ঢাকা ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আবৃত্তিতে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জামালপুরের মারিয়া জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের দাবি জানালো দেওয়ানগঞ্জবাসী পুড়িয়ে হত্যা : আসামির মৃত্যুদণ্ড, ধর্ষণ : আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড জামালপুরে বাল্যবিবাহ-শিশুশ্রম প্রতিরোধে সাংবাদিকদের সঙ্গে এপির মতবিনিময় বীর মুক্তিযোদ্ধা বারী মণ্ডল আর নেই, তাঁর প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন জামালপুরে অংশীজনদের সাথে সমঝোতা স্মারক ও কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ বিএনপিনেতা জিএস ফিরোজ মিয়ার গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ সংসদ সদস্য শামীম তালুকদারের রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল বকশীগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু

অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারিতায় খাতেমুন মঈন মহিলা ডিগ্রি কলেজের কার্যক্রমে স্থবিরতা

খাতেমুন মঈন মহিলা ডিগ্রি কলেজ। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী উপদেষ্টা ও খাতেমুন মঈন মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. বজলুল করিম তালুকদারের অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, আত্মীয়করণ এবং অব্যবস্থাপনায় কলেজে নানা সংকট তৈরী হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অধ্যক্ষের দায়িত্বে অবহেলা ও দুর্নীতি-স্বেচ্ছাচারিতার কারণে জামালপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী এই নারীশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদানসহ সকল কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, বকশীগঞ্জ অঞ্চলের মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে পরিচিত যাঁর সুনাম ও সুখ্যাতি রয়েছে তিনি হলেন মরহুম মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন সরকার। তাঁরই সুযোগ্য পুত্র শিক্ষানুরাগী মরহুম অধ্যাপক আবু নেওয়াজ মো. রশিদুজ্জামান এই এলাকায় হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে নারী শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে জেলার বকশীগঞ্জের পাখিমারা গ্রামে প্রতিষ্ঠিত করেন তাঁর বাবা মা’ র নামে খাতেমুন মঈন মহিলা ডিগ্রি কলেজ।

খাতেমুন মঈন মহিলা ডিগ্রি কলেজটি ১৯৯৪ সালে বিএনপি সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় কলেজটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন কিছুটা হলেও ২০১৫ সালে বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী উপদেষ্টা মো. বজলুল করিম তালুকদার অধ্যক্ষ হিসেবে এই কলেজে যোগদানের পর থেকেই নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতার ও অব্যবস্থাপনায় কলেজটিতে নানা সংকট চলছে। কলেজে নেই কোনো সমৃদ্ধ কম্পিউটার ল্যাব। নেই কোনো সমৃদ্ধ লাইব্রেরি। নেই রুচিসম্মত বাথরুম। কলেজের ছাত্রীরা নিত্যদিন দুর্গন্ধকে সঙ্গী করে ক্লাস করে থাকে। শিক্ষার্থীদের মানসম্মত খাবারের কোনো ক্যান্টিন নেই। ছাত্রীনিবাসও জরাজীর্ণ। নেই কোনো নামাজখানা। কলেজটিকে দেখলে মনে হবে একটি রুগ্ন প্রতিষ্ঠান। কলেজের সায়েন্স ল্যাব এবং কম্পিউটার ল্যাবটি সারা বছর তালাবদ্ধ থাকে। শিক্ষার্থীরা ল্যাব ব্যবহার করতে পারে না। কলেজে লাইব্রেরি থাকলেও শিক্ষকেরা সেখানে পরীক্ষা এবং ভর্তি সংক্রান্ত দাপ্তরিক কাজ করায় ছাত্রীরা বসতে পারে না। সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে তেমন কোনো উপকরণ নেই। এটির অবস্থাও একই রকম। এছাড়া অধ্যক্ষ প্রায় সময় আধাঘণ্টা কলেজে অবস্থান করে চলে যান। ফলে ভালো-মন্দ খোঁজ-খবর রাখেন না।

