ঢাকা ১০:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর বাণী : সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে রাষ্ট্রপতির বাণী : মানবিক ও নিরাপদ দেশ গড়ার আহ্বান আগামীকাল ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস একটি অসহায় পরিবারের পাশে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা দুর্গম যমুনার চরে হেকমত আতঙ্কে অবরুদ্ধ অসহায় এক পরিবার শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী মার্কিন ফার্স্ট লেডিকে ইউক্রেনের বেসামরিক সম্মাননা প্রদান মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তৎপরতা শুরু স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য এআই টুল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ রাখছে গুগল গার্মেন্টস শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

জামালপুরে অস্ত্রোপচারের সময় পেটে সুতা রেখেই সেলাই

জামালপুর : শাহীন জেনারেল হাসপাতাল। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরে বেসরকারি শাহীন জেনারেল হাসপাতালে সন্তান প্রসবের অস্ত্রোপচার শেষে রোগীর পেটের ভেতরে চিকিৎসা সরঞ্জাম রেখেই সেলাই করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তার স্বজনা। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।

২ ডিসেম্বর, শুক্রবার দিবাগত রাতে জামালপুর শহরের বেসরকারি শাহীন জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে মালিক পক্ষের কাছে ভূক্তভোগী রোগী ও তার স্বজনরা এই অভিযোগ করেন। জানা গেছে, দুই মাস আগে গত বছরের ৩ নভেম্বর রাতে ইসলামপুর উপজেলার পালোয়ান মিয়ার স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার (২১) সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানোর জন্য জামালপুর পৌর শহরের আমলাপাড়া এলাকায় বেসরকারি শাহীন জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন।

পরে ওই রাতেই সন্তান প্রসবের জন্য অস্ত্রোপচার করেন মেডিকেল অফিসার ডাক্তার দিল আফরোজ নিশা। অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতালে তিনদিন ভর্তি থাকার পর রোগী ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরে যান। এরপর অবস্থা খারাপ হলে একাধিকাবার শাহীন জেনারেল হাসপাতালে সেবা নিতে আসলেও রোগী সুমাইয়া আক্তার কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন। উল্টো রোগীর স্বজনদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। পরবর্তীতে আল্ট্রাসনোগ্রাম করে জানা যায় অস্ত্রোপচারের সময় পেটের ভেতরে সুতা রেখেই সেলাই করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর রোগী ও তার স্বজনেরা শাহীন জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে অভিযোগ করেন। কিন্তু বিষয়টি আমলে না নিয়ে অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন হাসপাতালের মালিক শহিদুল ইসলাম শাহীন।

ভুক্তভোগী রোগী সুমাইয়া আক্তার অভিযোগ করে বলেন, অস্ত্রোপচার কক্ষে হাসপাতালের মালিক শহিদুল ইসলাম শাহীন নিজেই সেলাই করেছেন। হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় তিনদিনই ব্যথা হয়েছে। হাসপাতালের মালিক শাহীন নিজেই ব্যাথার ইঞ্জেকশন দিয়েছেন। তিনদিন পর ছুটি দিলে চলে যাই। কিন্তু ব্যথা কমে না। ক্ষতস্থান শুকাতে দেরি হওয়ায় একাধিকবার হাসপাতালে আসি। অস্ত্রোপচারের ১০ দিন পর সেলাই কাটাতে আসি তখনও ব্যথা ছিল।

ব্যথা ভালো হওয়ার জন্য ওষুধ খেতে হবে কিনা জানাতে চাইলে হাসপাতালের মালিক শাহীন বলেন, ওষুধ খাওয়ার দরকার নেই। সেলাই কাটার চার থেকে পাঁচ দিন পর সিজারের ক্ষতস্থানে ফোড়া হয়ে পুঁজ বের হতে থাকে। পরে আবার হাসপাতালে আসলে হাসপাতালের মালিক শাহীন নিজেই ড্রেসিং করে দেন। আমার স্বামী ও আমার মাকে ডেকে এনে বলে কোথায় পুঁজ বের হয়? কোথাও তো পুঁজ বের হয়নি।

এছাড়াও তিনি আমার স্বামী ও আমার মায়ের সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করেন। পরবর্তীতে অবস্থা আরও বেশি খারাপ হলে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হই। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসা নেয়ার পর কিছুটা উন্নতি হয়। তবে কয়েকদিন পর আবারও অন্যপাশে ফোড়া হয়ে পুঁজ বের হয়। এরপর আল্ট্রাসনোগ্রাম করে জানা যায় অস্ত্রোপচারের সময় ভেতরে সুতা রেখেই তারা সেলাই করেছে। ক্ষতস্থানে ইনফেকশন দেখা দিয়েছে। এ ঘটনার বিচার চাই।

