ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-৩ (মাদারগঞ্জ-মেলান্দহ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়জন প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীসহ চার প্রার্থী কোটিপতি। পেশায় ব্যবসায়ী এই চার প্রার্থীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। তারা হলেন- বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোহাম্মদ দৌলতুজ্জামান আনছারী, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদিকুর রহমান সিদ্দিকী শুভ ও ফারজানা ফরিদ। বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রীও কোটি। তবে বিএনপির প্রার্থীর চেয়ে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর সম্পদ কয়েকগুণ বেশি।
এদিকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মুজিবুর রহমান আজাদীরও স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে ৫২ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে।
অপরদিকে, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মীর সামসুল আলম লিপটন পেশায় ব্যবসায়ী হলেও তার কোন নগদ অর্থ কিংবা স্থাবর সম্পদ নেই। একইভাবে গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী ডাক্তার ফিদেল নঈমের নেই নগদ টাকা ও স্থাবর সম্পদ। এ ছাড়া এ আসনে গণঅধিকার পরিষদের লিটন মিয়া কাছে নগদ টাকা থাকলেও তার কোনো স্থাবর সম্পত্তি নেই। এদিকে, বার্ষিক আয় উল্লেখ করেনি স্বতন্ত্র প্রার্থী শিবলুল বারী রাজু।
নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সহ-সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে দুই কোটি ৪০ লাখ নয় হাজার ৯৫৪ টাকার (অর্জনকালীন মূল) সম্পদ রয়েছে। তার ঋণ রয়েছে ১৫ লাখ টাকা। তার ব্যবসায়ী স্ত্রীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে চার কোটি দুই লাখ ৫৪ হাজার ৮৪৩ টাকার (অর্জনকালীন মূল) সম্পদ রয়েছে। বাবুলের চেয়ে তার স্ত্রী সম্পদে এগিয়ে রয়েছেন।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের ব্যবসা, শেয়ার, বন্ড-সঞ্চয়পত্র-ব্যাংক আমানত ও অন্যান্য উৎস থেকে বার্ষিক আয় ৩২ লাখ ১৬ হাজার ৮৫ টাকা। তার হাতে নগদ রয়েছে চার লাখ পাঁচ হাজার টাকা। ব্যাংকে বিদেশি মুদ্রা রয়েছে ১৪ হাজার ৫৬২ মার্কিন ডলার। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ১০টি একাউন্টে জমা আছে এক কোটি ৪১ লাখ এক হাজার ৪৬ টাকা। বন্ড, ঋণপত্র স্টক একচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় কোম্পানির শেয়ার, অংশীদারী ফার্মের ব্যাংক স্থিতির অংশ (৫০%) জিলানী প্রিন্টিং এন্ড এক্সোসরিজে টাকার পরিমাণ ১১ লাখ ৪৭ হাজার ৮০১ টাকা এবং তামান্না ফার্মেসীর টাকার পরিমাণ পাঁচ লাখ ১৫ হাজার ৯৭২ টাকা। ডিপোজিট, ডাক সঞ্চয়পত্র ও ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ রয়েছে ৩০ লাখ টাকা।
হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, তার অংশীদার ফার্মের নামে রয়েছে সাড়ে ২৬ লাখ টাকার গাড়ি। আছে ৫০ ভরি স্বর্ণলংকার, ৫০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য ও এক লাখ টাকার আসবাবপত্র। কৃষি জমি রয়েছে ৯৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ, এক শতাংশ অকৃষি জমি ও ৫০০ বর্গফুটের দালান। তিনি স্ত্রীর কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন ১৫ লাখ টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তার আয়কর রিটার্নে দেখানো সম্পদের পরিমাণ দুই কোটি ১২ লাখ চার হাজার ১৯৫ টাকা। তার নামে দায়ের করা তিনটি মামলার কার্যক্রম হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত রয়েছে। এছাড়া চারটি মামলায় অব্যাহতি এবং একটি মামলায় খালাসপ্রাপ্ত হয়েছেন। হলফনামায় বাবুল শিক্ষাগত যোগ্যতা এম এস এস উল্লেখ করেছেন।
