ঢাকা ১০:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামালপুরে শুরা অধিবেশনে মোস্তফা সভাপতি, সুলতান সেক্রেটারি সংগীত ব্যক্তিত্ব টিপু স্মরণে ‘তুমি ছিলে তুমি থাকবে’ বকশীগঞ্জে ভারতীয় কসমেটিকস পণ্য জব্দ, আটক ১ সরিষাবাড়ীতে ডোবার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু মেলান্দহে কল প্রকল্পের উদ্যোগে গবাদি প্রাণী পালন বিষয়ক প্রশিক্ষণ জামালপুরে দ্বিতীয় হিফযুল কুরআন ও ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে জামালপুরে জামায়াতের গণমিছিল জামালপুরের কৃতী সন্তান আইনজীবী হুমায়ুন করিম ফের অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল নিযুক্ত ইসলামপুরে ভয়াবহ নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা মাদারগঞ্জে সোনালি আঁশে ফিরছে সুদিন, দামে খুশি কৃষক

জামালপুরে দ্বিতীয় হিফযুল কুরআন ও ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

জামালপুর : হিফযুল কুরআন ও ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে অতিথি ও অংশগ্রহণকারীবৃন্দ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

ইসলামি শিক্ষা ও ইসলামি সংস্কৃতিচর্চা এবং বিকাশের লক্ষ্যে জামালপুরে দ্বিতীয় বারের মত আয়োজন করা হয় হিফযুল কুরআন ও ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতা উপলক্ষে ১ আগস্ট, শনিবার জামালপুর সদর উপজেলার ঘোড়াধাপ ইউনিয়নের কটারবাড়ী এলাকায় দারুস সুন্নাহ সালাফিয়া মাদরাসায় দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ইসলামিক স্কলারসহ জামালপুর ও আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে অর্ধশতাধিক মাদরাসার হাজারও শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে মাদরাসা প্রাঙ্গণ।

জামালপুর সদর উপজেলার ঘোড়াধাপ ইউনিয়নের কটারবাড়ী এলাকার দারুস সুন্নাহ সালাফিয়া মাদরাসায় ময়মনসিংহ বিভাগের অর্ধশতাধিক স্কলার, জামালপুর ছাড়াও কুড়িগ্রাম, শেরপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা জেলার মাদরাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাধারণ মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

গত বছর সফল আয়োজনের পর এবারো দ্বিতীয় বারের মত আয়োজন করা হয় এই হিফযুল কোরআন ও ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সৌদি আরবের অন্তত ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ময়মনসিংহ বিভাগের স্কলারদের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ইসলামি একাডেমিক বিষয় ছাড়াও ইসলামি সংস্কৃতির বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

৫১টি মাদরাসার সাড়ে ৭০০ প্রতিযোগী মোট ১২টি বিষয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তবে এবারই প্রথম মহিলা শিক্ষার্থীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছে। দারুস সুন্নাহ সালাফিয়া মাদরাসা ও মসজিদের বিভিন্ন কক্ষে ক্বিরাত, হিফযুল কুরআন, হিফযুল হাদিস, বাংলা, আরবি, ইংরেজি ভাষায় বক্তব্য, আকিদাহ ও গ্রন্থপাঠ বিষয়ে বিভিন্ন শ্রেণিভিত্তিক মোট ১২টি বিষয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

জামালপুর : হিফযুল কুরআন ও ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে অতিথি ও অংশগ্রহণকারীবৃন্দ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকমপ্রতিযোগীরা বেশ উৎসাহ নিয়ে প্রতিযোগিতাগুলোতে অংশ নেন। স্কলারগণ বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। দ্বিতীয়বার এমন প্রতিযোগিতা আয়োজন করায় শিক্ষার্থী, স্কলারসহ সবাই বেশ উচ্ছ্বসিত। শুধু পুরস্কারের প্রত্যাশা নয়, নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে, নিজেকে যাচাই করতে, ইসলামি শিক্ষা ও ইসলামি সংস্কৃতি চর্চা এবং বিকাশ, পাশাপাশি ইসলামি সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সর্বোপরি মুসলিমদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তুলতে প্রতি বছর এমন আয়োজন করার অনুরোধ জানান আগত সবাই।

