ঢাকা ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রবীন্দ্রনাথ শুধু সাহিত্যিক নন, সমাজ ও সভ্যতার গভীর পর্যবেক্ষক ছিলেন : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী মির্জা ফখরুলসহ ১৫ জন পাচ্ছেন ‘আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি স্বর্ণপদক ২০২৬’ মানবতাবিরোধী কোনো অপরাধকে তামাদি হতে দেবে না সরকার : তথ্যমন্ত্রী বিবাহের আগে ছেলে-মেয়ে থ্যালাসিমিয়ার বাহক কিনা তা জানা জরুরি : সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী জুলাই জাতীয় সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবো : নজরুল ইসলাম খান গাঁজা সেবনের দায়ে বাবা-ছেলেকে কারাদণ্ড জামালপুরে রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস উদযাপিত হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত সহায়তা প্রদানের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে : আসাদুল হাবিব দুলু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে জার্মান রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

ইসরাইলের ভয়াবহ হামলায় গাজায় ৯ জন নিহত, ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ক্ষতিগ্রস্ত

গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে যে, ১৫ মার্চ শনিবার বেইত লাহিয়া এলাকায় ইসরাইলের ভয়াবহ হামলায় সাংবাদিকসহ নয়জন নিহত এবং অনেকে আহত হয়েছেন। এই হামলা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে আরো বিপন্ন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গাজা শহর থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

গত ১৯ জানুয়ারিতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ এই হামলার পর, হামাস ইসরাইলকে যুদ্ধবিরতির ’স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে অভিযুক্ত করেছে। যা ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধকে মূলত থামিয়ে রেখেছে।

পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে কোনও চুক্তি ছাড়াই যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ গত ১ মার্চ শেষ হয়েছে। তবে ইসরাইল এবং হামাস উভয়ই সর্বাত্মক যুদ্ধে ফিরে যাওয়া থেকে বিরত রয়েছে।

হামাসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার দোহায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, ইসরাইলও প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তার প্রতিনিধিদলকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে হামাসের সাথে পরোক্ষ আলোচনার ’প্রস্তুতি নিতে’ বলেছেন। শনিবার প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে।

শনিবার, গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল এএফপিকে জানান, ’নয়জন শহীদকে (হাসপাতালে) স্থানান্তর করা হয়েছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক এবং আল-খাইর চ্যারিটেবল অর্গানাইজেশনের বেশ কয়েকজন কর্মীও রয়েছেন’।

তিনি বলেন, ’বেইত লাহিয়া শহরে একটি ড্রোন দিয়ে একটি গাড়ি লক্ষ্য করে দখলদার ইসরাইলের হামলার ফলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এবং একই এলাকায় ইসরাইল কামান হামলাও চালিয়েছে বলে তিনি জানান।

হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে ’নয়জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের উত্তর গাজার ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, ‘বেইত লাহিয়া এলাকায় দুই সন্ত্রাসীকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তারা আইডিএফ সেনাদের জন্য হুমকিস্বরূপ একটি ড্রোন উড়িয়েছিল। পরে আরো কিছু সন্ত্রাসী ড্রোন পরিচালনার সরঞ্জাম সংগ্রহ করে একটি গাড়িতে প্রবেশ করে। তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে জানায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী।

মার্চের শুরু থেকে ইসরাইল গাজায় প্রায় প্রতিদিনই বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। প্রায়শই সামরিক বাহিনীর দাবি করে যে জঙ্গিরা বিস্ফোরক পুঁতে রেখেছিল।

হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম এক বিবৃতিতে বলেছেন, দখলদার বাহিনী যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন করে সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মীদের একটি দলকে লক্ষ্য করে উত্তর গাজা উপত্যকায় এক ভয়াবহ গণহত্যা চালিয়েছে।

হামাস এক পৃথক বিবৃতিতে এই হামলাকে ‘একটি বিপজ্জনক মাত্রায় বৃদ্ধি’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে, এটি ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে পিছু হটার (ইসরাইলের) অভিপ্রায়কে পুনরায় নিশ্চিত করে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে চুক্তিটি সম্পন্ন করার এবং বন্দী বিনিময় সম্পাদনের যেকোনো সুযোগকে বাধাগ্রস্ত করে’।

