ঢাকা ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন রুখতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কন্যাশিশু ধর্ষণের অভিযোগে ধর্ষক জনতার হাতে আটক যোগিরঘোপায় পানিবন্দি ২০০ পরিবার পেল বিএনপির ত্রাণ সহায়তা শেরপুরে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কৃষি উপকরণ বিতরণ দেওয়ানগঞ্জে সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিডি ক্লিন প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ জামানত ছাড়াই ৫ কোটি টাকা ঋণ পাবে তরুণ উদ্যোক্তারা : প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এগিয়ে ইংল্যান্ড জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের কার্যক্রমকে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হেফাজ উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ

সাংবাদিকদের বিক্ষোভে উত্তাল পাকিস্তান

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নীতিমালা-বিষয়ক ডিজিটাল আইন সংশোধনের প্রতিবাদে পাকিস্তানজুড়ে শুরু হয়েছে সাংবাদিকদের তুমুল বিক্ষোভ। ২৮ জানুয়ারি মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন জায়গায় রাজপথে নামেন শত শত সাংবাদিক। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পুলিশ বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে আটক করেছে।

পাকিস্তানের পার্লামেন্টে সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়ালে ২০ লাখ রুপি জরিমানা কিংবা তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান রেখে প্রস্তাবিত এই আইন নাড়িয়ে দিয়েছে দেশটির গণমাধ্যমকে। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের ‘ইলেকট্রনিক অপরাধ প্রতিরোধ আইন-২০১৬’ তে নতুন কিছু সংশোধনীর প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। সিনেটে পাস হওয়া এই প্রস্তাব আইনে পরিণত হতে এখন শুধু প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।

তবে, এই আইনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের গণমাধ্যমকর্মীরা। তারা বলছেন, এই নতুন আইন পাস হলে তা দেশটির গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।

প্রস্তাবটি প্রত্যাহারের দাবিতে ইসলামাবাদ, করাচি এবং লাহোরে পাকিস্তান ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টের কর্মীরা বিক্ষোভ-সমাবেশ করেন। পুলিশি বাধা উপেক্ষা করেই কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন সাংবাদিকরা। তবে এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধার সম্মুখীন হন তারা।

স্থানীয় সাংবাদিকরা বলেছেন, সরকারের জারি করা এই নতুন আইনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বাক স্বাধীনতার মতো মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এখন যদি একজন সাংবাদিক কোনো প্রশ্ন করে এবং শাসকদের তা পছন্দ না হয় তবে আপনাকে গ্রেফতার করা হতে পারে। এমনকি তিন বছরের জন্য জেল এবং জরিমানাও হতে পারে।

তারা আরও বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলন শুরু হয়েছে। এতে বেশ কয়েকটি ধাপ থাকবে। আমরা পাকিস্তানের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংস্থা এবং সাংবাদিক সংগঠনকে একত্র করে সংসদের সামনে বিক্ষোভের আয়োজন করব। যতদিন পর্যন্ত এই আইন বাতিল করা না হবে ততদিন আমাদের বিক্ষোভ চলবে।

এরআগেও দেশটিতে ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স এক বছরেরও বেশি সময়ের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এবারের এই নতুন আইনও সর্বস্তরে সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টাতেই তৈরি বলে সাংবাদিকদরা অভিযোগ করেছেন।

তবে সরকারের দাবি, নতুন এই সংশোধনী দেশে ভুয়া এবং মিথ্যা খবর ছড়ানো বন্ধের জন্য করা হয়েছে। তবে সরকারের এই দাবি মানতে নারাজ সাংবাদিকরা। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের এক জরিপ অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ১৫২। এমনকি তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটি সাংবাদিকতার জন্য ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক’ দেশগুলোর একটি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন রুখতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সাংবাদিকদের বিক্ষোভে উত্তাল পাকিস্তান

আপডেট সময় ১০:২৬:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৫

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নীতিমালা-বিষয়ক ডিজিটাল আইন সংশোধনের প্রতিবাদে পাকিস্তানজুড়ে শুরু হয়েছে সাংবাদিকদের তুমুল বিক্ষোভ। ২৮ জানুয়ারি মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন জায়গায় রাজপথে নামেন শত শত সাংবাদিক। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পুলিশ বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে আটক করেছে।

পাকিস্তানের পার্লামেন্টে সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়ালে ২০ লাখ রুপি জরিমানা কিংবা তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান রেখে প্রস্তাবিত এই আইন নাড়িয়ে দিয়েছে দেশটির গণমাধ্যমকে। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের ‘ইলেকট্রনিক অপরাধ প্রতিরোধ আইন-২০১৬’ তে নতুন কিছু সংশোধনীর প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। সিনেটে পাস হওয়া এই প্রস্তাব আইনে পরিণত হতে এখন শুধু প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।

তবে, এই আইনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের গণমাধ্যমকর্মীরা। তারা বলছেন, এই নতুন আইন পাস হলে তা দেশটির গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।

প্রস্তাবটি প্রত্যাহারের দাবিতে ইসলামাবাদ, করাচি এবং লাহোরে পাকিস্তান ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টের কর্মীরা বিক্ষোভ-সমাবেশ করেন। পুলিশি বাধা উপেক্ষা করেই কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন সাংবাদিকরা। তবে এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধার সম্মুখীন হন তারা।

স্থানীয় সাংবাদিকরা বলেছেন, সরকারের জারি করা এই নতুন আইনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বাক স্বাধীনতার মতো মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এখন যদি একজন সাংবাদিক কোনো প্রশ্ন করে এবং শাসকদের তা পছন্দ না হয় তবে আপনাকে গ্রেফতার করা হতে পারে। এমনকি তিন বছরের জন্য জেল এবং জরিমানাও হতে পারে।

তারা আরও বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলন শুরু হয়েছে। এতে বেশ কয়েকটি ধাপ থাকবে। আমরা পাকিস্তানের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংস্থা এবং সাংবাদিক সংগঠনকে একত্র করে সংসদের সামনে বিক্ষোভের আয়োজন করব। যতদিন পর্যন্ত এই আইন বাতিল করা না হবে ততদিন আমাদের বিক্ষোভ চলবে।

এরআগেও দেশটিতে ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স এক বছরেরও বেশি সময়ের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এবারের এই নতুন আইনও সর্বস্তরে সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টাতেই তৈরি বলে সাংবাদিকদরা অভিযোগ করেছেন।

তবে সরকারের দাবি, নতুন এই সংশোধনী দেশে ভুয়া এবং মিথ্যা খবর ছড়ানো বন্ধের জন্য করা হয়েছে। তবে সরকারের এই দাবি মানতে নারাজ সাংবাদিকরা। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের এক জরিপ অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ১৫২। এমনকি তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটি সাংবাদিকতার জন্য ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক’ দেশগুলোর একটি।