ঢাকা ১১:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব : রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি ও জনআস্থা সমুন্নত রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে গড়ে উঠুক আগামীর বাংলাদেশ : শিক্ষামন্ত্রী মাদারগঞ্জে সেচ পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গিয়ে কৃষকের মৃত্যু মহানবী (সা.) এর আদর্শে শান্তি-সম্প্রীতির সমাজ গড়ার আহ্বান এলজিআরডি মন্ত্রীর দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই : ত্রাণমন্ত্রী জামালপুরে জশনে জুলুসে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপিত প্রাণিসম্পদ পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বকশীগঞ্জে বসতভিটা দখলের চেষ্টাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন জামালপুরে বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে শিক্ষকদের সমন্বয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

মাদারগঞ্জের ১৫০ বছরের প্রাচীন মসজিদ

মাদারগঞ্জের ১৫০ বছরের প্রাচীন তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ।ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

মাদারগঞ্জের ১৫০ বছরের প্রাচীন তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ।ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জাহিদুর রহমান উজ্জল, মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
বাংলারচিঠিডটকম

১৫০ বছরের প্রাচীন মাদারগঞ্জের সর্বপ্রথম তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার চাঁদপুর তালুকদার বাড়িতে অবস্থিত। এই মসজিদটি সেই সময়ে এই এলাকায় ইসলাম প্রচার ও প্রসারে বড় ভূমিকা রাখে।

মসজিদটি বাংলা ১২৭৬ সালে নির্মাণ করেন জামালপুর জেলার বিশিষ্ট দানবীর মাদারগঞ্জের তালুকদার বংশের প্রতিষ্ঠাতা হাজী ফাজেল মাহমুদ তালুকদার। মসজিদটি নির্মাণের পর ১৩০৪ সালে ভয়াবহ ভূমিকম্পে তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই বছরেই আবার তা সংস্কার করা হয়। এতে ব্যয় হয় ৮ হাজার রোপ্যমুদ্রা।

মসজিদটি নির্মাণ শৈলী ছিল ইসলামি স্থাপত্যকলায়। নানান ধরনের চিত্রে ভরা ছাদ ও কলাম। তিন গম্বুজের পাশাপাশি মসজিদের চার কোণে চারটি সুদৃশ্য মিনার রয়েছে। সেই সময়কার চুন সুরকির গাঁথুনির জন্য ময়মনসিংহের আকুয়া থেকে সুদক্ষ রাজমিস্ত্রি নিয়ে আসা হয়েছিল। গম্বুজের কারুকাজ করার জন্য চীন থেকে সিরামিক টুকরো নিয়ে আসা হয়। গম্বুজের চূড়ায় বসানো হয় পিতলের কলসি।

মসজিদের কার্ণিশগুলিতে বর্ণিল স্থাপত্যকলার চিহ্ন রয়েছে। মসজিদের দরজায় রয়েছে বর্ণিল চিত্রকলা। আরবি হরফে লেখা। জানালায় রয়েছে কারুকাজময় চিত্র। কয়েকবার সংস্কারের ফলে আগের সৌন্দর্য্য অনেকাংশে ঢাকা পড়েছে।

হাজী ফাজেল মাহমুদ ১৯১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করলে মসজিদের পাশে তাঁকে সমাধিত করা হয়। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ছেলেরা এই মসজিদটি কয়েকবার সংস্কার করেন।

এই ঐতিহাসিক মসজিদটি বর্তমানে বয়সের ভারে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ছাদ ও কলাম ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে। যেকোন মুহূর্তে এটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বর্তমানে একটু বৃষ্টি হলেই ছাদ চুয়ে পানি পড়ে। এই প্রাচীন মসজিদটি প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সংরক্ষণের দাবি জানাচ্ছেন তালুকদার পরিবারসহ এলাকাবাসী।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব : রাষ্ট্রপতি

মাদারগঞ্জের ১৫০ বছরের প্রাচীন মসজিদ

আপডেট সময় ০৭:২৪:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২০
মাদারগঞ্জের ১৫০ বছরের প্রাচীন তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ।ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জাহিদুর রহমান উজ্জল, মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
বাংলারচিঠিডটকম

১৫০ বছরের প্রাচীন মাদারগঞ্জের সর্বপ্রথম তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার চাঁদপুর তালুকদার বাড়িতে অবস্থিত। এই মসজিদটি সেই সময়ে এই এলাকায় ইসলাম প্রচার ও প্রসারে বড় ভূমিকা রাখে।

মসজিদটি বাংলা ১২৭৬ সালে নির্মাণ করেন জামালপুর জেলার বিশিষ্ট দানবীর মাদারগঞ্জের তালুকদার বংশের প্রতিষ্ঠাতা হাজী ফাজেল মাহমুদ তালুকদার। মসজিদটি নির্মাণের পর ১৩০৪ সালে ভয়াবহ ভূমিকম্পে তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই বছরেই আবার তা সংস্কার করা হয়। এতে ব্যয় হয় ৮ হাজার রোপ্যমুদ্রা।

মসজিদটি নির্মাণ শৈলী ছিল ইসলামি স্থাপত্যকলায়। নানান ধরনের চিত্রে ভরা ছাদ ও কলাম। তিন গম্বুজের পাশাপাশি মসজিদের চার কোণে চারটি সুদৃশ্য মিনার রয়েছে। সেই সময়কার চুন সুরকির গাঁথুনির জন্য ময়মনসিংহের আকুয়া থেকে সুদক্ষ রাজমিস্ত্রি নিয়ে আসা হয়েছিল। গম্বুজের কারুকাজ করার জন্য চীন থেকে সিরামিক টুকরো নিয়ে আসা হয়। গম্বুজের চূড়ায় বসানো হয় পিতলের কলসি।

মসজিদের কার্ণিশগুলিতে বর্ণিল স্থাপত্যকলার চিহ্ন রয়েছে। মসজিদের দরজায় রয়েছে বর্ণিল চিত্রকলা। আরবি হরফে লেখা। জানালায় রয়েছে কারুকাজময় চিত্র। কয়েকবার সংস্কারের ফলে আগের সৌন্দর্য্য অনেকাংশে ঢাকা পড়েছে।

হাজী ফাজেল মাহমুদ ১৯১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করলে মসজিদের পাশে তাঁকে সমাধিত করা হয়। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ছেলেরা এই মসজিদটি কয়েকবার সংস্কার করেন।

এই ঐতিহাসিক মসজিদটি বর্তমানে বয়সের ভারে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ছাদ ও কলাম ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে। যেকোন মুহূর্তে এটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বর্তমানে একটু বৃষ্টি হলেই ছাদ চুয়ে পানি পড়ে। এই প্রাচীন মসজিদটি প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সংরক্ষণের দাবি জানাচ্ছেন তালুকদার পরিবারসহ এলাকাবাসী।