ঢাকা ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিলামে উঠছে সরিষাবাড়ী ক্যাবল নেটওয়ার্ক

কোয়াব জেলা শাখার সংবাদ সম্মেলন। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম

কোয়াব জেলা শাখার সংবাদ সম্মেলন। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, জামালপুর
বাংলারচিঠি ডটকম

১ কোটি ৬২ লাখ টাকার পৌরকর বকেয়ার কারণ দেখিয়ে জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভা কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুর দেড়টা থেকে সরিষাবাড়ী ক্যাবল নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রতিবাদ জানিয়েছে ক্যাবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) জামালপুর জেলা শাখা। অন্যদিকে পৌরসভার আইন অনুযায়ী পৌরসভা কর্তৃপক্ষ তাদের বকেয়া কর না পেলে আগামী দশদিনের মধ্যে সরিষাবাড়ী ক্যাবল নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের যাবতীয় কারিগরি মালামাল নিলামে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে জামালপুর শহরের বজরাপুরে অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল চারটার মধ্যে সংযোগ চালু করে না দেওয়া হলে সারা জেলায় ক্যাবল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে কোয়াবের জেলা শাখার আহবায়ক আবুদল হক তরফদার তাদের সমস্যা তুলে ধরে বলেন, সরকারি গেজেটে থাকার কথা বলে পৌরসভার মেয়র সরিষাবাড়ী উপজেলার সকল টিভি ক্যাবল গ্রাহকদের কাছ থেকে বার্ষিক শতকরা ১০ টাকা হারে অতিরিক্ত কর দাবি করেছেন। পাঁচ বছরে এক কোটি ৬২ লাখ টাকার বকেয়া দেখিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল। বকেয়া এই টাকা নাকি ক্যাবল নেটওয়ার্ক ব্যবসায়ীদেরকেই দিতে হবে। এটা মেয়রের সম্পূর্ণ একটা মনগড়া সিদ্ধান্ত। জামালপুর জেলার কোথাও ক্যাবল লাইনে টিভি দেখার জন্য কোনো গ্রাহকের কাছ থেকে পৌরকর আদায় করা হয় না। পৌর কর্তৃপক্ষ আমাদের নোটিশ দিলে তার জবাবও দিয়েছি।

এ অবস্থায় বকেয়া এক কোটি ৬২ লাখ টাকার পৌরকর পরিশোধের অজুহাতে ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুর দেড়টার দিকে সরিষাবাড়ী পৌরসভার মেয়র মো. রুকুনুজ্জামান রুকনের উপস্থিতিতে পৌরসভার কর্মচারীরা পুলিশ নিয়ে স্থানীয় শিমলাবাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ক্যাবল নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ কক্ষে অভিযান চালান। ক্যাবল নেটওয়ার্কের কর্মচারীদের জোর করে বের করে দিয়ে তারা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের রিসিভার, মডিউলার, ট্রান্সমিটার, মনিটর, আইপিএসসহ সকল কারিগরি যন্ত্রপাতি খুলে জব্দ করে পৌরসভায় নিয়ে যায়। নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দরজায় তালাও ঝুলিয়ে দিয়েছে তারা। ফলে তখন থেকেই সকল টিভি চ্যানেল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে হাজার হাজার গ্রাহক ও দর্শক টিভিতে সংবাদ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে কোয়াবের নেতৃবৃন্দ ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল চারটার মধ্যে সংযোগ চালু করে না দেওয়া হলে সারা জেলায় ক্যাবল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেন।

এদিকে সরিষাবাড়ী পৌরসভার মেয়র মো. রুকুনুজ্জামান রোকন ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলারচিঠি ডটকমকে বলেন, ২০১৪ সালের ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত সরকারি গেজেট অনুযায়ী টিভি ক্যাবল গ্রাহকদের কাছ থেকে বার্ষিক শতকরা ১০ টাকা হারে পৌরকর আদায়ের বিধান রয়েছে। কিন্তু সরিষাবাড়ীতে এ বিধান মানছে না তারা। এ নিয়ে বহুবার নোটিশ দিয়ে তাগাদা ও সতর্ক করা হয়েছে। ফলে বিগত পাঁচ বছরে প্রায় ১৩ হাজার গ্রাহকের বকেয়া পৌরকরের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৬২ লাখ টাকায়। বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় ক্যাবল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নিয়ন্ত্রণকক্ষের যাবতীয় মালামাল জব্দ করা হয়েছে। একই সাথে আগামী দশদিনের মধ্যে তারা বকেয়া পৌরকর পরিশোধ না করলে পৌরসভার আইন অনুযায়ী ওই নিয়ন্ত্রণ কক্ষের যাবতীয় কারিগরি মালামাল নিলামে বিক্রি করে বকেয়া পৌরকর সমন্বয় করা হবে।

তিনি আরও বলেন, পৌরকর ফাঁকি দিয়ে এই ব্যবসা আর করতে পারবে না কেউ। পরবর্তীতে যারাই এই নিয়ম মেনে ক্যাবলটিভি নেটওয়ার্ক ব্যবসা করবে তাদেরকেই অনুমতি দেওয়া হবে। এই পরিস্থিতি সাময়িক। এজন্য টিভি দর্শক পৌরবাসীর কাছে আমি আন্তরিকভাবে দু:খিত।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিলামে উঠছে সরিষাবাড়ী ক্যাবল নেটওয়ার্ক

