জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্রের পক্ষে জনসমর্থন বাড়াতে লিফলেট বিতরণ এবং জনসংযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি। ১৩ জানুয়ারি সোমবার দুপুরে মেলান্দহ বাজারে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন।
এ সময় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন দোকান, ইজিবাইক ও রাস্তায় থাকা সাধারণ মানুষের হাতে লিফলেট বিতরণ করেন তারা। পরে জনসসংযোগের একটি মিছিল মেলান্দহ বাজারের প্রধান প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
লিফলেট বিতরণ শেষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য লুৎফর রহমান বলেন, জুলাই প্রক্লেমেশনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মার্চ ফর ইউনিটি করি। সেটি থেকে ঘোষণা দেই যে, দুই হাজারেরও অধিক শহীদের বিনিময়ে গত ৫ আগস্টের পরে যে সরকার গঠিত হল, তাতে দেশের নতুন একটি বাস্তবতা তৈরি হল। এই শহীদদের একটি স্বীকৃতি দরকার।
তিনি আরও বলেন, এই অভূতপূর্ব যে গণঅভূত্থান বা বিল্পব। এই বিপ্লবের একটি স্বীকৃতি দরকার। সেই স্বীকৃতির লক্ষ্যে জুলাই ঘোষণা পত্রের দাবি জানাই। সরকার আন্তরিকতার সাথে সেটিকে গ্রহণ করেছে। আমরা চাই, যে অভুত্থানটি হয়েছে, সরকার সেই অভুত্থানের একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিক। যে দুই হাজারেরও বেশি শহীদ হয়েছে, তার একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিক। পাশাপাশি যারা আহত হয়েছেন ও শহীদদের পরিবারকে যেন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, গত ১৬ বছর ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পাথরের মতো জেঁকে বসেছিল। আমরা জানি এটি একটি ফ্যাসিবাদী সংবিধানের ওপর দাঁড়িয়ে, আমরা চাই আগামীর বাংলাদেশ। সেই ফ্যাসিবাদী মুক্ত হোক, আগামীর বাংলাদেশ ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থার মুক্ত হোক।
লিফলেট বিতরণে তারা জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং দ্রæত সময়ের মধ্যে আহতদের বিনামূল্যে রাষ্ট্রীয়ভাবে সুচিকিৎসা দেওয়ার প্রতিশ্রæতি স্পষ্ট করাসহ সাতদফা দাবি তুলে ধরেন।
গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণে জামালপুর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহবায়ক মীর ইসহাক হাসান ইখলাস, জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য হিফজুর রহমান বকুল, জেলার যুগ্মআহবায়ক আফরিন জান্নাত আখি ও রাশেদুল ইসলামসংগঠক মাশরাফি, জাতীয় নাগরিক কমিটির গাজী জায়েদ ইকবাল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ফাহিম হাসান লাদেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক, মেলান্দহ, বাংলারচিঠিডটকম 



















