ঢাকা ১১:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকারের প্রশংসা করলেন তাকাইচি ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ মোকাবিলায় ভারতে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদা রহমানের আহ্বান সাংবাদিক আবুল কাশেমের বাসায় চুরি, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট! যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: ৪৭০ আসন ও ১২ বিলিয়ন ডলারের লড়াই কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক জরায়ু কেটে ফেলার অভিযোগ, এম এ রশীদ হাসপাতালের দুই ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের শেরপুরে এবার ধুম কাছিম উদ্ধার ও অবমুক্ত জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি : প্রধানমন্ত্রী জামালপুরে সিডসের শিখন বিনিময় সফরে এসে সন্তুষ্ট কারিতাস দল

মাদারগঞ্জে সোনালি আঁশে ফিরছে সুদিন, দামে খুশি কৃষক

মাদারগঞ্জ : পাট জাগ দিয়ে সোনালি আঁশ সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত কৃষকেরা। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সোনালি আঁশ নিয়ে আবারও স্বপ্ন দেখছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার পাটচাষিরা। কয়েক বছর আগেও দরপতন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও জাগ দেওয়ার পানির সংকটে পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন অনেক কৃষক। তবে এবার পরিস্থিতি বদলেছে।

ভাল বাজার দর, অনুকূল আবহাওয়া, সময়মত বৃষ্টিপাত, উন্নত জাতের বীজ এবং কৃষি বিভাগের সহায়তায় চলতি মৌসুমে উপজেলায় পাটের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। পাশাপাশি ভাল ফলন ও বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় আবারও সোনালি আঁশের এই অর্থকরী ফসলের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় দুই হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। গত বছর আবাদ ছিল দুই হাজার ২০০ হেক্টর। এক বছরের ব্যবধানে আবাদ বেড়েছে ৬৫০ হেক্টর।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও কৃষকেরা পাট কাটছেন, কোথাও জাগ দিচ্ছেন। আবার কোথাও কৃষকেরা পাটের আঁশ ছাড়িয়ে ধোয়া ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত। মাঠজুড়ে এখন পাট ঘরে তোলার শেষ সময়ের কর্মব্যস্ততা।

মাদারগঞ্জ : পাট জাগ দিয়ে সোনালী আঁশ সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত কৃষকেরা। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রোগবালাইয়ের প্রকোপ তুলনামূলক কম থাকায় পাটের বৃদ্ধি অত্যন্ত আশানুরূপ। তবে সার, বীজ ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়েছে। স্থানীয় বাজারে প্রতি মণ পাট চার হাজার টাকা থেকে সাড়ে চার হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভাল ফলন ও বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় সন্তুষ্ট চাষিরাও।

কৃষকদের ভাষ্য, কয়েক বছর আগেও পাট চাষে লাভের চেয়ে লোকসানের আশঙ্কাই ছিল বেশি। কিন্তু এবার উৎপাদন ভালো হওয়ায় এবং বাজারে দাম সন্তোষজনক থাকায় পাট আবারও লাভজনক ফসলে পরিণত হয়েছে। তাই অনেক কৃষক আগামী মৌসুমে পাটের আবাদ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন।

চরপাকেরদহ ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, আগে পাটের দাম কম থাকায় চাষ কমিয়ে দিয়েছিলাম। গত বছর ভাল দাম পাওয়ায় এবার পাঁচ বিঘা জমিতে পাট করেছি। ফলনও ভাল হয়েছে।

আরেক কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, এবার পাটের ফলন বেশ ভাল হয়েছে। বাজারে দামও ভাল। শুধু পাটের আঁশ নয়, পাটকাঠিরও চাহিদা রয়েছে। এতে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান এই প্রতিবেদককে বলেন, কৃষকদের পাট চাষে উদ্বুদ্ধ করতে সরকার প্রণোদনা দিচ্ছে। পাশাপাশি পাটের ব্যবহার বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উন্নত জাতের বীজ, অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের আগ্রহের কারণে এবার পাটের আবাদ বেড়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি আগামী বছর পাটের আবাদ আরও বাড়বে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকারের প্রশংসা করলেন তাকাইচি

মাদারগঞ্জে সোনালি আঁশে ফিরছে সুদিন, দামে খুশি কৃষক

আপডেট সময় ১০:০৭:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

সোনালি আঁশ নিয়ে আবারও স্বপ্ন দেখছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার পাটচাষিরা। কয়েক বছর আগেও দরপতন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও জাগ দেওয়ার পানির সংকটে পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন অনেক কৃষক। তবে এবার পরিস্থিতি বদলেছে।

ভাল বাজার দর, অনুকূল আবহাওয়া, সময়মত বৃষ্টিপাত, উন্নত জাতের বীজ এবং কৃষি বিভাগের সহায়তায় চলতি মৌসুমে উপজেলায় পাটের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। পাশাপাশি ভাল ফলন ও বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় আবারও সোনালি আঁশের এই অর্থকরী ফসলের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় দুই হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। গত বছর আবাদ ছিল দুই হাজার ২০০ হেক্টর। এক বছরের ব্যবধানে আবাদ বেড়েছে ৬৫০ হেক্টর।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও কৃষকেরা পাট কাটছেন, কোথাও জাগ দিচ্ছেন। আবার কোথাও কৃষকেরা পাটের আঁশ ছাড়িয়ে ধোয়া ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত। মাঠজুড়ে এখন পাট ঘরে তোলার শেষ সময়ের কর্মব্যস্ততা।

মাদারগঞ্জ : পাট জাগ দিয়ে সোনালী আঁশ সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত কৃষকেরা। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রোগবালাইয়ের প্রকোপ তুলনামূলক কম থাকায় পাটের বৃদ্ধি অত্যন্ত আশানুরূপ। তবে সার, বীজ ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়েছে। স্থানীয় বাজারে প্রতি মণ পাট চার হাজার টাকা থেকে সাড়ে চার হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভাল ফলন ও বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় সন্তুষ্ট চাষিরাও।

কৃষকদের ভাষ্য, কয়েক বছর আগেও পাট চাষে লাভের চেয়ে লোকসানের আশঙ্কাই ছিল বেশি। কিন্তু এবার উৎপাদন ভালো হওয়ায় এবং বাজারে দাম সন্তোষজনক থাকায় পাট আবারও লাভজনক ফসলে পরিণত হয়েছে। তাই অনেক কৃষক আগামী মৌসুমে পাটের আবাদ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন।

চরপাকেরদহ ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, আগে পাটের দাম কম থাকায় চাষ কমিয়ে দিয়েছিলাম। গত বছর ভাল দাম পাওয়ায় এবার পাঁচ বিঘা জমিতে পাট করেছি। ফলনও ভাল হয়েছে।

আরেক কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, এবার পাটের ফলন বেশ ভাল হয়েছে। বাজারে দামও ভাল। শুধু পাটের আঁশ নয়, পাটকাঠিরও চাহিদা রয়েছে। এতে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান এই প্রতিবেদককে বলেন, কৃষকদের পাট চাষে উদ্বুদ্ধ করতে সরকার প্রণোদনা দিচ্ছে। পাশাপাশি পাটের ব্যবহার বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উন্নত জাতের বীজ, অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের আগ্রহের কারণে এবার পাটের আবাদ বেড়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি আগামী বছর পাটের আবাদ আরও বাড়বে।