হলফনামার তথ্য মতে, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের স্ত্রীর বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট-অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তির ভাড়া থেকে বার্ষিক আয় দুই লাখ ৪৩ হাজার টাকা। তার হাতে নগদ রয়েছে দুই লাখ ১৭ হাজার ৫০ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ছয়টি একাউন্টে জমা আছে এক কোটি ৩৫ লাখ ৪১ হাজার ৩১৩ টাকা। বন্ড, ঋণপত্র স্টক একচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় কোম্পানির শেয়ার, অংশীদারী ফার্মের ব্যাংক স্থিতির অংশ (৫০%) জিলানী প্রিন্টিং এন্ড এক্সোসরিজে টাকার পরিমাণ ১১ লাখ ৪৭ হাজার ৮০১ টাকা এবং তামান্না ফার্মেসীর টাকার পরিমাণ ১৭ লাখ ৭৮ হাজার ৯৭৭ টাকা। ডিপোজিট, ডাক সঞ্চয়পত্র ও ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ রয়েছে ৩০ লাখ টাকা। এছাড়ও ঢাকা রয়েছে দুইটি ফ্ল্যাট, ৮০ ভরি স্বর্ণলংকার, ৫০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য ও ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র। তার মেয়ের নামে ঢাকায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট আছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তার আয়কর রিটার্নে দেখানো সম্পদের পরিমাণ তিন কোটি ৭৫ লাখ ৮৯ হাজার ৯১৩ টাকা।
এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোহাম্মদ দৌলতুজ্জামান আনছারী। তিনি এর আগে বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ছিলেন। সম্প্রতি তিনি ওই সংগঠন থেকে পদত্যাগ করে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগ দেন। আনছারীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে সাত কোটি ৭৩ লাখ ৫৯ হাজার ৮৬৩ টাকা (বর্তমান মূল্য)। তার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা স্ত্রীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে ছয় কোটি ১০ লাখ ৫৭ হাজার ১০৬ টাকার (বর্তমান মূল্য) সম্পদ রয়েছে।
হলফনামা অনুযায়ী, দৌলতুজ্জামান আনছারীর কৃষিখাত, বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট-অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি থেকে ভাড়া ও ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় আট লাখ ৮২ হাজার ৬০৩ টাকা। তার হাতে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ এক কোটি ৬৯ লাখ ২০ হাজার ১৫৫ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে আট লাখ ৫৩ হাজার পাঁচ টাকা এবং বন্ড, ঋণপত্র স্টক একচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় কোম্পানির শেয়ার রয়েছে ১০ লাখ টাকা।
হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তার মালিকানায় রয়েছে ৪৪ লাখ টাকা মূল্যের গাড়ি, দুই লাখ ৫০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য এবং সাড়ে তিন লাখ টাকার আসবাবপত্র। তার নামে রয়েছে ৭৬৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ কৃষিজমি ও ২৩ শতাংশ অকৃষিজমি। এ ছাড়া জামালপুরে যৌথ মালিকানায় বাড়ি ও জমি রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তার আয়কর রিটার্নে প্রদর্শিত সম্পদের পরিমাণ তিন কোটি সাত লাখ ৯১ হাজার ৭৯৫ টাকা। হলফনামায় দৌলতুজ্জমান আনছারী শিক্ষাগত যোগ্যতা ব্যাচেলর অব সাইন্স ইন টেক্সটাইল টেকনোলজি উল্লেখ করেছেন।
