ঢাকা ১২:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্বৈরাচারের সাথে আঁতাত করলে জামায়াত রাজনীতি করার সুযোগ পাবে না : ওয়ারেছ আলী মামুন জামালপুরে প্রাইম ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং শুভ উদ্বোধন মাদারগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইলেকট্রিশিয়ান আহত, সাব-জোনাল অফিস ঘেরাও-ভাঙচুর শেরপুর যুবদলের সভাপতি আতাউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শওকত হোসেন আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জামালপুরে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল শেরপুরে কালোবাজারে সার বিক্রির মামলায় ১৫ সার ডিলার জেল হাজতে বকশীগঞ্জে এবার জনতার হাতে ২৫ বস্তা সারবাহী অটোরিকশা আটক ‘ধানের শীষে ভোট চাইছি, মাফ চাই’ পোস্ট, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার বকশীগঞ্জে মামলা দায়েরের প্রতিবাদে সাংবাদিকদের মানববন্ধন আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ইসলামপুরে বিএনপির প্রতিবাদ মিছিল

মাদারগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইলেকট্রিশিয়ান আহত, সাব-জোনাল অফিস ঘেরাও-ভাঙচুর

মাদারগঞ্জ : বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইলেকট্রিশিয়ান আহত, সাব-জোনাল অফিস ঘেরাও-ভাঙচুর। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যুৎ লাইনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন মো. কাজল (২৫) নামে এক ইলেকট্রিশিয়ান। এই ঘটনায় বিদ্যুৎ অফিসের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কয়ড়া সাব-জোনাল অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন।

এসময় ওই কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। ২২ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের আদারভিটা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহত কাজল ওই এলাকার দুলাল উদ্দিনের ছেলে। দুর্ঘটনার পর প্রথমে তাকে জামালপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকাল ৩টার দিকে আদারভিটা এলাকায় একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে উঠে মেরামতের কাজ করছিলেন কাজল। তখন হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তারের সঙ্গে জড়িয়ে খুঁটির উপর আটকে যান। পরে স্থানীয় লোকজন ও পথচারীরা তাকে উদ্ধার করেন।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কয়ড়া সাব-জোনাল অফিসে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা কার্যালয় ঘেরাও করে ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

স্থানীয়দের দাবি, বিক্ষোভের সময় পল্লী বিদ্যুতের কার্যালয়ে কোনো হামলা বা ভাঙচুর করা হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে কথা বলেই কাজল বিদ্যুৎ লাইনে কাজ করতে উঠেছিলেন। কাজ চলাকালে কোনো ধরনের আগাম সতর্কবার্তা না দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করে দেওয়া হয়। এতে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ঘটনাটি তদন্ত করে দায়িত্বে অবহেলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কয়ড়া সাব-জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ওএন্ডএম) মো. আব্দুল্লাহ সিকদার। তিনি বলেন, আহত কাজল তাদের অফিসের নিয়মিত কর্মী নন। টেকনিক্যাল কাজে লোকবল কম থাকলে তাকে মাঝে মধ্যে দৈনিক মজুরিতে কাজ করানো হত। ২২ সেপ্টেম্বরের কাজটিও অফিসের দাপ্তরিক কোনো কাজ ছিল না।

আব্দুল্লাহ সিকদারের ভাষ্য, ব্যক্তিমালিকানাধীন একটি গাছ কাটার জন্য কাজল অফিসের একজনের সঙ্গে কথা বলে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রেখে কাজ সম্পন্ন করেন। কিন্তু কাজ শেষে অফিসে পুনরায় যোগাযোগ না করেই নিজ দায়িত্বে সংযোগ দিতে গেলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।

তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার পর একদল লোক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অফিসে হামলা ও ভাঙচুর করেছে। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিক্ষোভকারীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। এই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় এই প্রতিবেদককে বলেন, খবর পেয়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বিদ্যুৎ অফিস বা ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

স্বৈরাচারের সাথে আঁতাত করলে জামায়াত রাজনীতি করার সুযোগ পাবে না : ওয়ারেছ আলী মামুন

মাদারগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইলেকট্রিশিয়ান আহত, সাব-জোনাল অফিস ঘেরাও-ভাঙচুর

আপডেট সময় ১০:৫৮:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যুৎ লাইনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন মো. কাজল (২৫) নামে এক ইলেকট্রিশিয়ান। এই ঘটনায় বিদ্যুৎ অফিসের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কয়ড়া সাব-জোনাল অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন।

এসময় ওই কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। ২২ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের আদারভিটা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহত কাজল ওই এলাকার দুলাল উদ্দিনের ছেলে। দুর্ঘটনার পর প্রথমে তাকে জামালপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকাল ৩টার দিকে আদারভিটা এলাকায় একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে উঠে মেরামতের কাজ করছিলেন কাজল। তখন হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তারের সঙ্গে জড়িয়ে খুঁটির উপর আটকে যান। পরে স্থানীয় লোকজন ও পথচারীরা তাকে উদ্ধার করেন।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কয়ড়া সাব-জোনাল অফিসে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা কার্যালয় ঘেরাও করে ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

স্থানীয়দের দাবি, বিক্ষোভের সময় পল্লী বিদ্যুতের কার্যালয়ে কোনো হামলা বা ভাঙচুর করা হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে কথা বলেই কাজল বিদ্যুৎ লাইনে কাজ করতে উঠেছিলেন। কাজ চলাকালে কোনো ধরনের আগাম সতর্কবার্তা না দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করে দেওয়া হয়। এতে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ঘটনাটি তদন্ত করে দায়িত্বে অবহেলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কয়ড়া সাব-জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ওএন্ডএম) মো. আব্দুল্লাহ সিকদার। তিনি বলেন, আহত কাজল তাদের অফিসের নিয়মিত কর্মী নন। টেকনিক্যাল কাজে লোকবল কম থাকলে তাকে মাঝে মধ্যে দৈনিক মজুরিতে কাজ করানো হত। ২২ সেপ্টেম্বরের কাজটিও অফিসের দাপ্তরিক কোনো কাজ ছিল না।

আব্দুল্লাহ সিকদারের ভাষ্য, ব্যক্তিমালিকানাধীন একটি গাছ কাটার জন্য কাজল অফিসের একজনের সঙ্গে কথা বলে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রেখে কাজ সম্পন্ন করেন। কিন্তু কাজ শেষে অফিসে পুনরায় যোগাযোগ না করেই নিজ দায়িত্বে সংযোগ দিতে গেলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।

তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার পর একদল লোক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অফিসে হামলা ও ভাঙচুর করেছে। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিক্ষোভকারীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। এই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় এই প্রতিবেদককে বলেন, খবর পেয়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বিদ্যুৎ অফিস বা ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।