ঢাকা ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামালপুর-৩ (মাদারগঞ্জ-মেলান্দহ) : কোটিপতি বিএনপি-ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী, লাখপতি জামায়াত-জাপা স্পেশাল অলিম্পিকসে পদক জয়ী জামালপুরের প্রতিবন্ধী খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা জামালপুরে তিন প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৩১ প্রার্থী মাদারগঞ্জে ৫ শিক্ষকের বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী মাত্র একজন! জামালপুরে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীকে দর্শানোর নোটিশ জামালপুরে বিএনপি’র পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত সরকারি প্রচারণায় গণভোটের গাড়ি সুপার ক্যারাভান জামালপুরে গণতন্ত্রের জন্য খালেদা জিয়া সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন : জেলা বিএনপির সভাপতি বর্ধমান হাউস : কাজী নজরুল ইসলাম ও মুসলিম সাহিত্য সমাজ গণভোটে অংশ নিয়ে ‘হ্যাঁ-তে সিল দিন : প্রধান উপদেষ্টা

দেওয়ানগঞ্জে ফসলি জমির মাটি কাটার মহোৎসব চলছে

দেওয়ানগঞ্জ : পাররামরামপুর ইউনিয়নের মাঠের ঘাট এলাকায় চলছে। মাটি কাটার মহোৎসব। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম 

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কেটে বিক্রির মহোৎসব চলছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এক্সক্যাভেটর ও শ্যালো ইঞ্জিন চালিত ডেজার দিয়ে জমির উর্বর মাটি ও নদী থেকে বালু কেটে বসতবাড়িসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভরাট কাজে বিক্রি করছে স্থানীয় কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, এ উপজেলার অধিকাংশ কৃষিজমি তিন ফসলি। এখানে সোনালি আঁশখ্যাত পাট, পেঁয়াজ ও আমন ধান আবাদ করা হয়। কিন্তু প্রতি বছর এ উপজেলায় বিপুল পরিমাণ জমির মাটি কাটা হচ্ছে। এ কারণে দিন দিন আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। কৃষকদের থেকে মাটি কিনে বসতিবাড়িসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছে পরিণত হচ্ছেন কতিপয় মাটি ব্যবসায়ীরা। কৃষি জমি কাটা মাটি ও টপ সয়েল বিক্রি করার ফলে হুমকি মুখে পড়ছে কৃষিখাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা। এ ছাড়া রাত দিন ট্রাক্টরে করে মাটি বহন করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রির ফলে নষ্ট হচ্ছে স্থানীয় গ্রামীণ কাঁচাপাকা সড়ক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলায় কয়েকটি শক্তিশালী মাটি ব্যবসায়ী চক্র গড়ে উঠেছে। তারা দরিদ্র কৃষককে নানা প্রলোভন দেখিয়ে জমির মাটি কিনে নিচ্ছে। আবার কেউ কেউ প্রয়োজনের তাগিদে নগদ অর্থ পেতে ফসলি জমির মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন। ৮-১০ ফুট গভীর করে মাটি কাটার ফলে অনেক জমি ডোবায় পরিণত হয়েছে। এসব জমিতে ফসল বা মাছ চাষ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া কৃষিজমি থেকে কেটে নেয়া মাটি বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে ট্রলি গাড়ি। এসব ট্রলির কারণে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গ্রামীণ রাস্তাঘাটে খানাখন্দ তৈরি হয়ে দ্রুত ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া ট্রলি চলাচলের কারণে আবাদি জমিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

১১ জানুয়ারি, রবিবার সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার পারপাররামপুর ইউনিয়নের মাঠার ঘাট, ডাংধরা ইউনিয়নের বাঘারচর ব্যাপারীপাড়া কৃষি জমি থেকে এলাকায় স্থানীয় কয়েকজন মাটি ব্যবসায়ী এক্সক্যাভেটর দিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে ট্রলিতে করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছে। এতে গ্রামীণ ও এলজিডি সড়কে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

দেওয়ানগঞ্জ  : ডাংধরা ইউনিয়নের বাঘারচর ব্যাপারীপাড়া এলাকায় চলছে মাটি কাটার মহোৎসব। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

এ ছাড়াও উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের কলাকান্দা, বাহাদুরাবাদ, ভাটিপাড়ায় ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে দীর্ঘ দিন ধরে   শ্যালো ইঞ্জিন চালিত ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীরা।

দেওয়ানগঞ্জ উপ সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহামুদুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে একজনকে বিনাশ্রম কারাদন্ডও দেওয়া হয়েছে। অভিযান চলমান রয়েছে। অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন ও ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হাসান এ প্রতিবেদককে বলেন, ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা ও নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুর-৩ (মাদারগঞ্জ-মেলান্দহ) : কোটিপতি বিএনপি-ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী, লাখপতি জামায়াত-জাপা

দেওয়ানগঞ্জে ফসলি জমির মাটি কাটার মহোৎসব চলছে

আপডেট সময় ১০:০৬:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কেটে বিক্রির মহোৎসব চলছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এক্সক্যাভেটর ও শ্যালো ইঞ্জিন চালিত ডেজার দিয়ে জমির উর্বর মাটি ও নদী থেকে বালু কেটে বসতবাড়িসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভরাট কাজে বিক্রি করছে স্থানীয় কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, এ উপজেলার অধিকাংশ কৃষিজমি তিন ফসলি। এখানে সোনালি আঁশখ্যাত পাট, পেঁয়াজ ও আমন ধান আবাদ করা হয়। কিন্তু প্রতি বছর এ উপজেলায় বিপুল পরিমাণ জমির মাটি কাটা হচ্ছে। এ কারণে দিন দিন আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। কৃষকদের থেকে মাটি কিনে বসতিবাড়িসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছে পরিণত হচ্ছেন কতিপয় মাটি ব্যবসায়ীরা। কৃষি জমি কাটা মাটি ও টপ সয়েল বিক্রি করার ফলে হুমকি মুখে পড়ছে কৃষিখাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা। এ ছাড়া রাত দিন ট্রাক্টরে করে মাটি বহন করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রির ফলে নষ্ট হচ্ছে স্থানীয় গ্রামীণ কাঁচাপাকা সড়ক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলায় কয়েকটি শক্তিশালী মাটি ব্যবসায়ী চক্র গড়ে উঠেছে। তারা দরিদ্র কৃষককে নানা প্রলোভন দেখিয়ে জমির মাটি কিনে নিচ্ছে। আবার কেউ কেউ প্রয়োজনের তাগিদে নগদ অর্থ পেতে ফসলি জমির মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন। ৮-১০ ফুট গভীর করে মাটি কাটার ফলে অনেক জমি ডোবায় পরিণত হয়েছে। এসব জমিতে ফসল বা মাছ চাষ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া কৃষিজমি থেকে কেটে নেয়া মাটি বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে ট্রলি গাড়ি। এসব ট্রলির কারণে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গ্রামীণ রাস্তাঘাটে খানাখন্দ তৈরি হয়ে দ্রুত ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া ট্রলি চলাচলের কারণে আবাদি জমিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

১১ জানুয়ারি, রবিবার সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার পারপাররামপুর ইউনিয়নের মাঠার ঘাট, ডাংধরা ইউনিয়নের বাঘারচর ব্যাপারীপাড়া কৃষি জমি থেকে এলাকায় স্থানীয় কয়েকজন মাটি ব্যবসায়ী এক্সক্যাভেটর দিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে ট্রলিতে করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছে। এতে গ্রামীণ ও এলজিডি সড়কে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

দেওয়ানগঞ্জ  : ডাংধরা ইউনিয়নের বাঘারচর ব্যাপারীপাড়া এলাকায় চলছে মাটি কাটার মহোৎসব। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

এ ছাড়াও উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের কলাকান্দা, বাহাদুরাবাদ, ভাটিপাড়ায় ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে দীর্ঘ দিন ধরে   শ্যালো ইঞ্জিন চালিত ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীরা।

দেওয়ানগঞ্জ উপ সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহামুদুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে একজনকে বিনাশ্রম কারাদন্ডও দেওয়া হয়েছে। অভিযান চলমান রয়েছে। অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন ও ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হাসান এ প্রতিবেদককে বলেন, ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা ও নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।