প্রতিযোগিতা শেষে মাদরাসা প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন দারুস সুন্নাহ সালাফিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ ড. শেখ সাদী বিন আব্দুর রশিদ মাদানি। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদিসের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ ফারুক সালাফী। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন দারুস সুন্নাহ সালাফিয়া মাদরাসার সভাপতি শাইখ মো. আব্দুল ওয়াহাব। এতে প্রধান আলোচক বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদিসের সহ-সভাপতি শাইখ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান মাদানিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

সৌদি আরবে অধ্যয়নরত ময়মনসিংহ বিভাগীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ বিন আব্দুল্লাহ বলেন, গত বছরের আয়োজনটি সার্থক ও সফল হওয়ায় এবারো হিফযুল কুরআন ও ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগ ছাড়াও অন্যান্য জেলার দূর-দূরান্ত থেকে ৫১টি মাদরাসার সাড়ে ৭০০ প্রতিযোগী অংশ নিয়েছে। এবারই প্রথম ১০টি মহিলা মাদরাসার শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছে। প্রতি বছরই এই আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

হিফযুল কুরআন ও ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন নিয়ে দারুস সুন্নাহ সালাফিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. শেখ সাদী বিন আব্দুর রশিদ মাদানি বলেন, সৌদি আরবের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্ররা ছুটিতে এসে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন। এবারের প্রতিযোগিতায় আগের বারের চেয়ে আরও বেশি সাড়া পেয়েছি। ছেলেদের পাশাপাশি মহিলা মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও এবার অংশগ্রহণ করেছে। যা প্রতিযোগিতার নতুন দিক।

তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্মকে কুরআন সুন্নাহ ও ইসলামি সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট করা প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য। কুরআন সুন্নাহ অনুযায়ী সুন্দর সমাজ ও জীবন গঠন এবং শুধু বাংলাদেশ নয় সৌদি আরবের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ নিয়ে পড়াশোনায় আগ্রহ তৈরি করতেই এই আয়োজন। এর ফলে ইসলামি সংস্কৃতি ও ইসলামের আলো ছড়িয়ে পড়বে সর্বত্র।

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে শুরা অধিবেশনে মোস্তফা সভাপতি, সুলতান সেক্রেটারি

জামালপুরে দ্বিতীয় হিফযুল কুরআন ও ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় ০৯:৪২:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

ইসলামি শিক্ষা ও ইসলামি সংস্কৃতিচর্চা এবং বিকাশের লক্ষ্যে জামালপুরে দ্বিতীয় বারের মত আয়োজন করা হয় হিফযুল কুরআন ও ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতা উপলক্ষে ১ আগস্ট, শনিবার জামালপুর সদর উপজেলার ঘোড়াধাপ ইউনিয়নের কটারবাড়ী এলাকায় দারুস সুন্নাহ সালাফিয়া মাদরাসায় দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ইসলামিক স্কলারসহ জামালপুর ও আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে অর্ধশতাধিক মাদরাসার হাজারও শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে মাদরাসা প্রাঙ্গণ।

জামালপুর সদর উপজেলার ঘোড়াধাপ ইউনিয়নের কটারবাড়ী এলাকার দারুস সুন্নাহ সালাফিয়া মাদরাসায় ময়মনসিংহ বিভাগের অর্ধশতাধিক স্কলার, জামালপুর ছাড়াও কুড়িগ্রাম, শেরপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা জেলার মাদরাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাধারণ মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

গত বছর সফল আয়োজনের পর এবারো দ্বিতীয় বারের মত আয়োজন করা হয় এই হিফযুল কোরআন ও ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সৌদি আরবের অন্তত ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ময়মনসিংহ বিভাগের স্কলারদের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ইসলামি একাডেমিক বিষয় ছাড়াও ইসলামি সংস্কৃতির বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

৫১টি মাদরাসার সাড়ে ৭০০ প্রতিযোগী মোট ১২টি বিষয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তবে এবারই প্রথম মহিলা শিক্ষার্থীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছে। দারুস সুন্নাহ সালাফিয়া মাদরাসা ও মসজিদের বিভিন্ন কক্ষে ক্বিরাত, হিফযুল কুরআন, হিফযুল হাদিস, বাংলা, আরবি, ইংরেজি ভাষায় বক্তব্য, আকিদাহ ও গ্রন্থপাঠ বিষয়ে বিভিন্ন শ্রেণিভিত্তিক মোট ১২টি বিষয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

জামালপুর : হিফযুল কুরআন ও ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে অতিথি ও অংশগ্রহণকারীবৃন্দ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকমপ্রতিযোগীরা বেশ উৎসাহ নিয়ে প্রতিযোগিতাগুলোতে অংশ নেন। স্কলারগণ বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। দ্বিতীয়বার এমন প্রতিযোগিতা আয়োজন করায় শিক্ষার্থী, স্কলারসহ সবাই বেশ উচ্ছ্বসিত। শুধু পুরস্কারের প্রত্যাশা নয়, নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে, নিজেকে যাচাই করতে, ইসলামি শিক্ষা ও ইসলামি সংস্কৃতি চর্চা এবং বিকাশ, পাশাপাশি ইসলামি সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সর্বোপরি মুসলিমদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তুলতে প্রতি বছর এমন আয়োজন করার অনুরোধ জানান আগত সবাই।

প্রতিযোগিতা শেষে মাদরাসা প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন দারুস সুন্নাহ সালাফিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ ড. শেখ সাদী বিন আব্দুর রশিদ মাদানি। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদিসের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ ফারুক সালাফী। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন দারুস সুন্নাহ সালাফিয়া মাদরাসার সভাপতি শাইখ মো. আব্দুল ওয়াহাব। এতে প্রধান আলোচক বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদিসের সহ-সভাপতি শাইখ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান মাদানিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

সৌদি আরবে অধ্যয়নরত ময়মনসিংহ বিভাগীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ বিন আব্দুল্লাহ বলেন, গত বছরের আয়োজনটি সার্থক ও সফল হওয়ায় এবারো হিফযুল কুরআন ও ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগ ছাড়াও অন্যান্য জেলার দূর-দূরান্ত থেকে ৫১টি মাদরাসার সাড়ে ৭০০ প্রতিযোগী অংশ নিয়েছে। এবারই প্রথম ১০টি মহিলা মাদরাসার শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছে। প্রতি বছরই এই আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

হিফযুল কুরআন ও ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন নিয়ে দারুস সুন্নাহ সালাফিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. শেখ সাদী বিন আব্দুর রশিদ মাদানি বলেন, সৌদি আরবের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্ররা ছুটিতে এসে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন। এবারের প্রতিযোগিতায় আগের বারের চেয়ে আরও বেশি সাড়া পেয়েছি। ছেলেদের পাশাপাশি মহিলা মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও এবার অংশগ্রহণ করেছে। যা প্রতিযোগিতার নতুন দিক।

তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্মকে কুরআন সুন্নাহ ও ইসলামি সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট করা প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য। কুরআন সুন্নাহ অনুযায়ী সুন্দর সমাজ ও জীবন গঠন এবং শুধু বাংলাদেশ নয় সৌদি আরবের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ নিয়ে পড়াশোনায় আগ্রহ তৈরি করতেই এই আয়োজন। এর ফলে ইসলামি সংস্কৃতি ও ইসলামের আলো ছড়িয়ে পড়বে সর্বত্র।