ঢাকা ০৫:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেওয়ানগঞ্জে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার মাদারগঞ্জে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন যুক্তরাষ্ট্রে নিহত লিমন আন্তঃনগর ট্রেনের সময়সূচির পরিবর্তন চায় সরিষাবাড়ীবাসী জলাবদ্ধতার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চায় জামালপুর পৌরবাসী সুপেয় পানি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও অনিশ্চিত সেবা, ভোগান্তিতে পৌরবাসী স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশনের জন্য অংশীদারদের নিয়ে পরামর্শক কমিটি গঠন করা হবে : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বকশীগঞ্জে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উদযাপিত দুর্নীতির দায়ে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা সাজ্জাতুল বরখাস্ত সারাদেশে গত ২৪ ঘন্টায় হামের নতুন রোগী ৯৫, মৃত্যু ৫ খুদে শিক্ষার্থীরাই ‘আগামী দিনের ভবিষ্যৎ’ : প্রধানমন্ত্রী

শেরপুরে উদ্ধার এক্সক্লুসিভ বোমা ধ্বংস করলো সেনাবাহিনী

সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সুজন সেন, নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর
বাংলারচিঠিডটকম

শেরপুরের সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী উপজেলায় উদ্ধার হওয়া উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি এক্সক্লুসিভ বোমা (মর্টারশেল) বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তা ধ্বংস করে দিয়েছে সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। ১০ মার্চ বিকেলে ওই মর্টারশেলটি ধ্বংস করা হয়। এর আগে ৯ মার্চ বিকালে উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের কালাকুমা গ্রামের ফসলি জমির মাটির নিচ থেকে ওই বোমাটি উদ্ধার করে পুলিশ।

সূত্র জানায়, মর্টারশেলটি ধ্বংস করেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল সেনানিবাসের মেজর নাহিদ শারমিনের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। বিকেল চারটা চল্লিশ মিনিটে মর্টারশেলটি মাটির নিচে রেখে এক্সক্লুসিভ দিয়ে সচল করা হয়। পরে মর্টারশেলটির বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ সময় বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের এলাকা কেঁপে উঠে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশের ওসি বছির আহমেদ বাদল জানান, ১৯৬৭ সালে মর্টারশেলটি তৈরি করা হয়েছিল। এটি ১২০ এমএম উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি এক্সক্লুসিভ বোমা। সম্ভবত পাক-ভারত যুদ্ধের সময় অথবা মুক্তিযুদ্ধে পাকবাহিনী বোমাটি এ অঞ্চলে ফেলে রেখেছিল। কিন্তু বোমাটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় থেকে যায়।

কালাকুমা গ্রামের সোলেমান, হাসমত ও রবিউল জানায়, গত প্রায় ৮/১০ দিন আগে নূর ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ভারত থেকে নেমে আসা ভোগাই নদী থেকে নুড়ি পাথর ও বালু তোলার সময় মর্টারশেল সদৃশ্য এ বস্তুটি পায়। পরে তা সেখানেই ফেলে আসে নূর ইসলাম। এক পর্যায়ে এটি সাধারণ লোহা ভেবে এর ওজন বিবেচনা করে বিক্রির উদ্দেশে ওই ব্যক্তি তা নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে। মর্টারশেল সদৃশ্য এ বস্তুটি নূর ইসলাম তার পরিচিতজনদের দেখান। এসময় কেউ কেউ তাকে আড়াই বা তিন কেজি ওজনের বস্তুটি লোহা কেনা বেচার ব্যবসায়ীদের কাছে ২০০/৩০০ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে শোনা যায় এটি একটি বোমা। এ ঘটনায় এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় নূর ইসলাম ভয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে এলাকার আতর আলীর জমিতে তা পুঁতে রাখে। বিষয়টি জানাজানি হলে বিজিবির মাধ্যমে ৯ মার্চ বিকালে বিষয়টি থানা পুলিশ জানতে পারে। পরে পুলিশ মর্টারশেলটি উদ্ধার করে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকার চারপাশ ঘিরে রাখে।