২৪ নভেম্বর রবিবার নবীন বরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কলেজ ক্যাম্পাসে সুসজ্জিত লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করা হলেও এর আগে দীর্ঘদিন কলেজ ক্যাম্পাস অন্ধকার ও ভুতুরে পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় কলেজটি অরক্ষিত হয়ে থাকে এবং ছাত্রীনিবাসের পেছনের সীমানা প্রাচীর মেরামতের নামে ভাঙ্গা হয়েছে। বহিরাগতরা কলেজ চত্বরে এসে মাদক সেবনসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড করায় শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে। কিন্তু এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অধ্যক্ষের কোনো উদ্যোগ নাই বলেও অভিযোগ রয়েছে।

খাতেমুন মঈন মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. বজলুল করিম তালুকদারের অব্যবস্থাপনার কারণে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রম। অধ্যক্ষের নানা প্রকার অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা অব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। কয়েক বছর ধরে কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে। এ ছাড়াও পাশের হার শতকরা ৯১ থেকে ৩১ ভাগে নেমে এসেছে।

আর্থিক খাতেও নেই স্বচ্ছতা। কলেজের অধিকাংশ বিল-ভাউচারে অসঙ্গতি রয়েছে। প্রতি বছর সরকারি অনুদানসহ আদায় করা অর্থ কোন খাতে ব্যয় হচ্ছে এবং আয়-ব্যয় অডিট সম্পর্কেও জানেন না কেউ।

কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা এই অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে গত ২৫ আগস্ট কলেজে কর্মবিরতি পালন করেন। অধ্যক্ষের উপস্থিতিতে তার ইশারায় একদল বহিরাগত লোক সেইদিন লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্রসহ কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকে শিক্ষক-কর্মচারীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালায়। এ ঘটনায় অধ্যক্ষসহ নয়জনকে আসামি করে বকশীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী উপদেষ্টা হওয়ার সুবাধে অধ্যক্ষ মো. বজলুল করিম তালুকদারের এহেন হুমকিমূলক কর্মকাণ্ডে এবং অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার তকমা গোটা কলেজটির ভাবমূর্তিকে ধংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের একজন শিক্ষক বলেন, কলেজটির অধ্যক্ষ মো. বজলুল করিম তালুকদারের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও সীমাহীন স্বেচ্ছাচারিতার তদন্ত সাপেক্ষে অবিলম্বে তাকে অপসারণ ও বিচারের আওতায় এনে কলেজের ছাত্রীদের পাঠদানসহ সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

আবৃত্তিতে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জামালপুরের মারিয়া

অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারিতায় খাতেমুন মঈন মহিলা ডিগ্রি কলেজের কার্যক্রমে স্থবিরতা

আপডেট সময় ০৬:৩২:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৪

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী উপদেষ্টা ও খাতেমুন মঈন মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. বজলুল করিম তালুকদারের অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, আত্মীয়করণ এবং অব্যবস্থাপনায় কলেজে নানা সংকট তৈরী হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অধ্যক্ষের দায়িত্বে অবহেলা ও দুর্নীতি-স্বেচ্ছাচারিতার কারণে জামালপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী এই নারীশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদানসহ সকল কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, বকশীগঞ্জ অঞ্চলের মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে পরিচিত যাঁর সুনাম ও সুখ্যাতি রয়েছে তিনি হলেন মরহুম মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন সরকার। তাঁরই সুযোগ্য পুত্র শিক্ষানুরাগী মরহুম অধ্যাপক আবু নেওয়াজ মো. রশিদুজ্জামান এই এলাকায় হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে নারী শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে জেলার বকশীগঞ্জের পাখিমারা গ্রামে প্রতিষ্ঠিত করেন তাঁর বাবা মা’ র নামে খাতেমুন মঈন মহিলা ডিগ্রি কলেজ।