রোগীর স্বামী পালোয়ান মিয়া বলেন, , দুই মাস ধরে আমার স্ত্রী ক্ষত নিয়ে ভুগছে। আমার স্ত্রীকে অস্ত্রোপচারের সময় পেটের ভেতর সুতা রেখে সেলাই করেছে। আমার স্ত্রীর সুচিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।

রোগীর স্বজন কুসুম ইসলাম বলেন, আল্ট্রাসনোগ্রাম করে প্রতিবেদন গাইনি রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আবুল হোসেনকে দেখালে তিনি জানিয়েছেন অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর পেটে সুতা রেখেই সেলাই করা হয়েছে। এজন্য ইনফেকশন হয়েছে। পরে শাহীন জেনারেল হাসপাতালে অভিযোগ নিয়ে আসলে হাসপাতালের মালিক শহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন তার কিছুই করার নেই, আপনারা নিজেদের মত চিকিৎসা করান।

শাহীন জেনারেল হাসপাতালের মালিক শহিদুল ইসলাম শাহীন এ প্রতিবেদককে বলেন, অভিযোগটি মিথ্যা ও বানোয়াট। অস্ত্রোপচারের পর সমস্যা নিয়ে এলে তার স্বামীকে দেখানো হয়েছে যে কোন সমস্যা নেই। দুই মাস পর মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট অভিযোগ নিয়ে এসেছেন। তার আল্ট্রসনোগ্রামের রিপোর্ট স্বাভাবিক আছে। তারপরও তাকে গাইনি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেছি।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে ডাক্তার দিল আফরোজ নিশার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় জানার পর ফোন কেটে দিয়ে মুঠোফোনটি বন্ধ করে রাখেন। পরে কয়েকবার চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

জামালপুরের সিভিল সার্জন ডাক্তার মোহাম্মদ আজিজুল হক এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার আগেই হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু হয়। আমি যখন হাসপাতালটি পরিদর্শন করি তখন দেখি প্রতিষ্ঠানটি চলার মত না। কিন্তু মুচলেকা নিয়ে হাসপাতালের মালিককে জানিয়ে দেই এক বছর পর ওই ভবনে হাসপাতাল চলতে পারবে না। এই হাসপাতালের সার্জন বা চিকিৎসক যারা আছে তাদের আমরা নজরে রাখি। তবে হাসপাতালের মালিক শহিদুল ইসলাম শাহীন অপারেশন থিয়েটারে কোন কাজ করতে পারবেন না। রোগী আমাদের অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী : সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল

জামালপুরে অস্ত্রোপচারের সময় পেটে সুতা রেখেই সেলাই

আপডেট সময় ০৯:৩৬:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

জামালপুরে বেসরকারি শাহীন জেনারেল হাসপাতালে সন্তান প্রসবের অস্ত্রোপচার শেষে রোগীর পেটের ভেতরে চিকিৎসা সরঞ্জাম রেখেই সেলাই করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তার স্বজনা। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।

২ ডিসেম্বর, শুক্রবার দিবাগত রাতে জামালপুর শহরের বেসরকারি শাহীন জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে মালিক পক্ষের কাছে ভূক্তভোগী রোগী ও তার স্বজনরা এই অভিযোগ করেন। জানা গেছে, দুই মাস আগে গত বছরের ৩ নভেম্বর রাতে ইসলামপুর উপজেলার পালোয়ান মিয়ার স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার (২১) সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানোর জন্য জামালপুর পৌর শহরের আমলাপাড়া এলাকায় বেসরকারি শাহীন জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন।

পরে ওই রাতেই সন্তান প্রসবের জন্য অস্ত্রোপচার করেন মেডিকেল অফিসার ডাক্তার দিল আফরোজ নিশা। অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতালে তিনদিন ভর্তি থাকার পর রোগী ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরে যান। এরপর অবস্থা খারাপ হলে একাধিকাবার শাহীন জেনারেল হাসপাতালে সেবা নিতে আসলেও রোগী সুমাইয়া আক্তার কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন। উল্টো রোগীর স্বজনদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। পরবর্তীতে আল্ট্রাসনোগ্রাম করে জানা যায় অস্ত্রোপচারের সময় পেটের ভেতরে সুতা রেখেই সেলাই করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর রোগী ও তার স্বজনেরা শাহীন জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে অভিযোগ করেন। কিন্তু বিষয়টি আমলে না নিয়ে অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন হাসপাতালের মালিক শহিদুল ইসলাম শাহীন।

ভুক্তভোগী রোগী সুমাইয়া আক্তার অভিযোগ করে বলেন, অস্ত্রোপচার কক্ষে হাসপাতালের মালিক শহিদুল ইসলাম শাহীন নিজেই সেলাই করেছেন। হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় তিনদিনই ব্যথা হয়েছে। হাসপাতালের মালিক শাহীন নিজেই ব্যাথার ইঞ্জেকশন দিয়েছেন। তিনদিন পর ছুটি দিলে চলে যাই। কিন্তু ব্যথা কমে না। ক্ষতস্থান শুকাতে দেরি হওয়ায় একাধিকবার হাসপাতালে আসি। অস্ত্রোপচারের ১০ দিন পর সেলাই কাটাতে আসি তখনও ব্যথা ছিল।

ব্যথা ভালো হওয়ার জন্য ওষুধ খেতে হবে কিনা জানাতে চাইলে হাসপাতালের মালিক শাহীন বলেন, ওষুধ খাওয়ার দরকার নেই। সেলাই কাটার চার থেকে পাঁচ দিন পর সিজারের ক্ষতস্থানে ফোড়া হয়ে পুঁজ বের হতে থাকে। পরে আবার হাসপাতালে আসলে হাসপাতালের মালিক শাহীন নিজেই ড্রেসিং করে দেন। আমার স্বামী ও আমার মাকে ডেকে এনে বলে কোথায় পুঁজ বের হয়? কোথাও তো পুঁজ বের হয়নি।

এছাড়াও তিনি আমার স্বামী ও আমার মায়ের সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করেন। পরবর্তীতে অবস্থা আরও বেশি খারাপ হলে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হই। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসা নেয়ার পর কিছুটা উন্নতি হয়। তবে কয়েকদিন পর আবারও অন্যপাশে ফোড়া হয়ে পুঁজ বের হয়। এরপর আল্ট্রাসনোগ্রাম করে জানা যায় অস্ত্রোপচারের সময় ভেতরে সুতা রেখেই তারা সেলাই করেছে। ক্ষতস্থানে ইনফেকশন দেখা দিয়েছে। এ ঘটনার বিচার চাই।

রোগীর স্বামী পালোয়ান মিয়া বলেন, , দুই মাস ধরে আমার স্ত্রী ক্ষত নিয়ে ভুগছে। আমার স্ত্রীকে অস্ত্রোপচারের সময় পেটের ভেতর সুতা রেখে সেলাই করেছে। আমার স্ত্রীর সুচিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।

রোগীর স্বজন কুসুম ইসলাম বলেন, আল্ট্রাসনোগ্রাম করে প্রতিবেদন গাইনি রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আবুল হোসেনকে দেখালে তিনি জানিয়েছেন অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর পেটে সুতা রেখেই সেলাই করা হয়েছে। এজন্য ইনফেকশন হয়েছে। পরে শাহীন জেনারেল হাসপাতালে অভিযোগ নিয়ে আসলে হাসপাতালের মালিক শহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন তার কিছুই করার নেই, আপনারা নিজেদের মত চিকিৎসা করান।

শাহীন জেনারেল হাসপাতালের মালিক শহিদুল ইসলাম শাহীন এ প্রতিবেদককে বলেন, অভিযোগটি মিথ্যা ও বানোয়াট। অস্ত্রোপচারের পর সমস্যা নিয়ে এলে তার স্বামীকে দেখানো হয়েছে যে কোন সমস্যা নেই। দুই মাস পর মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট অভিযোগ নিয়ে এসেছেন। তার আল্ট্রসনোগ্রামের রিপোর্ট স্বাভাবিক আছে। তারপরও তাকে গাইনি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেছি।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে ডাক্তার দিল আফরোজ নিশার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় জানার পর ফোন কেটে দিয়ে মুঠোফোনটি বন্ধ করে রাখেন। পরে কয়েকবার চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

জামালপুরের সিভিল সার্জন ডাক্তার মোহাম্মদ আজিজুল হক এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার আগেই হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু হয়। আমি যখন হাসপাতালটি পরিদর্শন করি তখন দেখি প্রতিষ্ঠানটি চলার মত না। কিন্তু মুচলেকা নিয়ে হাসপাতালের মালিককে জানিয়ে দেই এক বছর পর ওই ভবনে হাসপাতাল চলতে পারবে না। এই হাসপাতালের সার্জন বা চিকিৎসক যারা আছে তাদের আমরা নজরে রাখি। তবে হাসপাতালের মালিক শহিদুল ইসলাম শাহীন অপারেশন থিয়েটারে কোন কাজ করতে পারবেন না। রোগী আমাদের অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।