ঢাকা ০৫:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচলের আশ্বাস দিল ইরান জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, ‘প্যানিক বায়িং’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার সাংবাদিক প্রবেশে কেন্দ্র সচিবের নিষেধাজ্ঞা মাদারগঞ্জে যমুনার বালুর চরে ফিরেছে সবুজ প্রাণ মাদকাসক্ত ছেলেকে ধরিয়ে দিলেন মা, হল ছয় মাসের জেল জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ বাস্তবায়ন করা হবে : প্রধানমন্ত্রী দেশের সরকারি গুদামে ১৭.৭১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুদ রয়েছে : খাদ্যমন্ত্রী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তৈরি করতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া : তথ্যমন্ত্রী অনূর্ধ্ব-১৮ মহিলা জোনাল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি উন্মোচন

ঈদে ভিজিএফ সহায়তা বঞ্চিত হচ্ছেন ইসলামপুরের ৩৩ হাজার অসচ্ছল পরিবার

বাংলাদেশে দুস্থ ও অতিদরিদ্র পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভিজিএফ কর্মসূচি পরিচালিত হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকার দুস্থ, অতিদরিদ্র, বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, প্রতিবন্ধী ও কর্মহীন পরিবারগুলোকে জরুরি খাদ্য সহায়তা প্রদান করে খাদ্যাভাব পরিস্থিতি মোকাবেলা করে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় যদি তা অপ্রতুল হয় তার প্রভাব পড়ে বাস্তুহারা মানুষদের মাঝেই।

বন্যা ও নদীভাঙনের সাথে লড়াই করে প্রতি নিয়তই পথ চলতে হয় যমুনা নদী ও ব্রহ্মপুত্রবেষ্টিত জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার মানুষদের। দরিদ্রতম অন্যতম উপজেলা ইসলামপুর। ঈদের আগে ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা তাদের বড় ভরসা। কিন্তু আসন্ন ঈদুল ফিতরে সেই সহায়তার বরাদ্দ নেমে এসেছে চার ভাগের এক ভাগে। যা নিয়ে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলার সর্বত্র।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে প্রতি বছর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় দুস্থ, অতিদরিদ্র, বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, প্রতিবন্ধী ও কর্মহীন পরিবারগুলোকে বিনামূল্যে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। গত বছর ঈদুল আজহায় ইসলামপুরে ৪৬ দশমিক ৬১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ ছিল, যা ১২টি ইউনিয়নের ৪৬ হাজার ৬১০টি পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। আসন্ন ঈদুল ফিতরে বরাদ্দ এসেছে মাত্র ১৩৮ দশমিক ৩৪০ মেট্রিক টন। যা বরাদ্দ সর্বোচ্চ ১৩ হাজার ৮৩৪টি পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হবে।

ত্রাণ শাখা সূত্র জানায়, জনসংখ্যা, দরিদ্রতার হার ও দুর্যোগ ঝুঁকি বিবেচনায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। ঈদ, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়সহ দুর্যোগ পরিস্থিতি বিবেচনায় ভিজিএফ বরাদ্দ দিয়ে থাকে সরকার। এবার বরাদ্দ কম হওয়ায় সরকারের খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সহায়তা বঞ্চিত হচ্ছেন ৩২ হাজার ২২৭টি অসহায় ও দরিদ্র পরিবার।

উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৮২ হাজার ১০৩ জন। উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের তথ্য অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা প্রায় তিন লাখ। বরাদ্দ পত্রে জনসংখ্যার ভিত্তিতে হিসাব দেখানো হলেও স্থানীয়দের প্রশ্ন, গত বছর যেখানে ৪৬ হাজারের বেশি কার্ড ছিল, এ বছর তা ১৩ হাজারে কোন যুক্তিতে নেমে এল?

গাইবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাকছুদুর রহমান আনছারী এ প্রতিবেদককে বলেন, গত বছর আমার ইউনিয়নে পাঁচ হাজার ৯৩টি কার্ড ছিল। এবার চারভাগের একভাগ কার্ড দিয়ে কি হবে। হতদরিদ্রদের স্বার্থে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দ্রত ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

চিনাডুলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম এ প্রতিবেদককে বলেন, আমার ইউনিয়নটি যমুনা নদীর তীরবর্তী ইউনিয়ন। এখানের মানুষ দরিদ্রের সীমার নিচে বাস করে। অধিকাংশ ওয়ার্ডই যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। প্রায় ২৫ হাজার মানুষ বসত ভিটা হারা। গত বছর চার হাজার ৩১৭টি কার্ড ছিল। এবার মাত্র এক হাজার ২৯৭টি। এত কম কার্ড দিয়ে কি করব। অসহায় মানুষগুলোর ঈদটা মাটি হয়ে যাবে।

বেলগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক এ প্রতিবেদককে বলেন, গত বছর তিন হাজার ৪৩৭টি কার্ড ছিল বরাদ্দ ছিল। এবার পেয়েছি মাত্র এক হাজার ৩২টি। প্রায় ৩০ হাজার যমুনা নদীর ভাঙন অসহায় মানুষ আমার ইউনিয়নের। কি করব বুজতে পারছি না।

কুলকান্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান আনিছ এ প্রতিবেদককে জানান, আমার ইউনিয়নের ৯০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র। গত বছর দুই হাজার ৬১০টি কার্ড ছিল। এবার এসেছে পাঁচভাগের একভাগ।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোছা. নূর-এ শেফা এ প্রতিবেদককে বলেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৩ হাজার ৮৩৪টি পরিবারের জন্য ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ হয়েছে। এটা উপজেলার জনসংখ্যা ও চাহিদার তুলনায় কম। কেন কম বরাদ্দ এসেচে আপাতত বলতে পারছি না।

