ঢাকা ১২:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সরকার সর্বোচ্চ পৃষ্ঠপোষকতা দেবে : উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন

ঢাকা : রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। ছবি : সংগৃহীত

কেবল প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা সনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের শিক্ষার্থীদের নিজস্ব পছন্দ, মেধা ও সৃজনশীলতা অনুযায়ী স্ব-স্ব ক্ষেত্রে বিকাশের জন্য সরকার সর্বোচ্চ পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে ২০২৫ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি ২ সেপ্টেম্বর, বুধবার এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ স্কাউটস-এর স্পেশাল ইভেন্টস বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৫৮০ জন মেধাবী স্কাউট ও রোভার স্কাউটদের মেডেল, অভিনন্দন পত্র এবং দুই হাজার টাকা করে অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়।

সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এমন এক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চান, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু পুঁথিগত বিদ্যায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সৎ, যোগ্য, দক্ষ ও মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, সার্টিফিকেট অর্জনই জীবনের একমাত্র সাফল্য নয়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সমাজসেবা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের মেলবন্ধন জরুরি, যা স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে অর্জিত হয়।

শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, ‘সবাইকে কেবল ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কারও আগ্রহ যদি সামাজিক বিজ্ঞান, সাহিত্য, শিল্পকলা, খেলাধুলা, বিতর্ক কিংবা বিজ্ঞানচর্চায় থাকে, তবে যে যে ক্ষেত্রে তার মেধার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে চায়, সরকারের পক্ষ থেকে তাকে সেই সুযোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হবে।’

শিক্ষা জীবনের স্মৃতিচারণ করে মাহদী আমিন জানান, প্রায় দুই দশক আগে শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় পাবলিক পরীক্ষায় মেধার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের হাত থেকেই পুরস্কার গ্রহণ করেছিলেন।

সংবর্ধিত স্কাউটদের আগামীর বাংলাদেশের মূল কাণ্ডারি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আজকের এই সাফল্য কোনো সমাপ্তি নয়, বরং বড় লক্ষ্য অর্জনের প্রাথমিক ধাপ মাত্র। জীবনে সাফল্য-ব্যর্থতা যাই আসুক, হতাশ না হয়ে সততা, পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমকে পাথেয় করে এগিয়ে যেতে হবে।’

বাংলাদেশ স্কাউটস-এর প্রধান জাতীয় কমিশনার ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও বাংলাদেশ স্কাউটস-এর সভাপতি নাসিমুল গনি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহার এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ স্কাউটস-এর উপ-প্রধান জাতীয় কমিশনার মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ। সূত্র : বাসস

শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সরকার সর্বোচ্চ পৃষ্ঠপোষকতা দেবে : উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন

আপডেট সময় ১১:১৭:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কেবল প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা সনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের শিক্ষার্থীদের নিজস্ব পছন্দ, মেধা ও সৃজনশীলতা অনুযায়ী স্ব-স্ব ক্ষেত্রে বিকাশের জন্য সরকার সর্বোচ্চ পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে ২০২৫ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি ২ সেপ্টেম্বর, বুধবার এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ স্কাউটস-এর স্পেশাল ইভেন্টস বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৫৮০ জন মেধাবী স্কাউট ও রোভার স্কাউটদের মেডেল, অভিনন্দন পত্র এবং দুই হাজার টাকা করে অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়।

সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এমন এক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চান, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু পুঁথিগত বিদ্যায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সৎ, যোগ্য, দক্ষ ও মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, সার্টিফিকেট অর্জনই জীবনের একমাত্র সাফল্য নয়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সমাজসেবা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের মেলবন্ধন জরুরি, যা স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে অর্জিত হয়।

শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, ‘সবাইকে কেবল ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কারও আগ্রহ যদি সামাজিক বিজ্ঞান, সাহিত্য, শিল্পকলা, খেলাধুলা, বিতর্ক কিংবা বিজ্ঞানচর্চায় থাকে, তবে যে যে ক্ষেত্রে তার মেধার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে চায়, সরকারের পক্ষ থেকে তাকে সেই সুযোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হবে।’

শিক্ষা জীবনের স্মৃতিচারণ করে মাহদী আমিন জানান, প্রায় দুই দশক আগে শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় পাবলিক পরীক্ষায় মেধার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের হাত থেকেই পুরস্কার গ্রহণ করেছিলেন।

সংবর্ধিত স্কাউটদের আগামীর বাংলাদেশের মূল কাণ্ডারি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আজকের এই সাফল্য কোনো সমাপ্তি নয়, বরং বড় লক্ষ্য অর্জনের প্রাথমিক ধাপ মাত্র। জীবনে সাফল্য-ব্যর্থতা যাই আসুক, হতাশ না হয়ে সততা, পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমকে পাথেয় করে এগিয়ে যেতে হবে।’

বাংলাদেশ স্কাউটস-এর প্রধান জাতীয় কমিশনার ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও বাংলাদেশ স্কাউটস-এর সভাপতি নাসিমুল গনি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহার এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ স্কাউটস-এর উপ-প্রধান জাতীয় কমিশনার মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ। সূত্র : বাসস