ঢাকা ০১:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কাজী নজরুল আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণার উৎস: প্রধানমন্ত্রী ১২ কেজি এলপিজির দাম কমলো ৩৫৭ টাকা অনলাইন জুয়া, ডিজিটাল বেটিং ও ম্যাচ ফিক্সিং ঠেকাতে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ পাস সঙ্গীত বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের মধ্যে অনন্য সেতুবন্ধ : মার্কিন রাষ্ট্রদূত এইচএসসি : দেওয়ানগঞ্জে ৩ পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত একটি সেলাইমেশিনের মাধ্যমে একজন নারী উদ্যোক্তা হিসাবে গড়ে উঠতে পারেন : রাশেদুল ইসলাম রাশেদ মাদারগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী আহত, গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ তিনটি নতুন উপজেলা ও একটি থানা অনুমোদন দিয়েছে সরকার জামালপুরের মোক্তার বৃত্তান্ত রশিদপুরে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনকালে ৬ শতাধিক প্রাণ হারিয়েছে : জাতিসংঘ প্রতিবেদন

বাংলারচিঠিডটকম ডেস্ক:

জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার অফিসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

১৬ আগস্ট শুক্রবার প্রকাশিত ‘বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ এবং অস্থিরতার প্রাথমিক বিশ্লেষণ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও আন্দোলনকারীদের দেয়া প্রতিবেদন অনুসারে, ১৬ জুলাই থেকে ১১ আগস্টের মধ্যে ৬০০ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে।

এর মধ্যে ১৬ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া, ৫ থেকে ৬ আগস্টের মধ্যে বিক্ষোভের সময় প্রায় ২৫০ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে যে, সেই সময় থেকে প্রতিশোধমূলক হামলায় নিহতদের সংখ্যা এখনও নির্ধারণ করা যায়নি। ৭ থেকে ১১ আগস্টের মধ্যে বেশ কিছু প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে যারা সহিংসতায় আহত হয়ে চিকিৎসা চলাকালীন মারা গেছে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছে বিক্ষোভকারী, পথচারী, ঘটনা কভার করা সাংবাদিক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কিছু সদস্য। হাজার হাজার বিক্ষোভকারী এবং পথচারী আহত হয়েছে। এ সময় হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসা নিতে আসা আহতদের ভিড় পরিলক্ষিত হয়েছে।

নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা সম্ভবত জানা যায়নি। কারণ কারফিউ, ইন্টারনেট বন্ধ থাকা, চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে তথ্য সংগ্রহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও, হাসপাতালগুলিকে হতাহতদের বিশদ বিবরণ দিতে বাধা দেয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বেশিরভাগ প্রাণহানি ও আহত হওয়ার জন্য দায়ী করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছাত্র সংগঠনকে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে তাজা গুলি এবং অন্যান্য অস্ত্র ব্যবহারের ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে যদিও বিক্ষোভকারীরা সশস্ত্র ছিল না বা শুধুমাত্র হালকা সশস্ত্র ছিল। নিরাপত্তা বাহিনী বেআইনিভাবে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করেছে যখন নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীরা কোন হুমকি প্রদর্শন করেনি। এতে অন্তত চারজন সাংবাদিক এবং কমপক্ষে ৩২ জন শিশু সহ অনেক আহত হয়েছে। এছাড়া অনেককে আটক করা হয়েছে যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ১২ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত শুধুমাত্র ঢাকাতেই কমপক্ষে ৪৫০,০০০ অজ্ঞাত ব্যক্তি এবং ২০০০ চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অন্তত ২৮৬টি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই বিরোধী দলের সদস্য।

বাংলাদেশে, “প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে প্রায়শই শত শত ব্যক্তিকে বেনামী” হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা ব্যাপকভাবে নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটকের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

