চলতি বর্ষায় শেরপুর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার প্রধান অপ্রধান প্রায় সকল রাস্তাই কম বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাস্তার কাজ নিম্নমানের হওয়ায় বর্ষা এলেই এসব রাস্তা আর চলাচল উপযোগী থাকে না। রাস্তার কার্পেটিং নষ্ট হয়ে সৃষ্ট গর্তে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে থাকে।
আর এসব রাস্তায় প্রায় ছয় মাস পানি জমে থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোটোখাটো দুর্ঘটনা। এতে চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন শেরপুর পৌরবাসী। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কগুলো সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন পৌরসভার ভুক্তভোগী বাসিন্দারা। আর বেহাল সড়কগুলো দ্রুততই মেরামত করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন পৌর কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, শেরপুর পৌরসভার নিউ মার্কেট হয়ে এটিআই সড়ক, ডিসি অফিস গেইট থেকে তিনআনী বাজার মোড়, পশু হাসপাতাল হয়ে বটতলা, আনারকলি সেলুনের মোড় থেকে রাজবল্লভপুর মোড়, খরমপুর মোড় থেকে ইয়াতিমখানা মোড়, ডায়াবেটিক হাসপাতাল হয়ে ইলিয়াস চেয়ারম্যানের বাড়িসহ বিভিন্ন এলাকার প্রধান ও অপ্রধান সড়কের বেহাল অবস্থা।
দীর্ঘদিন ধরে কাজ না করায় নবীনগর হয়ে পুলিশ লাইন সড়ক, ঢাকলহাটি হোসেন মোল্লার খলা হয়ে শেখহাটি বাজার মোড় সড়ক দু’টি সম্পূর্ণ চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খানা-খন্দে ভরা এসব রাস্তায় ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। ভাঙাচোড়া সড়কে যানবাহন চালাতে গিয়ে ছোট-বড় দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন রকম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে চালকদেরও। দুর্ঘটনার কবলে পড়ে মানুষ ও যানবাহন উভয়েরই ক্ষতি সাধন হচ্ছে।

১৫০ বছরেরও বেশি পুরাতন প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভার সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হলেও ভুক্তভোগী নাগরিকদের দুর্ভোগ লাঘবে নেই দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ। ভাঙাচুরা সড়কে মাঝে মধ্যে জোড়াতালি দিয়ে মানহীন কিছু সংস্কার কাজ করা হলেও তা অল্প সময়ের মধ্যেই আবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে অর্থের অপচয় এবং এর সাথে জড়িত সংশ্লিষ্টরা লাভবান হলেও পৌরবাসীর দুর্ভোগ যেন আর কমছেই না। লক্ষাধিক পৌর নাগরিকের নিত্যদিনের ভোগান্তির অংশ চলাচল অযোগ্য এ সড়কগুলোর দ্রুত টেকসইযোগ্য সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন পৌরবাসী।
প্রায় ২৭ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের শেরপুর পৌরসভায় নয়টি ওয়ার্ডের ৪১টি মহল্লার লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের জন্য ২২৪ কিলোমিটার সড়কের ১২২ কিলোমিটার পাঁকা এবং ১০২ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক রয়েছে।
নবীনগরের বাসিন্দা রবিন, রোকন, মিজান, রফিক, ফোরকান প্রায় অভিন্ন ভাষায় বলেন, নবীনগর-পুলিশ লাইন রাস্তাটি সংস্কারের অল্প কয়েকদিন পরেই রাস্তার পাথর উঠে খানা খন্দে পরিণত হয়। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় এটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এ রাস্তায় গাড়ি তো দুরের কথা পায়ে হেটে চলাও দুস্কর হয়ে পড়েছে। এতে রোগি, শিশু শিক্ষার্থীসহ বয়োবৃদ্ধ পৌর নাগরিকদের ভোন্তি চরমে পৌঁছেছে।
শেরপুর পৌরসভার বাগরাক্সা মহল্লার ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম অনেকটা ক্ষোভের সাথেই বলেন, আমরা শতাব্দী প্রাচীন প্রথম শ্রেণির পৌরসভার নাগরিক হলেও এর ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারি না। শেরপুর পৌরসভার অধিকাংশ প্রধান অপ্রধান সড়কই ভাঙাচুরা। রাস্তার পাশে জমে থাকা নোংরা আবর্জনা পরিষ্কার করারও কেউ নেই। ড্রেনেজ ব্যবস্থা কার্যত অকার্যকর। রাস্তার বিদ্যুৎ বাতিও ঠিকমত কাজ করে না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় এ পৌরসভার কোন অবিভাবক কোন কালে ছিল না। এখনও নেই। অফিসের কর্মচারীরা শুধু ট্যাক্সই তুলেন। কিন্তু প্রথম শ্রেণির পৌর নাগরিকদের সেই মানের কোন রকমের সেবা প্রদান করেন না।
চাপাতলী মহল্লার বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন জানান, খরমপুর মোড় থেকে ইয়াতিমখানা মোড় পর্যন্ত ব্যস্ততম এ রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে পথচারীদের চলাচলে যেনো ভোগান্তির শেষ নেই। তিনি বলেন, রাস্তার যখন সংস্কার কাজ করা হয় তখন সঠিক তদারকির অভাবে কাজের মান ভাল না হওয়ায় খুব অল্প সময়েই রাস্তাটি আবারও নষ্ট হয়ে যায়। এতে করে জনগণের দুর্ভোগও কমছে না আবার রাষ্ট্রের টাকারও অপচয় হচ্ছে। এসব দেখভাল করার কি কেউ নেই। এমন প্রশ্ন তিনি ছুড়ে দেন এ প্রতিবেদকের কাছে।
শেরপুর পৌরসভার পৌর প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা এ প্রতিবেদককে বলেন, নবীনগর হয়ে পুলিশ লাইন সড়কের কাজ লোকাল গভর্নমেন্ট (কোভিড-১৯) রেসপন্স এন্ড রিকভার প্রজেক্টের আওতায় ইতিমধ্যেই প্রাক্কলন প্রস্তুত করেছি। এই অর্থ বছরেই এই রাস্তার কাজ শুরু করব। অন্যান্য রাস্তার কাজ ২৪-২৫ অর্থ বছরের বরাদ্দ অনুযায়ী চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, ২৫-২৬ অর্থ বছরে এডিপির অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সেই বরাদ্দ অনুযায়ী প্রকল্প যাচাই বাছাইয়ের কাজ চলমান আছে। পর্যায়ক্রমে রাস্তার কাজ সম্পন্ন করা হবে।
মুগনিউর রহমান মনি : নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর, বাংলারচিঠিডটকম 



















