ঢাকা ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সুখী-সমৃদ্ধ বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী বেনজির, হাদী হত্যা মামলার সন্দেহভাজনদের প্রত্যর্পণে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভারতের দ্রুত সাড়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নবম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন না হলে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়: তথ্যমন্ত্রী গিয়াস উদ্দিন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত জুলাই শহিদ দিবস : জামালপুরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত জুলাই শহিদ দিবস : মাদারগঞ্জে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত খামারে মাটি ভরাটে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার সেতুর মুখ বন্ধ ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন রুখতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কন্যাশিশু ধর্ষণের অভিযোগে ধর্ষক জনতার হাতে আটক যোগিরঘোপায় পানিবন্দি ২০০ পরিবার পেল বিএনপির ত্রাণ সহায়তা
পৌষের হাড়কাঁপা শীত

গরম কাপড়ের অভাবে নির্ঘুম রাত কাটে ইসলামপুরের চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষদের

ইসলামপুর : চরাঞ্চলে বেড়েছে তীব্র শীত। ভোরে কুয়াশায় ঢেকে যায় গ্রামীণ জনপদ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

তীব্র শীতে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার মানুষেরা। তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়ায় শীতে কাবু হয়ে দুর্দশার মধ্যে পড়েছে সাধারণ মানুষেরা। তীব্র ঠান্ডায় স্বাভাবিক চলাফেরা বিঘ্ন ঘটছে।

যমুনা, ব্রহ্মপুত্র বিধৌত ইসলামপুর উপজেলাটি শীতের তীব্রতা তুলনামূলকভাবে বেশি। শৈত্য প্রবাহ, ঘন কুয়াশায় ঢেঁকে গেছে পুরো উপজেলা। যমুনা চরাঞ্চলবাসীর মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। চরাঞ্চলে শিশু ও বৃদ্ধদের ঠান্ডায় নানা সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েকদিন থেকে বয়ে যাওয়া হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশায় প্রচন্ড শীতে জামালপুরে ইসলামপুরের জীবনযাত্রা বিপন্ন হয়ে পড়েছে। শুষ্ক আবহাওয়া, বাতাসের মধ্যে আর্দ্রতা কমে যাওয়া, জেট বায়ু ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি চলে আসার কারণেই তাপমাত্রা এত বেশি নিচে নেমেছে।

ইসলামপুর : শীতের তীব্রতা থেকে শরীর গরম করতে কৃষকের বাড়ি বাড়ি আগুন পোহাতে দেখা যায়। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

তীব্র শীতকে মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় গরম কাপড়ের অভাবে নির্ঘুম রাত কাটে চরাঞ্চল গ্রামের দরিদ্র মানুষের। কাঠ-খড়ের জ্বালানো আগুনের উত্তাপই তাদের ভরসা। অন্যান্য বছর শীতের শুরুতে দানশীল মানুষের কম্বল ও গরম কাপড় বিতরণের খবর পাওয়া গেলেও এবার এখনও তাদের দেখা মেলেনি। যমুনার চরাঞ্চলের মানুষগুলো পরিবার নিয়ে খুবই কষ্টে দিনগুলো অতিবাহিত করছে।

হিমেল হওয়ায় খেটে খাওয়া মানুষগুলো কর্মহীন হয়ে পড়েছে। শীতে কাবু হয়ে পড়েছে গৃহপালিত পশু-পাখিও। এদিকে ঘন কুয়াশায় বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। অনেকেই পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিচ্ছেন বীজতলা। প্রচন্ড শীতে শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বেড়েছে। শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে ঠান্ডাজনিত রোগে।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় বিভিন্নজনের সাথে কথা হয়। বেলগাছা ইউনিয়নের মন্নিয়া গ্রামের মোতালেব হোসেন বলেন,  ঠান্ডায় হাঁটাচলা করতে পাইতেছি না। সারাদিন আগুন নিয়ে বসি থাহি। ওই গ্রামের শাবানা বেগম বলেন, যে ঠান্ডা পড়ছে। আমরা নদীভাঙা মানুষ। আংগরে কিছু আনবের গেলে নদী পাড় হওয়ন নাগে। তাই যাবের পাইনে, ওবেই থাহি। এটা কম্বল নেপ নাই। খেতা নিয়ে ঝার ছারে না।

ইসলামপুর : শীতের তীব্রতায় নাকাল চরাঞ্চলের গবাদিপশু। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সাপধরী ইউনিয়নের কাঁশারীডোবা গ্রামের রহমত আলী বলেন, ঠান্ডায় বাইত থাহন যায় না। খুব কষ্ট করে আছি পোলাপান নিয়া। পাথর্শী ইউনিয়নের মোরাদাবাদ যমুনা নদীর পাড়ের জাফর আলী বলেন, নদীর পাড়ে বাড়ি হওয়ায় নদীর ঠান্ডা বাতাসে অসুস্থ হয়ে পড়েছি। কর্ম করতে পারছি না অনেক সমস্যা হচ্ছে। কুলকান্দি ইউনিয়নের বেড়কুশা গ্রামের আলম মিয়া জানান, যমুনার পাড়ে বাড়ি হওয়ায় শীতে অনেক কষ্টে দিন পার করছি।

