ঢাকা ০৭:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
একজন দক্ষ কর্মী রাষ্ট্রের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে : পুলিশ সুপার ফারাহানা ইসলামপুর প্রেসক্লাবে ডেইলি বাংলাদেশ পোর্টালের সম্পাদক শাহিদকে সংবর্ধনা সাংবাদিক আলিফ হত্যার প্রতিবাদে দেওয়ানগঞ্জে মানববন্ধন জনগণকে দেওয়া সকল প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে বিএনপি : সংসদ সদস্য শামীম তালুকদার প্রকৃতি রক্ষার বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনের উপায় খুঁজতে আর্মেনিয়ায় জাতিসংঘ সম্মেলন শুরু ট্রাম্পের সমালোচনার মুখে উত্তেজনা প্রশমনে মার্কিন দূতদের সঙ্গে জেলেনস্কির আলোচনা জেলেনস্কির সমালোচনায় ট্রাম্প, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই মাদারগঞ্জে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন এমপি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বস্তুনিষ্ঠতা এবং পেশাদারিত্ব কালবেলাকে শীর্ষে নিয়ে গেছে : অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াহিয়া মামুন। জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার : প্রধানমন্ত্রী

যমুনায় বালু উত্তোলন নিয়ে সরিষাবাড়ীতে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

সরিষাবাড়ী : হামলায় আহতদের ভর্তি করা হয় সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম 

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পিংনা ইউনিয়নে যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও এলাকাগত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। তখন বালুভর্তি এমবি আব্দুল্লাহ বায়েজিদ পরিবহনের একটি বাল্কহেড জব্দ করে পুলিশ। জব্দ করা বাল্কহেডটি ৩০ আগস্ট, রবিবার বালুখেকোরা সরিয়ে নিতে চেষ্টার সময় তিনজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী। পরে তারাকান্দি তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ তিনজনকে আটক করে থাকায় পাঠায়।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে আটক হারুনুর রশিদ, মাহবুল ইসলাম ও আজম মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর হোসেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের রসপাল মৌজায় যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করে আসছিল সুভাষ সরকারসহ অনেকেই। এলাকায় কৃষিজমি রক্ষায় সুভাষ সরকারকে নদী থেকে বালু উত্তোলনে বাঁধা ও মানববন্ধন করে স্থানীয় মাজহারুল ইসলাম মুকুল, আনিছুর রহমানসহ স্থানীয় এলাকাবাসী। এ নিয়ে সুভাষ সরকারের সাথে স্থানীয় মাজহারুল ইসলাম মুকুল, আনিছুর রহমানসহ গ্রামবাসীর মধ্যে বিরোধ বাঁধে।

এদিকে ২৯ আগস্ট, শনিবার সন্ধ্যার দিকে সুভাষ সরকার বালুভর্তি একটি বাল্কহেড নিয়ে কাওয়ামারা এলাকায় রওনা দেয়। তখন স্থানীয় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই বালুভর্তি বাল্কহেডের ইঞ্জিনে আগুন ধরিয়ে দেয়। দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কাওয়ামারা বটতলা এলাকায় সুভাষ সরকার ও তার পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হন।

আহতরা হলেন- মাজহারুল ইসলাম মুকুল, আনিছুর রহমান আনিছ, মাসুদ মিয়া, চান মিয়া, বাবু মিয়া, হুমায়ুন আহমেদ, বায়েজিদ, শিবলু মিয়া, সাবেক ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম ও সুভাষ সরকার। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত চারজনকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আশরাফুল নাহার বৃষ্টি।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাজহারুল ইসলাম মুকুল অভিযোগ করে জানান, সুভাষ সরকার ও তার লোকজন প্রভাব খাটিয়ে রসপাল মৌজায় জেগে উঠায় ভূমি ও কৃষকের আবাদি জমির আশপাশ থেকে বালু উত্তোলন করে আসছিলেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও এলাকাবাসী বালু উত্তোলনে বাঁধা ও মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানান। এতে সুভাষ ক্ষিপ্ত হয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের উপর রাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এই ঘটনায় বিচার দাবি জানান তিনি।