স্থানীয় সংসদ সদস্য এ. ই. সুলতান মাহমুদ বাবু এ প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টি মাত্রই জানতে পারলাম। হতদরিদ্র মানুষদের সমস্যা সমাধান করাই এই সরকারের কাজ। দ্রুতত এর সমাধান করার চেষ্টা করব।

জনপ্রিয় সংবাদ

সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী

ঈদে ভিজিএফ সহায়তা বঞ্চিত হচ্ছেন ইসলামপুরের ৩৩ হাজার অসচ্ছল পরিবার

আপডেট সময় ১০:০২:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে দুস্থ ও অতিদরিদ্র পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভিজিএফ কর্মসূচি পরিচালিত হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকার দুস্থ, অতিদরিদ্র, বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, প্রতিবন্ধী ও কর্মহীন পরিবারগুলোকে জরুরি খাদ্য সহায়তা প্রদান করে খাদ্যাভাব পরিস্থিতি মোকাবেলা করে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় যদি তা অপ্রতুল হয় তার প্রভাব পড়ে বাস্তুহারা মানুষদের মাঝেই।

বন্যা ও নদীভাঙনের সাথে লড়াই করে প্রতি নিয়তই পথ চলতে হয় যমুনা নদী ও ব্রহ্মপুত্রবেষ্টিত জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার মানুষদের। দরিদ্রতম অন্যতম উপজেলা ইসলামপুর। ঈদের আগে ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা তাদের বড় ভরসা। কিন্তু আসন্ন ঈদুল ফিতরে সেই সহায়তার বরাদ্দ নেমে এসেছে চার ভাগের এক ভাগে। যা নিয়ে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলার সর্বত্র।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে প্রতি বছর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় দুস্থ, অতিদরিদ্র, বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, প্রতিবন্ধী ও কর্মহীন পরিবারগুলোকে বিনামূল্যে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। গত বছর ঈদুল আজহায় ইসলামপুরে ৪৬ দশমিক ৬১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ ছিল, যা ১২টি ইউনিয়নের ৪৬ হাজার ৬১০টি পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। আসন্ন ঈদুল ফিতরে বরাদ্দ এসেছে মাত্র ১৩৮ দশমিক ৩৪০ মেট্রিক টন। যা বরাদ্দ সর্বোচ্চ ১৩ হাজার ৮৩৪টি পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হবে।

ত্রাণ শাখা সূত্র জানায়, জনসংখ্যা, দরিদ্রতার হার ও দুর্যোগ ঝুঁকি বিবেচনায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। ঈদ, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়সহ দুর্যোগ পরিস্থিতি বিবেচনায় ভিজিএফ বরাদ্দ দিয়ে থাকে সরকার। এবার বরাদ্দ কম হওয়ায় সরকারের খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সহায়তা বঞ্চিত হচ্ছেন ৩২ হাজার ২২৭টি অসহায় ও দরিদ্র পরিবার।

উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৮২ হাজার ১০৩ জন। উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের তথ্য অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা প্রায় তিন লাখ। বরাদ্দ পত্রে জনসংখ্যার ভিত্তিতে হিসাব দেখানো হলেও স্থানীয়দের প্রশ্ন, গত বছর যেখানে ৪৬ হাজারের বেশি কার্ড ছিল, এ বছর তা ১৩ হাজারে কোন যুক্তিতে নেমে এল?

গাইবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাকছুদুর রহমান আনছারী এ প্রতিবেদককে বলেন, গত বছর আমার ইউনিয়নে পাঁচ হাজার ৯৩টি কার্ড ছিল। এবার চারভাগের একভাগ কার্ড দিয়ে কি হবে। হতদরিদ্রদের স্বার্থে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দ্রত ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

চিনাডুলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম এ প্রতিবেদককে বলেন, আমার ইউনিয়নটি যমুনা নদীর তীরবর্তী ইউনিয়ন। এখানের মানুষ দরিদ্রের সীমার নিচে বাস করে। অধিকাংশ ওয়ার্ডই যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। প্রায় ২৫ হাজার মানুষ বসত ভিটা হারা। গত বছর চার হাজার ৩১৭টি কার্ড ছিল। এবার মাত্র এক হাজার ২৯৭টি। এত কম কার্ড দিয়ে কি করব। অসহায় মানুষগুলোর ঈদটা মাটি হয়ে যাবে।

বেলগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক এ প্রতিবেদককে বলেন, গত বছর তিন হাজার ৪৩৭টি কার্ড ছিল বরাদ্দ ছিল। এবার পেয়েছি মাত্র এক হাজার ৩২টি। প্রায় ৩০ হাজার যমুনা নদীর ভাঙন অসহায় মানুষ আমার ইউনিয়নের। কি করব বুজতে পারছি না।

কুলকান্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান আনিছ এ প্রতিবেদককে জানান, আমার ইউনিয়নের ৯০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র। গত বছর দুই হাজার ৬১০টি কার্ড ছিল। এবার এসেছে পাঁচভাগের একভাগ।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোছা. নূর-এ শেফা এ প্রতিবেদককে বলেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৩ হাজার ৮৩৪টি পরিবারের জন্য ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ হয়েছে। এটা উপজেলার জনসংখ্যা ও চাহিদার তুলনায় কম। কেন কম বরাদ্দ এসেচে আপাতত বলতে পারছি না।

স্থানীয় সংসদ সদস্য এ. ই. সুলতান মাহমুদ বাবু এ প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টি মাত্রই জানতে পারলাম। হতদরিদ্র মানুষদের সমস্যা সমাধান করাই এই সরকারের কাজ। দ্রুতত এর সমাধান করার চেষ্টা করব।