি মৌসুমে মাদারগঞ্জ উপজেলায় প্রায় নয় হাজার ২০০ মেট্রিক টন মিষ্টি আলু উৎপাদন হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব মিষ্টি আলু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন এবং আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।