শীত থেকে রক্ষা পেতে অনেক মানুষ খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে রাস্তা পাশে বা খোলা স্থানে আগুন পোহাচ্ছেন। নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষেরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তীব্র শীতের অনেকেই কাজের সন্ধানে ঘর থেকে বের হতে না পারায় তাদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়েছে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শীতার্ত মানুষের জরুরি ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

জনপ্রিয় সংবাদ

সুখী-সমৃদ্ধ বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

পৌষের হাড়কাঁপা শীত

গরম কাপড়ের অভাবে নির্ঘুম রাত কাটে ইসলামপুরের চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষদের

আপডেট সময় ০৭:৫৭:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

তীব্র শীতে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার মানুষেরা। তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়ায় শীতে কাবু হয়ে দুর্দশার মধ্যে পড়েছে সাধারণ মানুষেরা। তীব্র ঠান্ডায় স্বাভাবিক চলাফেরা বিঘ্ন ঘটছে।

যমুনা, ব্রহ্মপুত্র বিধৌত ইসলামপুর উপজেলাটি শীতের তীব্রতা তুলনামূলকভাবে বেশি। শৈত্য প্রবাহ, ঘন কুয়াশায় ঢেঁকে গেছে পুরো উপজেলা। যমুনা চরাঞ্চলবাসীর মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। চরাঞ্চলে শিশু ও বৃদ্ধদের ঠান্ডায় নানা সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েকদিন থেকে বয়ে যাওয়া হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশায় প্রচন্ড শীতে জামালপুরে ইসলামপুরের জীবনযাত্রা বিপন্ন হয়ে পড়েছে। শুষ্ক আবহাওয়া, বাতাসের মধ্যে আর্দ্রতা কমে যাওয়া, জেট বায়ু ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি চলে আসার কারণেই তাপমাত্রা এত বেশি নিচে নেমেছে।

ইসলামপুর : শীতের তীব্রতা থেকে শরীর গরম করতে কৃষকের বাড়ি বাড়ি আগুন পোহাতে দেখা যায়। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

তীব্র শীতকে মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় গরম কাপড়ের অভাবে নির্ঘুম রাত কাটে চরাঞ্চল গ্রামের দরিদ্র মানুষের। কাঠ-খড়ের জ্বালানো আগুনের উত্তাপই তাদের ভরসা। অন্যান্য বছর শীতের শুরুতে দানশীল মানুষের কম্বল ও গরম কাপড় বিতরণের খবর পাওয়া গেলেও এবার এখনও তাদের দেখা মেলেনি। যমুনার চরাঞ্চলের মানুষগুলো পরিবার নিয়ে খুবই কষ্টে দিনগুলো অতিবাহিত করছে।

হিমেল হওয়ায় খেটে খাওয়া মানুষগুলো কর্মহীন হয়ে পড়েছে। শীতে কাবু হয়ে পড়েছে গৃহপালিত পশু-পাখিও। এদিকে ঘন কুয়াশায় বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। অনেকেই পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিচ্ছেন বীজতলা। প্রচন্ড শীতে শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বেড়েছে। শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে ঠান্ডাজনিত রোগে।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় বিভিন্নজনের সাথে কথা হয়। বেলগাছা ইউনিয়নের মন্নিয়া গ্রামের মোতালেব হোসেন বলেন,  ঠান্ডায় হাঁটাচলা করতে পাইতেছি না। সারাদিন আগুন নিয়ে বসি থাহি। ওই গ্রামের শাবানা বেগম বলেন, যে ঠান্ডা পড়ছে। আমরা নদীভাঙা মানুষ। আংগরে কিছু আনবের গেলে নদী পাড় হওয়ন নাগে। তাই যাবের পাইনে, ওবেই থাহি। এটা কম্বল নেপ নাই। খেতা নিয়ে ঝার ছারে না।

ইসলামপুর : শীতের তীব্রতায় নাকাল চরাঞ্চলের গবাদিপশু। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সাপধরী ইউনিয়নের কাঁশারীডোবা গ্রামের রহমত আলী বলেন, ঠান্ডায় বাইত থাহন যায় না। খুব কষ্ট করে আছি পোলাপান নিয়া। পাথর্শী ইউনিয়নের মোরাদাবাদ যমুনা নদীর পাড়ের জাফর আলী বলেন, নদীর পাড়ে বাড়ি হওয়ায় নদীর ঠান্ডা বাতাসে অসুস্থ হয়ে পড়েছি। কর্ম করতে পারছি না অনেক সমস্যা হচ্ছে। কুলকান্দি ইউনিয়নের বেড়কুশা গ্রামের আলম মিয়া জানান, যমুনার পাড়ে বাড়ি হওয়ায় শীতে অনেক কষ্টে দিন পার করছি।

শীত থেকে রক্ষা পেতে অনেক মানুষ খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে রাস্তা পাশে বা খোলা স্থানে আগুন পোহাচ্ছেন। নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষেরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তীব্র শীতের অনেকেই কাজের সন্ধানে ঘর থেকে বের হতে না পারায় তাদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়েছে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শীতার্ত মানুষের জরুরি ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।