ঢাকা ১১:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামালপুরে অনূর্ধ্ব-১৮ মহিলা টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শুরু মাদারগঞ্জে কাজে আসে না ৮০ লাখ টাকার ডাম্পিং স্টেশন, মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড় দেওয়ানগঞ্জে নুতন কুঁড়ি স্পোর্টস কর্মসূচির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত ডিজেল মজুতের দায়ে যুবকের ৭ দিনের জেল মাদারগঞ্জে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু, বাবার দাবি হত্যা  বকশীগঞ্জে কতিপয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্লাস বাদ দিয়ে পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহের অভিযোগ!   সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচলের আশ্বাস দিল ইরান জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, ‘প্যানিক বায়িং’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার সাংবাদিক প্রবেশে কেন্দ্র সচিবের নিষেধাজ্ঞা

বকশীগঞ্জে কতিপয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্লাস বাদ দিয়ে পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহের অভিযোগ!  

বকশীগঞ্জ : অফিস সময়ে তেল পাম্পে একজন শিক্ষক। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের বকশীগঞ্জে জ্বালানি সঙ্কটের কারণে পাম্পে দীর্ঘ হচ্ছে লাইন। তেল নিতে রীতিমত সংগ্রাম করতে হচ্ছে বিভিন্ন পেশার মানুষের। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের অবস্থা যেন পোয়াবারো। একটি লাইনে সব পেশাজীবী মানুষকে এক সাথে তেল সরবরাহ করতো পাম্প কর্তৃপক্ষ।

এতে করে হযবরল লেগেই থাকত বকশীগঞ্জের একমাত্র তেল পাম্প পরেশ চন্দ্র সাহা ফিলিং স্টেশনটিতে। এরই মধ্যে বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ১৫ এপ্রিল, বুধবার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য পাম্প কর্তৃপক্ষ বরাবর একটি লিখিত পত্র দেন।

ওই পত্রে সরকারি চাকুরজীবী, স্বাস্থ্যকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, কৃষকসহ শিক্ষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি তেল সরবরাহের জন্য পাম্প কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশনা দেন ইউএনও মুরাদ হোসেন। আর এই নির্দেশনাকে অপব্যবহার করে পাম্প থেকে কতিপয় শিক্ষক তেল সংগ্রহ করে যাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরেশ চন্দ্র সাহা ফিলিং স্টেশনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহের নির্দেশনার পর থেকে দুটি লাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। একটি সাধারণ মানুষের জন্য। অপরটি অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য।

কিন্তু কতিপয় শিক্ষক এই নির্দেশনাকে পুঁজি করে বিদ্যালয়ে যথা সময়ে উপস্থিত না হয়ে পাঠদান কার্যক্রম বাদ দিয়ে তেলের জন্য পাম্পে অবস্থান করে তেল সংগ্রহ করেছেন। কিছু শিক্ষক প্রতিনিয়ত বিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত না থেকে ভিড় করছেন পাম্পে। তারা পাঠদান কার্যক্রমকে প্রাধান্য না দিয়ে মোটরসাইকেলে তেল নেয়াকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। এই চিত্র সরেজমিনে গেলেই পাওয়া যাচ্ছে। ১৯ এপ্রিল,  রবিবার দু’জন শিক্ষকের লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহের একটি ভিডিও প্রকাশ হলে তোলপাড় শুরু হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, শিক্ষকদের জন্য সরকারি বন্ধের দিন তেল সরবরাহ করা গেলে ক্লাসে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হবে না। কিন্তু বর্তমানে যেভাবে তেল নেয়া হচ্ছে তাতে শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হাসান রেজাউল করিম এ প্রতিবেদককে বলেন, কোন শিক্ষক যদি তেল সংগ্রহ করেন তাহলে বন্ধের দিন বা অফিস সময়ের বাইরে গিয়ে তেল নিতে হবে। ক্লাস ফাঁকি দিয়ে তেল সংগ্রহের সুযোগ নেই।

ইউএনও মুরাদ হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন,  সরকারি নিয়ম অমান্য করে কোন শিক্ষকের তেল সংগ্রহের সুযোগ নেই। নিয়ম মেনেই সবাইকে তেল সংগ্রহ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে অনূর্ধ্ব-১৮ মহিলা টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শুরু

বকশীগঞ্জে কতিপয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্লাস বাদ দিয়ে পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহের অভিযোগ!  

আপডেট সময় ১০:০৯:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

জামালপুরের বকশীগঞ্জে জ্বালানি সঙ্কটের কারণে পাম্পে দীর্ঘ হচ্ছে লাইন। তেল নিতে রীতিমত সংগ্রাম করতে হচ্ছে বিভিন্ন পেশার মানুষের। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের অবস্থা যেন পোয়াবারো। একটি লাইনে সব পেশাজীবী মানুষকে এক সাথে তেল সরবরাহ করতো পাম্প কর্তৃপক্ষ।

এতে করে হযবরল লেগেই থাকত বকশীগঞ্জের একমাত্র তেল পাম্প পরেশ চন্দ্র সাহা ফিলিং স্টেশনটিতে। এরই মধ্যে বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ১৫ এপ্রিল, বুধবার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য পাম্প কর্তৃপক্ষ বরাবর একটি লিখিত পত্র দেন।

ওই পত্রে সরকারি চাকুরজীবী, স্বাস্থ্যকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, কৃষকসহ শিক্ষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি তেল সরবরাহের জন্য পাম্প কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশনা দেন ইউএনও মুরাদ হোসেন। আর এই নির্দেশনাকে অপব্যবহার করে পাম্প থেকে কতিপয় শিক্ষক তেল সংগ্রহ করে যাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরেশ চন্দ্র সাহা ফিলিং স্টেশনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহের নির্দেশনার পর থেকে দুটি লাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। একটি সাধারণ মানুষের জন্য। অপরটি অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য।

কিন্তু কতিপয় শিক্ষক এই নির্দেশনাকে পুঁজি করে বিদ্যালয়ে যথা সময়ে উপস্থিত না হয়ে পাঠদান কার্যক্রম বাদ দিয়ে তেলের জন্য পাম্পে অবস্থান করে তেল সংগ্রহ করেছেন। কিছু শিক্ষক প্রতিনিয়ত বিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত না থেকে ভিড় করছেন পাম্পে। তারা পাঠদান কার্যক্রমকে প্রাধান্য না দিয়ে মোটরসাইকেলে তেল নেয়াকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। এই চিত্র সরেজমিনে গেলেই পাওয়া যাচ্ছে। ১৯ এপ্রিল,  রবিবার দু’জন শিক্ষকের লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহের একটি ভিডিও প্রকাশ হলে তোলপাড় শুরু হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, শিক্ষকদের জন্য সরকারি বন্ধের দিন তেল সরবরাহ করা গেলে ক্লাসে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হবে না। কিন্তু বর্তমানে যেভাবে তেল নেয়া হচ্ছে তাতে শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হাসান রেজাউল করিম এ প্রতিবেদককে বলেন, কোন শিক্ষক যদি তেল সংগ্রহ করেন তাহলে বন্ধের দিন বা অফিস সময়ের বাইরে গিয়ে তেল নিতে হবে। ক্লাস ফাঁকি দিয়ে তেল সংগ্রহের সুযোগ নেই।

ইউএনও মুরাদ হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন,  সরকারি নিয়ম অমান্য করে কোন শিক্ষকের তেল সংগ্রহের সুযোগ নেই। নিয়ম মেনেই সবাইকে তেল সংগ্রহ করতে হবে।