ঢাকা ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সুখী-সমৃদ্ধ বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী বেনজির, হাদী হত্যা মামলার সন্দেহভাজনদের প্রত্যর্পণে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভারতের দ্রুত সাড়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নবম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন না হলে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়: তথ্যমন্ত্রী গিয়াস উদ্দিন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত জুলাই শহিদ দিবস : জামালপুরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত জুলাই শহিদ দিবস : মাদারগঞ্জে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত খামারে মাটি ভরাটে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার সেতুর মুখ বন্ধ ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন রুখতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কন্যাশিশু ধর্ষণের অভিযোগে ধর্ষক জনতার হাতে আটক যোগিরঘোপায় পানিবন্দি ২০০ পরিবার পেল বিএনপির ত্রাণ সহায়তা
তিন হাজার কোটি টাকা নিয়ে উধাও ২৩ সমিতি :

ভুক্তভোগীরা করল মাদারগঞ্জ উপজেলা পরিষদ ঘেরাও, টাকা ফেরত দাবি

মাদারগঞ্জ : উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করেন সমিতির ভুক্তভোগী হাজারো আমানতকারী। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় ২৩টি সমবায় সমিতির প্রায় ৩০ হাজার প্রতারিত গ্রাহকের আমানতের টাকা ফেরত পেতে দ্বিতীয় দিনের মত উপজেলা পরিষদ ঘেরাও কর্মসূচি পালন করছেন গ্রাহকেরা। আন্দোলন চলাকালে উপজেলা পরিষদসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নাগরিক সেবা পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবাগ্রহীতারা।

২৪ জুন, মঙ্গলবার সকাল ৯টা দিকে আন্দোলনকারীরা উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ প্রতিবেদন লেখার সময় বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলছিল। ‘মাদারগঞ্জে বিভিন্ন সমবায় সমিতিতে আমানতকৃত অর্থ উদ্ধারের জন্য সহায়ক কমিটি’র ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে কয়েক হাজার ভুক্তভোগী গ্রাহক অংশ নেন।

জানা গেছে, উচ্চ মুনাফার আশায় ২৩টি সমবায় সমিতিতে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা জমা করেছিলেন প্রায় ৩০ হাজার গ্রাহক। প্রথম দিকে সমিতিগুলো গ্রাহকদের উচ্চ মুনাফা দিলেও ২০২২ সালের শেষের দিকে আমানতের টাকা ফেরত না দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালকরা আত্মগোপনে চলে যেতে শুরু করেন। এরপর থেকে প্রতারিত গ্রাহকেরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না।

মাদারগঞ্জ : উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করেন সমিতির ভুক্তভোগী হাজারো আমানতকারী। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সমবায় সমিতির পরিচালকেরা আত্মগোপনে যাওয়ার পর গ্রাহকেরা মাদারগঞ্জ থানা ও জামালপুরের আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করেছেন। জেলা প্রশাসক, জেলা সমবায় কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার অভিযোগ দিয়েছেন। তবুও আমানতের টাকা উদ্ধারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ গ্রাহকদের।

উপজেলার কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, ২৪ জুন, মঙ্গলবার সকালে তারা অফিসে এলেও উপজেলা পরিষদ ভবনের ফটকে বিভিন্ন সমবায় সমিতির গ্রাহকেরা অবস্থান নেয়ায় ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি এবং একপর্যায়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা গার্মেন্টস শ্রমিক লিটন মিয়া বলেন, নতুন ভোটার হয়েছি। অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড পাওয়া যাচ্ছে না। তাই দুদিনের ছুটি নিয়ে ভোটার আইডি কার্ড নিতে আসছি। গতকালও এসে দেখি অফিস তালাবদ্ধ। আজও সেই অবস্থা। গার্মেন্টসের অফিসে যদি ভোটার আইডি কার্ড জমা দিতে না পারি তাহলে আমাকে চাকরি থেকে বের করে দিবে।

উপজেলা সাব রেজিস্ট্রিার কার্যালয়ে আসা মমিনুর রহমান বলেন, জমির দলিলের নকল নিতে এসেছি। দেখি সব বন্ধ। সব অফিস তালা মেরে রেখেছে। সাধারণ মানুষ বিভিন্ন অফিসে সেবা নিতে এসে ফেরত যাচ্ছেন। এগুলোর একটা সমাধান করা দরকার।

