যমুনা- ব্রহ্মপুত্র নদ-নদী বিধৌত জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার চরাঞ্চলের পতিত জমিতে বেড়েছে ভুট্টা চাষ। গত বছরের চেয়ে এ বছর লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে দুই হাজার ২৬৬ হেক্টর বেশি জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে ভুট্টা চাষে অনুকূল আবহাওয়ার জন্য আশাতীত ফলনও আশা করছেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অল্প সময়ে কম খরচে কৃষকেরা লাভবান হওয়ায় ভুট্টা চাষের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। কম পুঁজি, ঝুঁকিহীন সেচ ও সার প্রয়োগের সুবিধা থাকায় কৃষকদের মাঝে ভুট্টা চাষের প্রতিযোগিতা বাড়ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে উপজেলার কুলকান্দি, বেলগাছা, সাপধরী, পাথর্শী, চিনাডুলী, পলবান্ধা, গাইবান্ধা, গোয়ালেরচর, চরগোয়ালিনী, নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ বছর পতিত জমিতে ভুট্টা চাষ বেড়েছে।
সূত্রটি আরও জানায়, যমুনা-ব্রহ্মপুত্র নদ-নদীর চরাঞ্চলের মাটি ভুট্টা চাষে উপযোগী এবং ভুট্টা চাষ কম খরচে বেশি লাভের ফসল হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে ভুট্টা চাষ। ২২ জানুয়ারি বুধবার সরেজমিনে যমুনার দুর্গম চরাঞ্চলে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল জুড়ে শুধু ভুট্টা ক্ষেত। যমুনার চরের সিন্দুরতলী গ্রামের জব্বার শেখ বলেন, ভুট্টা চাষে এক-দু’বার পানি দিলেই হয়। আগাছা পরিষ্কার করতে শ্রমিক লাগে না।
কুলকান্দী ইউনিয়নের জুবায়দুর রহমান বলেন, ভুট্টা চাষ অন্য ফসলের চেয়ে বেশি লাভজনক। ৮ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। এই ফসল চাষে তেমন কোন শ্রমিকের প্রয়োজন হয় না। কাটা-মাড়াই মেশিনে করায় খরচ আরও কমেছে। যে কারণে চরাঞ্চলের কৃষকেরা ভুট্টা চাষে ঝুঁকে পড়েছে।
ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ এল এম রেজুওয়ান এ প্রতিবেদককে বলেন, ভুট্টা চাষ একটি স্বল্প সময়ের লাভজনক ফসল। পতিত জমিতে স্বল্প সময় এবং স্বল্প খরচে লাভজনক হওয়ায় দিন দিন ভুট্টা চাষে আগ্রহী হয়েছে উঠছে চরাঞ্চলের কৃষকেরা। তাই প্রতি বছর এ অঞ্চলে ভুট্টা চাষ বাড়ছে। এ বছর ইসলামপুরে দুই হাজার ২৬৬ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ক্ষেত অনেক ভালো হয়েছে।
লিয়াকত হোসাইন লায়ন : নিজস্ব প্রতিবেদক, ইসলামপুর, বাংলারচিঠিডটকম 



