খাতেমুন মঈন মহিলা ডিগ্রি কলেজটি ১৯৯৪ সালে বিএনপি সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় কলেজটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন কিছুটা হলেও ২০১৫ সালে বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী উপদেষ্টা মো. বজলুল করিম তালুকদার অধ্যক্ষ হিসেবে এই কলেজে যোগদানের পর থেকেই নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতার ও অব্যবস্থাপনায় কলেজটিতে নানা সংকট চলছে। কলেজে নেই কোনো সমৃদ্ধ কম্পিউটার ল্যাব। নেই কোনো সমৃদ্ধ লাইব্রেরি। নেই রুচিসম্মত বাথরুম। কলেজের ছাত্রীরা নিত্যদিন দুর্গন্ধকে সঙ্গী করে ক্লাস করে থাকে। শিক্ষার্থীদের মানসম্মত খাবারের কোনো ক্যান্টিন নেই। ছাত্রীনিবাসও জরাজীর্ণ। নেই কোনো নামাজখানা। কলেজটিকে দেখলে মনে হবে একটি রুগ্ন প্রতিষ্ঠান। কলেজের সায়েন্স ল্যাব এবং কম্পিউটার ল্যাবটি সারা বছর তালাবদ্ধ থাকে। শিক্ষার্থীরা ল্যাব ব্যবহার করতে পারে না। কলেজে লাইব্রেরি থাকলেও শিক্ষকেরা সেখানে পরীক্ষা এবং ভর্তি সংক্রান্ত দাপ্তরিক কাজ করায় ছাত্রীরা বসতে পারে না। সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে তেমন কোনো উপকরণ নেই। এটির অবস্থাও একই রকম। এছাড়া অধ্যক্ষ প্রায় সময় আধাঘণ্টা কলেজে অবস্থান করে চলে যান। ফলে ভালো-মন্দ খোঁজ-খবর রাখেন না।

২৪ নভেম্বর রবিবার নবীন বরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কলেজ ক্যাম্পাসে সুসজ্জিত লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করা হলেও এর আগে দীর্ঘদিন কলেজ ক্যাম্পাস অন্ধকার ও ভুতুরে পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় কলেজটি অরক্ষিত হয়ে থাকে এবং ছাত্রীনিবাসের পেছনের সীমানা প্রাচীর মেরামতের নামে ভাঙ্গা হয়েছে। বহিরাগতরা কলেজ চত্বরে এসে মাদক সেবনসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড করায় শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে। কিন্তু এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অধ্যক্ষের কোনো উদ্যোগ নাই বলেও অভিযোগ রয়েছে।

খাতেমুন মঈন মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. বজলুল করিম তালুকদারের অব্যবস্থাপনার কারণে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রম। অধ্যক্ষের নানা প্রকার অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা অব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। কয়েক বছর ধরে কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে। এ ছাড়াও পাশের হার শতকরা ৯১ থেকে ৩১ ভাগে নেমে এসেছে।

আর্থিক খাতেও নেই স্বচ্ছতা। কলেজের অধিকাংশ বিল-ভাউচারে অসঙ্গতি রয়েছে। প্রতি বছর সরকারি অনুদানসহ আদায় করা অর্থ কোন খাতে ব্যয় হচ্ছে এবং আয়-ব্যয় অডিট সম্পর্কেও জানেন না কেউ।

কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা এই অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে গত ২৫ আগস্ট কলেজে কর্মবিরতি পালন করেন। অধ্যক্ষের উপস্থিতিতে তার ইশারায় একদল বহিরাগত লোক সেইদিন লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্রসহ কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকে শিক্ষক-কর্মচারীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালায়। এ ঘটনায় অধ্যক্ষসহ নয়জনকে আসামি করে বকশীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী উপদেষ্টা হওয়ার সুবাধে অধ্যক্ষ মো. বজলুল করিম তালুকদারের এহেন হুমকিমূলক কর্মকাণ্ডে এবং অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার তকমা গোটা কলেজটির ভাবমূর্তিকে ধংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের একজন শিক্ষক বলেন, কলেজটির অধ্যক্ষ মো. বজলুল করিম তালুকদারের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও সীমাহীন স্বেচ্ছাচারিতার তদন্ত সাপেক্ষে অবিলম্বে তাকে অপসারণ ও বিচারের আওতায় এনে কলেজের ছাত্রীদের পাঠদানসহ সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেন।