ঢাকা ০৭:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপির সাবেক মহাসচিব ব্যারিস্টার সালাম তালুকদারের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী ২০ আগস্ট শেরপুরে পলিথিন শপিং ব্যাগের ব্যবহার বন্ধে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ‎ চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলার রায় : সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড, সাতজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে স্প্রিপ্ট প্রকল্পের সভা মাদারগঞ্জে অটোচালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার জামালপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত জামালপুরে মানবাধিকার নিশ্চিতকল্পে পেশাদার র‍্যাব ফোর্স বিষয়ক সেমিনার জামালপুরে আমার জীবন আমার স্বপ্ন উদযাপন লাঙ্গলজোড়ায় ইটের সলিং রাস্তার উদ্বোধন সমাজের সবাই এগিয়ে এলে অনেক বড় সমস্যার সমাধান করা সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী

আশ্বাস মিললেও অসহায় আনোয়ারার জোটেনি সরকারি সহায়তা ভাতার কার্ড

মাদারগঞ্জ : অসহায় বৃদ্ধা আনোয়ারা চান সরকারি সহায়তা। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

৪২ বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছেন বৃদ্ধা আনোয়ারা। স্বামীর রেখে যাওয়া শেষ সম্বল বাড়িভিটাও বিক্রি করে একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দেন। ১৯ বছর আগে সেই মেয়েও মারা যায়। এরপর থেকে অন্যের বাসা-বাড়িতে কাজ করে দিন পার করছেন বয়সের ভারে ন্যুব্জ ৭৮ বছরের বৃদ্ধা আনোয়ারা। বার্ধক্যের কারণে দীর্ঘদিন ধরে নানা রোগে ভুগছেন তিনি।

চিকিৎসা দূরের কথা, তিনবেলা খাবার জোটানোও তার জন্য কষ্টকর। বেঁচে থেকেও আজ মৃতের শামিল তিনি। জীবনের শেষ সময়ে একটু স্বচ্ছলতার আশায় বিধবা বা বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য ধর্ণা দিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে। আশ্বাস মিললেও এখনও জোটেনি কোন কার্ড।

আনোয়ারা জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের বীর পাকেরদহ এলাকার বাসিন্দা। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ১৯৪৭ সালের ১ আগস্ট। সেই হিসাবে তার বয়স প্রায় ৭৮ বছর। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বয়স্ক ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে নারীর বয়স সর্বনিম্ন ৬২ বছর এবং পুরুষের বয়স সর্বনিম্ন ৬৫ বছর। সে অনুযায়ী আনোয়ারা বয়স্ক ভাতা পাওয়ার যোগ্য হলেও দীর্ঘদিনেও কেউ তার সহযোগিতায় এগিয়ে আসেননি।

জানা গেছে, মাদারগঞ্জ পৌরসভার কামারপাড়া এলাকার মৃত আহজ্জলের স্ত্রী আনোয়ারা। প্রায় ৪২ বছর আগে তার স্বামী মারা গেছেন। রেখে যান শুধু বাড়িভিটা ও একটি কন্যা সন্তান। অন্যের বাসা-বাড়িতে কাজ করে কোনরকমে সংসার চালান আনোয়ারা। এরপর বাড়িভিটা বিক্রি করে একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দেন উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের বীর পাকেরদহ এলাকায়। মেয়ের বিয়ের পর বিধবা আনোয়ারা মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন।

১৯ বছর আগে সেই মেয়েও মারা যান। মেয়ের জামাই অন্যত্র বিয়ে করায় আনোয়ারা একা হয় পড়েন। এরপর থেকে আনোয়ারা অন্যের বাসা-বাড়িতে থেকে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এখন তিনি আর তেমন কাজ করতে পারছেন না। প্রতিবেশীরা যা খাবার দেয়, তা খেয়েই কোনরকমে দিনপাত করছেন।