আপডেট সময় ১০:৫৭:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৯
কোয়াব জেলা শাখার সংবাদ সম্মেলন। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, জামালপুর
বাংলারচিঠি ডটকম

১ কোটি ৬২ লাখ টাকার পৌরকর বকেয়ার কারণ দেখিয়ে জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভা কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুর দেড়টা থেকে সরিষাবাড়ী ক্যাবল নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রতিবাদ জানিয়েছে ক্যাবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) জামালপুর জেলা শাখা। অন্যদিকে পৌরসভার আইন অনুযায়ী পৌরসভা কর্তৃপক্ষ তাদের বকেয়া কর না পেলে আগামী দশদিনের মধ্যে সরিষাবাড়ী ক্যাবল নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের যাবতীয় কারিগরি মালামাল নিলামে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে জামালপুর শহরের বজরাপুরে অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল চারটার মধ্যে সংযোগ চালু করে না দেওয়া হলে সারা জেলায় ক্যাবল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে কোয়াবের জেলা শাখার আহবায়ক আবুদল হক তরফদার তাদের সমস্যা তুলে ধরে বলেন, সরকারি গেজেটে থাকার কথা বলে পৌরসভার মেয়র সরিষাবাড়ী উপজেলার সকল টিভি ক্যাবল গ্রাহকদের কাছ থেকে বার্ষিক শতকরা ১০ টাকা হারে অতিরিক্ত কর দাবি করেছেন। পাঁচ বছরে এক কোটি ৬২ লাখ টাকার বকেয়া দেখিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল। বকেয়া এই টাকা নাকি ক্যাবল নেটওয়ার্ক ব্যবসায়ীদেরকেই দিতে হবে। এটা মেয়রের সম্পূর্ণ একটা মনগড়া সিদ্ধান্ত। জামালপুর জেলার কোথাও ক্যাবল লাইনে টিভি দেখার জন্য কোনো গ্রাহকের কাছ থেকে পৌরকর আদায় করা হয় না। পৌর কর্তৃপক্ষ আমাদের নোটিশ দিলে তার জবাবও দিয়েছি।

এ অবস্থায় বকেয়া এক কোটি ৬২ লাখ টাকার পৌরকর পরিশোধের অজুহাতে ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুর দেড়টার দিকে সরিষাবাড়ী পৌরসভার মেয়র মো. রুকুনুজ্জামান রুকনের উপস্থিতিতে পৌরসভার কর্মচারীরা পুলিশ নিয়ে স্থানীয় শিমলাবাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ক্যাবল নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ কক্ষে অভিযান চালান। ক্যাবল নেটওয়ার্কের কর্মচারীদের জোর করে বের করে দিয়ে তারা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের রিসিভার, মডিউলার, ট্রান্সমিটার, মনিটর, আইপিএসসহ সকল কারিগরি যন্ত্রপাতি খুলে জব্দ করে পৌরসভায় নিয়ে যায়। নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দরজায় তালাও ঝুলিয়ে দিয়েছে তারা। ফলে তখন থেকেই সকল টিভি চ্যানেল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে হাজার হাজার গ্রাহক ও দর্শক টিভিতে সংবাদ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে কোয়াবের নেতৃবৃন্দ ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল চারটার মধ্যে সংযোগ চালু করে না দেওয়া হলে সারা জেলায় ক্যাবল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেন।

এদিকে সরিষাবাড়ী পৌরসভার মেয়র মো. রুকুনুজ্জামান রোকন ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলারচিঠি ডটকমকে বলেন, ২০১৪ সালের ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত সরকারি গেজেট অনুযায়ী টিভি ক্যাবল গ্রাহকদের কাছ থেকে বার্ষিক শতকরা ১০ টাকা হারে পৌরকর আদায়ের বিধান রয়েছে। কিন্তু সরিষাবাড়ীতে এ বিধান মানছে না তারা। এ নিয়ে বহুবার নোটিশ দিয়ে তাগাদা ও সতর্ক করা হয়েছে। ফলে বিগত পাঁচ বছরে প্রায় ১৩ হাজার গ্রাহকের বকেয়া পৌরকরের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৬২ লাখ টাকায়। বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় ক্যাবল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নিয়ন্ত্রণকক্ষের যাবতীয় মালামাল জব্দ করা হয়েছে। একই সাথে আগামী দশদিনের মধ্যে তারা বকেয়া পৌরকর পরিশোধ না করলে পৌরসভার আইন অনুযায়ী ওই নিয়ন্ত্রণ কক্ষের যাবতীয় কারিগরি মালামাল নিলামে বিক্রি করে বকেয়া পৌরকর সমন্বয় করা হবে।

তিনি আরও বলেন, পৌরকর ফাঁকি দিয়ে এই ব্যবসা আর করতে পারবে না কেউ। পরবর্তীতে যারাই এই নিয়ম মেনে ক্যাবলটিভি নেটওয়ার্ক ব্যবসা করবে তাদেরকেই অনুমতি দেওয়া হবে। এই পরিস্থিতি সাময়িক। এজন্য টিভি দর্শক পৌরবাসীর কাছে আমি আন্তরিকভাবে দু:খিত।