হলফনামা তথ্য অনুযায়ী, দৌলতুজ্জামান আনছারীর স্ত্রীর বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ৩২৯ টাকা। তার হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ৩৯ লাখ ১৯ হাজার ৪৫২ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ২৬ লাখ ৬২ হাজার ৬৫৪ টাকা এবং সঞ্চয়পত্র, স্থায়ী আমানত, ডাক সঞ্চয়পত্র ও ক্রিপ্টোকারেন্সিতে ডিপিএস বিনিয়োগ রয়েছে ৩০ লাখ টাকা। এছাড়া তার নামে ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট, এক লাখ টাকার স্বর্ণালংকার, দুই লাখ ২৫ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য ও আড়াই লাখ টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। তার ২০ লাখ ৬৩ টাকা ঋণ রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জমা দেওয়া আয়কর রিটার্নে প্রদর্শিত সম্পদের পরিমাণ এক কোটি দুই লাখ ১৩ হাজার ৭৩ টাকা।
জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী দলটির জেলা কর্মপরিষদ ও দাওয়াহ বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা মুজিবুর রহমান আজাদীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে ৫২ লাখ ১০ হাজার টাকার (বর্তমান মূল) সম্পদ রয়েছে।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, আজাদীর শিক্ষকতা ও অন্যান্য উৎস থেকে বার্ষিক আয় ১৩ লাখ ৩০ হাজার ৪৮২ টাকা। তার হাতে নগদ রয়েছে চার লাখ পাঁচ হাজার ২৪১টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জমা আছে দুই হাজার ২৬ টাকা। আছে ৪১ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য ও দেড় লাখ টাকার আসবাবপত্র। কৃষি জমি রয়েছে ৬০ শতাংশ, সাত শতাংশ অকৃষি জমি ও নির্মাণাধীন তিনতলা ভবন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তার আয়কর রিটার্নে দেখানো সম্পদের পরিমাণ ১০ লাখ ৪১ হাজার ৮৪৭ টাকা। হলফনামায় আজাদী শিক্ষাগত যোগ্যতা কামিল উল্লেখ করেছেন। আজাদীর গৃহিনী স্ত্রীর বার্ষিক কোন আয় ও হাতে নগদ টাকা নেই। তবে তার ২০ ভরি স্বর্ণলংকার ও ৬২ শতাংশ কৃষি জমি রয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী) মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সাদিকুর রহমান সিদ্দিকী শুভর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে দুই কোটি ৮৩ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭ টাকার (বর্তমান মূল) সম্পদ রয়েছে। তার গৃহিনী স্ত্রীর আছে উপহারের ২০ ভরি স্বর্ণলংকার।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, শুভ ব্যবসা ও এ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া থেকে বার্ষিক আয় ২১ লাখ ১২ হাজার ৩৯০ টাকা। তার হাতে নগদ রয়েছে দুই লাখ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ছয়টি একাউন্টে জমা আছে ৪৪ লাখ নয় হাজার ৬৬ টাকা। তার নামে রয়েছে সাড়ে ২৫ লাখ টাকার গাড়ি। ইলেকট্রনিক পণ্য ও আসবাবপত্র রয়েছে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা। কৃষি জমি রয়েছে ৭০ দশমিক ৪০ শতাংশ, চার দশমিক ৯৫ শতাংশ অকৃষি জমি ও ১০২০ বর্গফুটের এ্যাপার্টমেন্ট। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তার আয়কর রিটার্নে দেখানো সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ১৮ লাখ ছয় হাজার ৬২ টাকা। তার নামে দায়ের করা দুইটি মামলায় অব্যাহতি পেয়েছেন। হলফনামায় শুভর শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর উল্লেখ করেছেন।
জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সমাসুল আলম লিটপনের ব্যবসা ও অন্য উৎস থেকে বার্ষিক আয় ১৯ লাখ ৮৩ হাজার ৩৩৯ টাকা। তার নগদ ও ব্যাংকে কোন টাকা জমা নেই। বন্ড, ঋণপত্র স্টক একচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় কোম্পানির শেয়ার রয়েছে আড়াই লাখ টাকা। ব্যবসার পুজি রয়েছে ৫৯ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭৩ টাকা। তার নামে স্থাবর কোন সম্পদ নেই। তবে ঋণ রয়েছে ৩৯ হাজার ৭৪৪ টাকা এবং সিটি ব্যাংকে যৌথ ঋণ রয়েছে আট লাখ ৩৫ হাজার টাকা। তার গৃহিনী স্ত্রীর রয়েছে ২৫ ভরি স্বর্ণ (বিবাহের উপহার)। মীর সামসুল আলম লিপটনের শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখানো হয়েছে বি.এস.এস পাস। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে দেখানো সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করেনি।
