জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে সাইফুল খান নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ।
২৫ মে, সোমবার রাতে ভুক্তভোগী ওই তরুণীর মায়ের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওই তরুণী একজন কলেজছাত্রী। আটক সাইফুল ইসলাম উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের ভাটারা গ্রামের মাহাবুবুল আলম চান খানের ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে মানিক মিয়া নাহিদ দীর্ঘদিন ধরে ওই তরুণীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে বিয়ের প্রস্তাবও দেন। কিন্তু তরুণীর পরিবার বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় মানিক মিয়া নাহিদ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। কৌশলে ওই তরুণীর চাচা সাইফুল খানকে তরুণীর পরিবারের সাথে যোগাযোগ রাখার কাজে নিয়োজিত করেন মানিক মিয়া নাহিদ। ওই তরুণী রাজধানী ঢাকায় তার বাবা-মায়ের সাথে থাকেন।
এদিকে তরুণীর জন্ম নিবন্ধনের প্রয়োজন হওয়ায় চাচা সাইফুল খানকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্ম নিবন্ধন তুলে রাখতে বলেন। ২১ মে, বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে জন্ম নিবন্ধন নিতে ওই তরুণী ভাটারা বাজারে আসেন। এ সময় সাইফুল খান জন্ম নিবন্ধনের কপি দেওয়ার কথা বলে কৌশলে স্থানীয় কাজি শামীম হোসেনের অফিসে নিয়ে যান। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার স্বাক্ষর নেন।
এরপর সিএনজিযোগে ওই তরুণীকে উঠিয়ে পৌরসভার ইস্পাহানি এলাকায় চারতলা বাসায় একটি কক্ষে নিয়ে যান মানিক মিয়া নাহিদ ও সাইফুল খানসহ কয়েকজন। এরপর টানা পাঁচদিন বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে মানিক মিয়া নাহিদ।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা সাতজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাইফুল খানকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই তরুণী একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কাজি শামীম হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, ওই তরুণীর সাথে তার মা-বাবার সম্পর্ক ভাল যাচ্ছিল না। অভিভাবক হিসাবে তার চাচা সাইফুল খানের সাথে ছিলেন। তাই বিয়ের নিবন্ধন করানো হয়। থানায় মামলা হয়েছে কিনা জানি না।
এ ব্যাপারে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, ওই তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে তার মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার দ্বিতীয় আসামি সাইফুল খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আজ (২৬ মে, মঙ্গলবার) দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মমিনুল ইসলাম কিসমত : নিজস্ব প্রতিবেদক, সরিষাবাড়ী, বাংলারচিঠিডটকম 



