বোমা ধ্বংসে সেনাবাহিনীর সদস্য ছাড়াও স্থানীয় বিজিবি কর্মকর্তা, নালিতাবাড়ী সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার আফরোজা নাজনীন, ওসি বছির আহমেদ বাদলসহ জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেওয়ানগঞ্জে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার

শেরপুরে উদ্ধার এক্সক্লুসিভ বোমা ধ্বংস করলো সেনাবাহিনী

আপডেট সময় ০৯:৪৩:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ মার্চ ২০২১
সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সুজন সেন, নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর
বাংলারচিঠিডটকম

শেরপুরের সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী উপজেলায় উদ্ধার হওয়া উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি এক্সক্লুসিভ বোমা (মর্টারশেল) বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তা ধ্বংস করে দিয়েছে সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। ১০ মার্চ বিকেলে ওই মর্টারশেলটি ধ্বংস করা হয়। এর আগে ৯ মার্চ বিকালে উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের কালাকুমা গ্রামের ফসলি জমির মাটির নিচ থেকে ওই বোমাটি উদ্ধার করে পুলিশ।

সূত্র জানায়, মর্টারশেলটি ধ্বংস করেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল সেনানিবাসের মেজর নাহিদ শারমিনের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। বিকেল চারটা চল্লিশ মিনিটে মর্টারশেলটি মাটির নিচে রেখে এক্সক্লুসিভ দিয়ে সচল করা হয়। পরে মর্টারশেলটির বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ সময় বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের এলাকা কেঁপে উঠে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশের ওসি বছির আহমেদ বাদল জানান, ১৯৬৭ সালে মর্টারশেলটি তৈরি করা হয়েছিল। এটি ১২০ এমএম উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি এক্সক্লুসিভ বোমা। সম্ভবত পাক-ভারত যুদ্ধের সময় অথবা মুক্তিযুদ্ধে পাকবাহিনী বোমাটি এ অঞ্চলে ফেলে রেখেছিল। কিন্তু বোমাটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় থেকে যায়।

কালাকুমা গ্রামের সোলেমান, হাসমত ও রবিউল জানায়, গত প্রায় ৮/১০ দিন আগে নূর ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ভারত থেকে নেমে আসা ভোগাই নদী থেকে নুড়ি পাথর ও বালু তোলার সময় মর্টারশেল সদৃশ্য এ বস্তুটি পায়। পরে তা সেখানেই ফেলে আসে নূর ইসলাম। এক পর্যায়ে এটি সাধারণ লোহা ভেবে এর ওজন বিবেচনা করে বিক্রির উদ্দেশে ওই ব্যক্তি তা নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে। মর্টারশেল সদৃশ্য এ বস্তুটি নূর ইসলাম তার পরিচিতজনদের দেখান। এসময় কেউ কেউ তাকে আড়াই বা তিন কেজি ওজনের বস্তুটি লোহা কেনা বেচার ব্যবসায়ীদের কাছে ২০০/৩০০ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে শোনা যায় এটি একটি বোমা। এ ঘটনায় এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় নূর ইসলাম ভয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে এলাকার আতর আলীর জমিতে তা পুঁতে রাখে। বিষয়টি জানাজানি হলে বিজিবির মাধ্যমে ৯ মার্চ বিকালে বিষয়টি থানা পুলিশ জানতে পারে। পরে পুলিশ মর্টারশেলটি উদ্ধার করে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকার চারপাশ ঘিরে রাখে।

বোমা ধ্বংসে সেনাবাহিনীর সদস্য ছাড়াও স্থানীয় বিজিবি কর্মকর্তা, নালিতাবাড়ী সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার আফরোজা নাজনীন, ওসি বছির আহমেদ বাদলসহ জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।