গণসংহতি আন্দোলেন প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন ডা. ফিদেল নঈম। ফিদেল নঈম বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীরের ছেলে। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ফিদেল নঈমের চাকুরি থেকে বার্ষিক আয় চার লাখ ৮০ হাজার টাকা। তার ৪০ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোবাইল ফোন ও ৮০ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। তার নগদ টাকা ও কোন স্থাবর সম্পদ নেই। হলফনামায় ফিদেল নঈম শিক্ষাগত যোগ্যতা এম.বি.বি.এস উল্লেখ করেছেন।
এ আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জামালপুর জেলা যুবঅধিকার পরিষদের সভাপতি লিটন মিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।লিটন মিয়ার হলফনামা অনুযায়ী, তার বেতন ও শেয়ার, সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংক আমানত থেকে বার্ষিক আয় চার লাখ ৪৭ হাজার টাকা। তার হাতে নগদ টাকা রয়েছে তিন লাখ ২৫ হাজার টাকা। ব্যাংকে জমা আছে ৩৫ হাজার টাকা এবং সঞ্চয়পত্র, স্থায়ী আমানত, ডাক সঞ্চয়পত্র ও ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ রয়েছে এক লাখ ২০ হাজার টাকা। এছাড়া তার রয়েছে ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, এক লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও দেড় লাখ টাকার আসবাবপত্র। অন্যের কাছ থেকে নেওয়া হাওলাতের পরিমাণ আট লাখ টাকা। হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা বি.এ উল্লেখ করেছেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
বামধারা রাজনীতিবিদ গণমুক্তি ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শিবলুল বারী রাজু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনী হলফনামায় তার বার্ষিক আয় উল্লেখ করেননি। তবে তার হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ১৩ লাখ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা। সম্পদের বিবরণে তিনি একটি ১০০ সিসি ডিসকভার মোটরসাইকেল এবং একটি টিনশেড আধা-পাকা ভবনের কথা উল্লেখ করেছেন। তার স্ত্রীর রয়েছে দুই ভরি স্বর্ণালংকার। হলফনামায় কৃষি ও অকৃষিজমির পরিমাণ তিনি উল্লেখ করেননি। শিবলুল বারী রাজু পেশায় কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করেছেন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা বি.এ পাস।
এ আসনে একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ব্যবসায়ী ফারজানা ফরিদ। হলফনামা অনুযায়ী, ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় তিন লাখ ৮৬ হাজার টাকা। তার হাতে নগদ রয়েছে ১৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর পরিমাণ ৪০ ভরি। এছাড়া এক লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং দুই লাখ টাকা মূল্যের আসবাবপত্র রয়েছে। তার ব্যবসায় মূলধন দেখানো হয়েছে এক কোটি ২৯ লাখ ৪৬ হাজার ৯১৩ টাকা। তার নামে কোন কৃষিজমি নেই, তবে ১৪ লাখ ৩৩ হাজার টাকা মূল্যের অকৃষিজমি রয়েছে। পাশাপাশি যৌথ মালিকানায় চার লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের জমির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তার ব্যবসায়ী স্বামীর বার্ষিক আয়ের কোন তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে তার হাতে নগদ রয়েছে ১০ হাজার টাকা। ব্যবসায় মূলধন আছে ২২ লাখ ২০ হাজার ১০০ টাকা। এছাড়া ১৮ লাখ ৭০ হাজার ৪০০ টাকা মূল্যের অকৃষিজমি এবং যৌথ মালিকানায় চার লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের জমি রয়েছে।
খাদেমুল ইসলাম : নিজস্ব প্রতিবেদক, মাদারগঞ্জ, বাংলারচিঠিডটকম 

















