ঢাকা ০৫:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদারগঞ্জে আরও ২ কূপ খননের প্রস্তুতি, ডিপিপি অনুমোদনের অপেক্ষায় বাপেক্স ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন মাদারগঞ্জে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত নান্দিনায় দশ ছাত্রের পড়ালেখার দায়িত্ব নিলেন শিল্পপতি রাজিব সরকার শেরপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মধ্যে হুইলচেয়ার বিতরণ দেওয়ানগঞ্জে সংলাপ কেন্দ্রের উদ্যোগে বাল্যবিয়েবিরোধী নাটিকা মঞ্চস্থ দেওয়ানগঞ্জে ভুল ড্রপে চোখের ক্ষতি, অভিযোগ স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে মাদারগঞ্জে মেশিনের চাকায় পিষ্ট হয়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা দেশের স্বার্থে ব্যয় করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে ৬৪ জেলায় : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল ২০২৬ সংসদে পাস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশন। ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল ২০২৬’ পাস হয়েছে। ১০ এপ্রিল, শুক্রবার ২০২৬ এ বিল পাস হয়।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন- ২০০০ অধিকতর সংশোধনের জন্য আনীত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন সংশোধন বিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে উত্থাপনের পর কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে বিলটি পাস হয়।

বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল ২০২৬ এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বিচার প্রক্রিয়াকে আরো গতিশীল, দ্রুত এবং জবাবদিহিমূলক করা। দীর্ঘসূত্রিতা ও বিলম্বিত বিচার প্রক্রিয়া ভুক্তভোগীদের জন্য যে মানসিক ও সামাজিক কষ্ট সৃষ্টি করে তা বিবেচনায় নিয়ে এ আইনে তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমে সময়সীমা নির্ধারণ এবং কার্যকারিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং মর্যাদা রক্ষায় উন্নত সুরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে তারা বিচার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে গিয়ে পুনরায় কোনো ধরনের ভয় বা হয়রানির সম্মুখীন না হন।

আইনটি অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার ক্ষেত্রে আরো কঠোর ও সুস্পষ্ট কাঠামো প্রদান করেছে। এর মাধ্যমে শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক বার্তা প্রেরণ করা হয়েছে যে, এই সমাজে সহিংসতা ও নির্যাতনের কোনো স্থান নেই। অপরাধের জন্য শাস্তি অনিবার্য এবং রাষ্ট্র এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করবে না। নারী ও শিশুদের প্রতি সকল প্রকার সহিংসতা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করা হবে।

এই সংশোধনী আইনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রযুক্তির ব্যবহার। অপরাধ মোকাবিলায় ডিজিটাল প্রমাণ, প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত এবং তথ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিচার ব্যবস্থাকে আরো কার্যকরভাবে কাজ করতে সহায়তা করবে। এ আইন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, বিশেষত লক্ষ্য ৫- জেন্ডার সমতা অর্জনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। পাশাপাশি, এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামো এবং চুক্তিসমূহের সঙ্গে বাংলাদেশের সামঞ্জস্যপূর্ণ অগ্রযাত্রাকে আরো সুদৃঢ় করবে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় মনে করে, সংসদে এ বিল পাস হওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্র আবারও প্রমাণ করেছে যে, মানবিকতা, ন্যায়বিচার এবং সুরক্ষা- এই তিনটি ভিত্তির ওপরই একটি টেকসই সমাজ নির্মিত হয়। এই আইনের সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত প্রচেষ্টা।

প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচার বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, সুশীল সমাজ এবং সর্বোপরি সচেতন নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারলেই এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণ সম্ভব হবে। আইনটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমাজে বহুমাত্রিক পরিবর্তন প্রত্যাশিত।

এর মাধ্যমে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বৃদ্ধি পাবে, বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা সুদৃঢ় হবে এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ আরো শক্তিশালী হবে।

এটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের মধ্যে একটি নিরাপদ ও সহানুভূতিশীল পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে যেখানে প্রতিটি নারী ও শিশু নিরাপদ, সম্মানিত এবং সুরক্ষিত জীবনযাপন করতে পারবে। সূত্র : বাসস

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদারগঞ্জে আরও ২ কূপ খননের প্রস্তুতি, ডিপিপি অনুমোদনের অপেক্ষায় বাপেক্স

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল ২০২৬ সংসদে পাস

আপডেট সময় ১১:০০:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় সংসদে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল ২০২৬’ পাস হয়েছে। ১০ এপ্রিল, শুক্রবার ২০২৬ এ বিল পাস হয়।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন- ২০০০ অধিকতর সংশোধনের জন্য আনীত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন সংশোধন বিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে উত্থাপনের পর কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে বিলটি পাস হয়।

বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল ২০২৬ এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বিচার প্রক্রিয়াকে আরো গতিশীল, দ্রুত এবং জবাবদিহিমূলক করা। দীর্ঘসূত্রিতা ও বিলম্বিত বিচার প্রক্রিয়া ভুক্তভোগীদের জন্য যে মানসিক ও সামাজিক কষ্ট সৃষ্টি করে তা বিবেচনায় নিয়ে এ আইনে তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমে সময়সীমা নির্ধারণ এবং কার্যকারিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং মর্যাদা রক্ষায় উন্নত সুরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে তারা বিচার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে গিয়ে পুনরায় কোনো ধরনের ভয় বা হয়রানির সম্মুখীন না হন।

আইনটি অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার ক্ষেত্রে আরো কঠোর ও সুস্পষ্ট কাঠামো প্রদান করেছে। এর মাধ্যমে শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক বার্তা প্রেরণ করা হয়েছে যে, এই সমাজে সহিংসতা ও নির্যাতনের কোনো স্থান নেই। অপরাধের জন্য শাস্তি অনিবার্য এবং রাষ্ট্র এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করবে না। নারী ও শিশুদের প্রতি সকল প্রকার সহিংসতা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করা হবে।

এই সংশোধনী আইনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রযুক্তির ব্যবহার। অপরাধ মোকাবিলায় ডিজিটাল প্রমাণ, প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত এবং তথ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিচার ব্যবস্থাকে আরো কার্যকরভাবে কাজ করতে সহায়তা করবে। এ আইন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, বিশেষত লক্ষ্য ৫- জেন্ডার সমতা অর্জনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। পাশাপাশি, এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামো এবং চুক্তিসমূহের সঙ্গে বাংলাদেশের সামঞ্জস্যপূর্ণ অগ্রযাত্রাকে আরো সুদৃঢ় করবে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় মনে করে, সংসদে এ বিল পাস হওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্র আবারও প্রমাণ করেছে যে, মানবিকতা, ন্যায়বিচার এবং সুরক্ষা- এই তিনটি ভিত্তির ওপরই একটি টেকসই সমাজ নির্মিত হয়। এই আইনের সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত প্রচেষ্টা।

প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচার বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, সুশীল সমাজ এবং সর্বোপরি সচেতন নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারলেই এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণ সম্ভব হবে। আইনটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমাজে বহুমাত্রিক পরিবর্তন প্রত্যাশিত।

এর মাধ্যমে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বৃদ্ধি পাবে, বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা সুদৃঢ় হবে এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ আরো শক্তিশালী হবে।

এটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের মধ্যে একটি নিরাপদ ও সহানুভূতিশীল পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে যেখানে প্রতিটি নারী ও শিশু নিরাপদ, সম্মানিত এবং সুরক্ষিত জীবনযাপন করতে পারবে। সূত্র : বাসস