অসহায় আনোয়ারা বলেন, স্বামী, সন্তান, জায়গাজমি কিছুই নাই। এইহানে অন্যের বাড়িতে থাকি। মাইনষে আমারে খাওন-দাওন দেয়। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেইক্যা খুব কষ্টে আছি। অ্যাকটা ভাতার কার্ড পাইলে খুব উপকার হইতো।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও চরপাকেরদহ ইউনিয়নের প্রশাসক তৌফিকুল ইসলাম খালেক এ প্রতিবেদককে বলেন, বৃদ্ধা আনোয়ারা বয়স্ক ভাতার জন্য আবেদন করেছিলেন। তার আবেদনের সাথে মোবাইল নাম্বার না থাকায় ভাতা পাননি। দ্রুত তাকে বয়স্ক ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির সাবেক মহাসচিব ব্যারিস্টার সালাম তালুকদারের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী ২০ আগস্ট

আশ্বাস মিললেও অসহায় আনোয়ারার জোটেনি সরকারি সহায়তা ভাতার কার্ড

আপডেট সময় ০৮:৪২:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫

৪২ বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছেন বৃদ্ধা আনোয়ারা। স্বামীর রেখে যাওয়া শেষ সম্বল বাড়িভিটাও বিক্রি করে একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দেন। ১৯ বছর আগে সেই মেয়েও মারা যায়। এরপর থেকে অন্যের বাসা-বাড়িতে কাজ করে দিন পার করছেন বয়সের ভারে ন্যুব্জ ৭৮ বছরের বৃদ্ধা আনোয়ারা। বার্ধক্যের কারণে দীর্ঘদিন ধরে নানা রোগে ভুগছেন তিনি।

চিকিৎসা দূরের কথা, তিনবেলা খাবার জোটানোও তার জন্য কষ্টকর। বেঁচে থেকেও আজ মৃতের শামিল তিনি। জীবনের শেষ সময়ে একটু স্বচ্ছলতার আশায় বিধবা বা বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য ধর্ণা দিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে। আশ্বাস মিললেও এখনও জোটেনি কোন কার্ড।

আনোয়ারা জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের বীর পাকেরদহ এলাকার বাসিন্দা। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ১৯৪৭ সালের ১ আগস্ট। সেই হিসাবে তার বয়স প্রায় ৭৮ বছর। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বয়স্ক ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে নারীর বয়স সর্বনিম্ন ৬২ বছর এবং পুরুষের বয়স সর্বনিম্ন ৬৫ বছর। সে অনুযায়ী আনোয়ারা বয়স্ক ভাতা পাওয়ার যোগ্য হলেও দীর্ঘদিনেও কেউ তার সহযোগিতায় এগিয়ে আসেননি।

জানা গেছে, মাদারগঞ্জ পৌরসভার কামারপাড়া এলাকার মৃত আহজ্জলের স্ত্রী আনোয়ারা। প্রায় ৪২ বছর আগে তার স্বামী মারা গেছেন। রেখে যান শুধু বাড়িভিটা ও একটি কন্যা সন্তান। অন্যের বাসা-বাড়িতে কাজ করে কোনরকমে সংসার চালান আনোয়ারা। এরপর বাড়িভিটা বিক্রি করে একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দেন উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের বীর পাকেরদহ এলাকায়। মেয়ের বিয়ের পর বিধবা আনোয়ারা মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন।

১৯ বছর আগে সেই মেয়েও মারা যান। মেয়ের জামাই অন্যত্র বিয়ে করায় আনোয়ারা একা হয় পড়েন। এরপর থেকে আনোয়ারা অন্যের বাসা-বাড়িতে থেকে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এখন তিনি আর তেমন কাজ করতে পারছেন না। প্রতিবেশীরা যা খাবার দেয়, তা খেয়েই কোনরকমে দিনপাত করছেন।

অসহায় আনোয়ারা বলেন, স্বামী, সন্তান, জায়গাজমি কিছুই নাই। এইহানে অন্যের বাড়িতে থাকি। মাইনষে আমারে খাওন-দাওন দেয়। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেইক্যা খুব কষ্টে আছি। অ্যাকটা ভাতার কার্ড পাইলে খুব উপকার হইতো।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও চরপাকেরদহ ইউনিয়নের প্রশাসক তৌফিকুল ইসলাম খালেক এ প্রতিবেদককে বলেন, বৃদ্ধা আনোয়ারা বয়স্ক ভাতার জন্য আবেদন করেছিলেন। তার আবেদনের সাথে মোবাইল নাম্বার না থাকায় ভাতা পাননি। দ্রুত তাকে বয়স্ক ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।