শতদল সমবায় সমিতির প্রতারিত গ্রাহক সোলাইমান হোসেন বলেন, আমরা দ্বিতীয় দিনের মত কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছি। এর আগেও আমরা আন্দোলন করেছি। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মিথ্যা আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনে কর্মকর্তারা দেড় মাসেও তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি। আমাদের পীঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এবার দাবি মানা না হলে আমরা আমাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাব।

এ বিষয়ে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির শাহের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সুখী-সমৃদ্ধ বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

তিন হাজার কোটি টাকা নিয়ে উধাও ২৩ সমিতি :

ভুক্তভোগীরা করল মাদারগঞ্জ উপজেলা পরিষদ ঘেরাও, টাকা ফেরত দাবি

আপডেট সময় ০৭:৫০:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় ২৩টি সমবায় সমিতির প্রায় ৩০ হাজার প্রতারিত গ্রাহকের আমানতের টাকা ফেরত পেতে দ্বিতীয় দিনের মত উপজেলা পরিষদ ঘেরাও কর্মসূচি পালন করছেন গ্রাহকেরা। আন্দোলন চলাকালে উপজেলা পরিষদসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নাগরিক সেবা পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবাগ্রহীতারা।

২৪ জুন, মঙ্গলবার সকাল ৯টা দিকে আন্দোলনকারীরা উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ প্রতিবেদন লেখার সময় বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলছিল। ‘মাদারগঞ্জে বিভিন্ন সমবায় সমিতিতে আমানতকৃত অর্থ উদ্ধারের জন্য সহায়ক কমিটি’র ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে কয়েক হাজার ভুক্তভোগী গ্রাহক অংশ নেন।

জানা গেছে, উচ্চ মুনাফার আশায় ২৩টি সমবায় সমিতিতে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা জমা করেছিলেন প্রায় ৩০ হাজার গ্রাহক। প্রথম দিকে সমিতিগুলো গ্রাহকদের উচ্চ মুনাফা দিলেও ২০২২ সালের শেষের দিকে আমানতের টাকা ফেরত না দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালকরা আত্মগোপনে চলে যেতে শুরু করেন। এরপর থেকে প্রতারিত গ্রাহকেরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না।

মাদারগঞ্জ : উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করেন সমিতির ভুক্তভোগী হাজারো আমানতকারী। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সমবায় সমিতির পরিচালকেরা আত্মগোপনে যাওয়ার পর গ্রাহকেরা মাদারগঞ্জ থানা ও জামালপুরের আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করেছেন। জেলা প্রশাসক, জেলা সমবায় কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার অভিযোগ দিয়েছেন। তবুও আমানতের টাকা উদ্ধারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ গ্রাহকদের।

উপজেলার কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, ২৪ জুন, মঙ্গলবার সকালে তারা অফিসে এলেও উপজেলা পরিষদ ভবনের ফটকে বিভিন্ন সমবায় সমিতির গ্রাহকেরা অবস্থান নেয়ায় ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি এবং একপর্যায়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা গার্মেন্টস শ্রমিক লিটন মিয়া বলেন, নতুন ভোটার হয়েছি। অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড পাওয়া যাচ্ছে না। তাই দুদিনের ছুটি নিয়ে ভোটার আইডি কার্ড নিতে আসছি। গতকালও এসে দেখি অফিস তালাবদ্ধ। আজও সেই অবস্থা। গার্মেন্টসের অফিসে যদি ভোটার আইডি কার্ড জমা দিতে না পারি তাহলে আমাকে চাকরি থেকে বের করে দিবে।

উপজেলা সাব রেজিস্ট্রিার কার্যালয়ে আসা মমিনুর রহমান বলেন, জমির দলিলের নকল নিতে এসেছি। দেখি সব বন্ধ। সব অফিস তালা মেরে রেখেছে। সাধারণ মানুষ বিভিন্ন অফিসে সেবা নিতে এসে ফেরত যাচ্ছেন। এগুলোর একটা সমাধান করা দরকার।

শতদল সমবায় সমিতির প্রতারিত গ্রাহক সোলাইমান হোসেন বলেন, আমরা দ্বিতীয় দিনের মত কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছি। এর আগেও আমরা আন্দোলন করেছি। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মিথ্যা আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনে কর্মকর্তারা দেড় মাসেও তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি। আমাদের পীঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এবার দাবি মানা না হলে আমরা আমাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাব।

এ বিষয়ে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির শাহের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।