অভিযোগ অস্বীকার করে সুভাষ সরকার এই প্রতিবেদককে জানান, কাজীপুর থেকে বালুভর্তি বাল্কহেডটি সরিষাবাড়ীর দিকে আসার পর তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে উল্টো তাদের উপর হামলা করা হয় বলে জানান তিনি।

সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন এই প্রতিবেদককে বলেন, নদী থেকে বালু উত্তোলন নিয়ে মারামারির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। ঘটনা সম্পর্কে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

একজন দক্ষ কর্মী রাষ্ট্রের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে : পুলিশ সুপার ফারাহানা

যমুনায় বালু উত্তোলন নিয়ে সরিষাবাড়ীতে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

আপডেট সময় ১০:৩৫:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পিংনা ইউনিয়নে যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও এলাকাগত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। তখন বালুভর্তি এমবি আব্দুল্লাহ বায়েজিদ পরিবহনের একটি বাল্কহেড জব্দ করে পুলিশ। জব্দ করা বাল্কহেডটি ৩০ আগস্ট, রবিবার বালুখেকোরা সরিয়ে নিতে চেষ্টার সময় তিনজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী। পরে তারাকান্দি তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ তিনজনকে আটক করে থাকায় পাঠায়।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে আটক হারুনুর রশিদ, মাহবুল ইসলাম ও আজম মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর হোসেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের রসপাল মৌজায় যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করে আসছিল সুভাষ সরকারসহ অনেকেই। এলাকায় কৃষিজমি রক্ষায় সুভাষ সরকারকে নদী থেকে বালু উত্তোলনে বাঁধা ও মানববন্ধন করে স্থানীয় মাজহারুল ইসলাম মুকুল, আনিছুর রহমানসহ স্থানীয় এলাকাবাসী। এ নিয়ে সুভাষ সরকারের সাথে স্থানীয় মাজহারুল ইসলাম মুকুল, আনিছুর রহমানসহ গ্রামবাসীর মধ্যে বিরোধ বাঁধে।

এদিকে ২৯ আগস্ট, শনিবার সন্ধ্যার দিকে সুভাষ সরকার বালুভর্তি একটি বাল্কহেড নিয়ে কাওয়ামারা এলাকায় রওনা দেয়। তখন স্থানীয় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই বালুভর্তি বাল্কহেডের ইঞ্জিনে আগুন ধরিয়ে দেয়। দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কাওয়ামারা বটতলা এলাকায় সুভাষ সরকার ও তার পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হন।

আহতরা হলেন- মাজহারুল ইসলাম মুকুল, আনিছুর রহমান আনিছ, মাসুদ মিয়া, চান মিয়া, বাবু মিয়া, হুমায়ুন আহমেদ, বায়েজিদ, শিবলু মিয়া, সাবেক ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম ও সুভাষ সরকার। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত চারজনকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আশরাফুল নাহার বৃষ্টি।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাজহারুল ইসলাম মুকুল অভিযোগ করে জানান, সুভাষ সরকার ও তার লোকজন প্রভাব খাটিয়ে রসপাল মৌজায় জেগে উঠায় ভূমি ও কৃষকের আবাদি জমির আশপাশ থেকে বালু উত্তোলন করে আসছিলেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও এলাকাবাসী বালু উত্তোলনে বাঁধা ও মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানান। এতে সুভাষ ক্ষিপ্ত হয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের উপর রাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এই ঘটনায় বিচার দাবি জানান তিনি।

অভিযোগ অস্বীকার করে সুভাষ সরকার এই প্রতিবেদককে জানান, কাজীপুর থেকে বালুভর্তি বাল্কহেডটি সরিষাবাড়ীর দিকে আসার পর তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে উল্টো তাদের উপর হামলা করা হয় বলে জানান তিনি।

সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন এই প্রতিবেদককে বলেন, নদী থেকে বালু উত্তোলন নিয়ে মারামারির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। ঘটনা সম্পর্কে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।