ফিলিস্তিনি সাংবাদিক সিন্ডিকেট জানিয়েছে যে, শনিবার নিহতদের মধ্যে একজন সম্পাদক এবং তিনজন ফটো সাংবাদিক রয়েছেন। বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার জানায়, একজন ড্রোন ফটোগ্রাফি বিশেষজ্ঞও রয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

রবীন্দ্রনাথ শুধু সাহিত্যিক নন, সমাজ ও সভ্যতার গভীর পর্যবেক্ষক ছিলেন : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

ইসরাইলের ভয়াবহ হামলায় গাজায় ৯ জন নিহত, ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ক্ষতিগ্রস্ত

আপডেট সময় ০৮:৩৮:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ মার্চ ২০২৫

গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে যে, ১৫ মার্চ শনিবার বেইত লাহিয়া এলাকায় ইসরাইলের ভয়াবহ হামলায় সাংবাদিকসহ নয়জন নিহত এবং অনেকে আহত হয়েছেন। এই হামলা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে আরো বিপন্ন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গাজা শহর থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

গত ১৯ জানুয়ারিতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ এই হামলার পর, হামাস ইসরাইলকে যুদ্ধবিরতির ’স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে অভিযুক্ত করেছে। যা ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধকে মূলত থামিয়ে রেখেছে।

পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে কোনও চুক্তি ছাড়াই যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ গত ১ মার্চ শেষ হয়েছে। তবে ইসরাইল এবং হামাস উভয়ই সর্বাত্মক যুদ্ধে ফিরে যাওয়া থেকে বিরত রয়েছে।

হামাসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার দোহায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, ইসরাইলও প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তার প্রতিনিধিদলকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে হামাসের সাথে পরোক্ষ আলোচনার ’প্রস্তুতি নিতে’ বলেছেন। শনিবার প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে।

শনিবার, গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল এএফপিকে জানান, ’নয়জন শহীদকে (হাসপাতালে) স্থানান্তর করা হয়েছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক এবং আল-খাইর চ্যারিটেবল অর্গানাইজেশনের বেশ কয়েকজন কর্মীও রয়েছেন’।

তিনি বলেন, ’বেইত লাহিয়া শহরে একটি ড্রোন দিয়ে একটি গাড়ি লক্ষ্য করে দখলদার ইসরাইলের হামলার ফলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এবং একই এলাকায় ইসরাইল কামান হামলাও চালিয়েছে বলে তিনি জানান।

হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে ’নয়জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের উত্তর গাজার ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, ‘বেইত লাহিয়া এলাকায় দুই সন্ত্রাসীকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তারা আইডিএফ সেনাদের জন্য হুমকিস্বরূপ একটি ড্রোন উড়িয়েছিল। পরে আরো কিছু সন্ত্রাসী ড্রোন পরিচালনার সরঞ্জাম সংগ্রহ করে একটি গাড়িতে প্রবেশ করে। তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে জানায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী।

মার্চের শুরু থেকে ইসরাইল গাজায় প্রায় প্রতিদিনই বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। প্রায়শই সামরিক বাহিনীর দাবি করে যে জঙ্গিরা বিস্ফোরক পুঁতে রেখেছিল।

হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম এক বিবৃতিতে বলেছেন, দখলদার বাহিনী যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন করে সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মীদের একটি দলকে লক্ষ্য করে উত্তর গাজা উপত্যকায় এক ভয়াবহ গণহত্যা চালিয়েছে।

হামাস এক পৃথক বিবৃতিতে এই হামলাকে ‘একটি বিপজ্জনক মাত্রায় বৃদ্ধি’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে, এটি ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে পিছু হটার (ইসরাইলের) অভিপ্রায়কে পুনরায় নিশ্চিত করে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে চুক্তিটি সম্পন্ন করার এবং বন্দী বিনিময় সম্পাদনের যেকোনো সুযোগকে বাধাগ্রস্ত করে’।

ফিলিস্তিনি সাংবাদিক সিন্ডিকেট জানিয়েছে যে, শনিবার নিহতদের মধ্যে একজন সম্পাদক এবং তিনজন ফটো সাংবাদিক রয়েছেন। বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার জানায়, একজন ড্রোন ফটোগ্রাফি বিশেষজ্ঞও রয়েছেন।