বাংলাদেশ সাসটেইনেবল এন্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) নব-নির্বাচিত সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেছেন, ফসিল ফুয়েল বা জীবাশ্ম জ্বালানি পৃথিবীর ক্ষতি সাধন করে। কার্বন নি:সরণ করে। জলবায়ু পরিবর্তনে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করে। অর্থাৎ জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করবো না। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করবো। আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে শতভাগ বিদ্যুৎ ব্যবহার করবো।
বাংলাদেশ সাসটেইনেবল এন্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ) এর নব-নির্বাচিত সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদকে জামালপুরের ইসলামপুরে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। ২৮ ডিসেম্বর শনিবার দুপুরে ইসলামপুর পৌর এলাকার হাসপাতাল রোডে মোস্তফা ফ্রিল্যান্সিং ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষণার্থীদের দেওয়া অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সংবর্ধিত প্রধান অতিথি মোস্তফা আল মাহমুদ।
তিনি আরও বলেন, আজকে বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবী যেদিকে এগুচ্ছে, যেহেতু আমরা জ্বালানি কিনতে পারছি না। আমাদের জ্বালানির সঙ্কট ররেছে। কাজেই আল্লাহর দেওয়া যে সূর্য্য রয়েছে। আল্লাহর দেওয়া যে আকাশ বাতাস রয়েছে। এই জায়গা থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি কিভাবে বাড়ানো যায় সেজন্য আমাদের কাজ করতে হবে। সারা পৃথিবী নেটজিরো নিয়ে কাজ করছে। আমাদেরও লক্ষ্য রয়েছে ২০৫০ সালের মধ্যে নেটজিরোতে যাওয়ার।

তিনি বলেন, আমি নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়েই ব্যবসা করি। আমি কিন্তু সারা পৃথিবীর কল্যাণের জন্যই কাজ করছি। আমি পৃথিবীকে সেফ করার জন্য। মানুষের কল্যাণের জন্যই এই সেক্টরে ব্যবসা করি। আমি আসলে নৈতিকভাবেই কাজ করছি। বিএসআরইএ সংগঠনটি আমাকে দুই বছরের জন্য সভাপতি নির্বাচিত করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে যে দায়িত্ব দিয়েছে, এজন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। সবার সহযোগিতা পেলে এই দায়িত্ব পালনে আমি সর্বদা সচেষ্ট থাকব। সকলের সকলের পরামর্শ, সমর্থন এবং সহযোগিতায় আমরা দেশের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখব বলে আশা করি।
তিনি আরও বলেন, আমি এমন কাজ করতে চাই যে, সারাদেশে সোলার সিস্টেমের মাধ্যমে ডলার সেফ হবে। দেশের রিজার্ভ বাড়বে। দেশের সুনাম হবে। ইসলামপুরের সন্তান হিসাবে আমাকে আজ আমার প্রতিষ্ঠিত অলাভজনক প্রতিষ্ঠান মোস্তফা ফ্রিল্যান্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে যে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে, আমি সবাইকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি সব সময় দেশের বেকার সমস্যা ও যুব সমাজের উন্নয়নে এবং এই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করে যাব।

ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, তোমাদের সাহস রাখতে হবে। নিজেরা কর্মক্ষম হও। এখানে শুধু ফ্রিতে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নয়। একদিন এখানে রোবট তৈরির কারখানা হবে। আমার উদ্দেশ্য মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন করা। মানুষের কল্যাণে কাজ করা। যুব সমাজ ও বেকাররা যে কাজ করলে নেশা ও মাদক থেকে দূরে থাকবে সেই কাজ আমি তোমাদের জন্য করতে চাই। প্রয়োজনে আমি ইন্সটিটিউটের জায়গায় আরও সম্প্রসারণ করবো, যাতে সারাদেশ থেকে শিক্ষার্থী এখানে এসে শিক্ষা অর্জন করতে পারে।
মোস্তফা ফ্রিল্যান্সিং ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রকৌশলী মো. আলমগীর কবীরের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ব্যবসায়ী মাহমুদুল্লাহ, ব্যবসায়ী হারুন অর রশিদ, আব্দুল্লাহ আল সিনান, শিক্ষার্থীর অভিভাবক খোরশেদ আলম, গ্রাফিক ডিজাইন ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী মো. ইউনুস, ডিজিটাল মার্কেটিং ব্যাচের শিক্ষার্থী শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান, শিক্ষার্থী সুমাইয়া তাসমিন ইরা প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মোস্তফা ফ্রিল্যান্সিং ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী, অভিভাবক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উল্লেখ যে, জামালপুরের ইসলামপুরের কৃতী সন্তান বিশিষ্ট সমাজসেবক, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা মোস্তফা আল মাহমুদ সম্প্রতি ঢাকায় দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে বাংলাদেশ টেকসই ও নবায়নযোগ্য সোলার সিস্টেম শক্তি সমিতির (বিএসআরইএ) সভাপতি নির্বাচিত হন।
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, জামালপুর, বাংলারচিঠিডটকম 



















