গ্যাস সংকটে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সারকারখানায় ফের ইউরিয়া সার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি, রবিবার বিকালে যমুনা সার কারখানার উপ-প্রধান প্রকৌশলী (রসায়ন) ফজলুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
যমুনা সারকারখানা সূত্রে জানা যায়, জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দানাদার ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সারকারখানা। শুরু থেকে দৈনিক এক হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন করে আসছিল কারখানাটি। ২০২৪ সালে ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজারে উৎপাদন নিরবিচ্ছিন্ন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে ওই বছরের ১৫ জানুয়ারি থেকে যমুনা সারকারখানা গ্যাসের চাপ কমিয়ে দেয় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন আন্ড ডিস্ট্রিবিউশর কোম্পানি। এতে ২৩ মাস পুরোপুরি বন্ধ থাকে যমুনায় ইউরিয়া উৎপাদন। গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু করলেও বিভিন্ন সময় যান্ত্রিক ত্রুটিতে একাধিক বার বন্ধ থাকে ইউরিয়া উৎপাদন।
এদিকে ১৫ ফেব্রুয়ারি সকালে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন আন্ড ডিস্ট্রিবিউশর কোম্পানি ফের যমুনা সারকারখানায় গ্যাসের চাপ কমিয়ে দিলে ইউরিয়া উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রাখে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
এদিকে যমুনার সার জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাংগাইল, রাজবাড়ি ছাড়াও উত্তরবঙ্গের ১৯ জেলার প্রায় আড়াই হাজার ডিলার যমুনার সার উত্তোলন করেন। দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকলে কারখানার কমান্ডিং এরিয়ায় চলতি মৌসুমে সার সংকটে হওয়ায় শঙ্কায় দেখা দিতে পারে।
যমুনা সার কারখানার উপ প্রধান প্রকৌশলী (রসায়ন) ফজলুল হক এ প্রতিবেদককে বলেন, যমুনা সারকারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন ঠিকঠাকভাবেই হচ্ছিল। ১৫ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে কারখানায় গ্যাসের চাপ কমিয়ে দেয় তিতাস। কারখানায় যে পরিমাণ গ্যাস প্রয়োজন তা না থাকায় ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
মমিনুল ইসলাম কিসমত : নিজস্ব প্রতিবেদক, সরিষাবাড়ী, বাংলারচিঠিডটকম 



