সিভিল সার্ভিসের পদে চাকুরি লাভের ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি পুনর্বহালের লক্ষ্যে সূচিত আন্দোলন প্রাথমিকভাবে শান্তিপূর্ণ ছিল যা ২০২৪ সালের জুনের মাঝামাঝি শুরু হয়েছিল। তারপরে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা সহিংসতা ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশে দ্রুত নাটকীয় ধারাবাহিক ঘটনার মধ্যে ব্যাপক বিক্ষোভ ও অস্থিরতার পরে সরকার গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে এবং নতুন নির্বাচনের পথে উত্তরণের লক্ষ্যে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে।সূত্র:বাসস।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাজী নজরুল আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণার উৎস: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনকালে ৬ শতাধিক প্রাণ হারিয়েছে : জাতিসংঘ প্রতিবেদন

আপডেট সময় ০৮:৪৫:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৪

বাংলারচিঠিডটকম ডেস্ক:

জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার অফিসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

১৬ আগস্ট শুক্রবার প্রকাশিত ‘বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ এবং অস্থিরতার প্রাথমিক বিশ্লেষণ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও আন্দোলনকারীদের দেয়া প্রতিবেদন অনুসারে, ১৬ জুলাই থেকে ১১ আগস্টের মধ্যে ৬০০ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে।

এর মধ্যে ১৬ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া, ৫ থেকে ৬ আগস্টের মধ্যে বিক্ষোভের সময় প্রায় ২৫০ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে যে, সেই সময় থেকে প্রতিশোধমূলক হামলায় নিহতদের সংখ্যা এখনও নির্ধারণ করা যায়নি। ৭ থেকে ১১ আগস্টের মধ্যে বেশ কিছু প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে যারা সহিংসতায় আহত হয়ে চিকিৎসা চলাকালীন মারা গেছে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছে বিক্ষোভকারী, পথচারী, ঘটনা কভার করা সাংবাদিক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কিছু সদস্য। হাজার হাজার বিক্ষোভকারী এবং পথচারী আহত হয়েছে। এ সময় হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসা নিতে আসা আহতদের ভিড় পরিলক্ষিত হয়েছে।

নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা সম্ভবত জানা যায়নি। কারণ কারফিউ, ইন্টারনেট বন্ধ থাকা, চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে তথ্য সংগ্রহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও, হাসপাতালগুলিকে হতাহতদের বিশদ বিবরণ দিতে বাধা দেয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বেশিরভাগ প্রাণহানি ও আহত হওয়ার জন্য দায়ী করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছাত্র সংগঠনকে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে তাজা গুলি এবং অন্যান্য অস্ত্র ব্যবহারের ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে যদিও বিক্ষোভকারীরা সশস্ত্র ছিল না বা শুধুমাত্র হালকা সশস্ত্র ছিল। নিরাপত্তা বাহিনী বেআইনিভাবে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করেছে যখন নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীরা কোন হুমকি প্রদর্শন করেনি। এতে অন্তত চারজন সাংবাদিক এবং কমপক্ষে ৩২ জন শিশু সহ অনেক আহত হয়েছে। এছাড়া অনেককে আটক করা হয়েছে যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ১২ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত শুধুমাত্র ঢাকাতেই কমপক্ষে ৪৫০,০০০ অজ্ঞাত ব্যক্তি এবং ২০০০ চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অন্তত ২৮৬টি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই বিরোধী দলের সদস্য।

বাংলাদেশে, “প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে প্রায়শই শত শত ব্যক্তিকে বেনামী” হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা ব্যাপকভাবে নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটকের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

সিভিল সার্ভিসের পদে চাকুরি লাভের ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি পুনর্বহালের লক্ষ্যে সূচিত আন্দোলন প্রাথমিকভাবে শান্তিপূর্ণ ছিল যা ২০২৪ সালের জুনের মাঝামাঝি শুরু হয়েছিল। তারপরে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা সহিংসতা ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশে দ্রুত নাটকীয় ধারাবাহিক ঘটনার মধ্যে ব্যাপক বিক্ষোভ ও অস্থিরতার পরে সরকার গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে এবং নতুন নির্বাচনের পথে উত্তরণের লক্ষ্যে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে।সূত্র:বাসস।