জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদের তৃতীয় লিঙ্গের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মুন্নী আক্তার তার পদ ফিরে পেতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। ২ মার্চ, সোমবার সকালে উপজেলার পৌর শহরের কালিকাপুরে তার বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তৃতীয় লিঙ্গের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মুন্নী আক্তার বলেন, ২০২৪ সালের ২১ মে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আমি পাঁচজন নারী প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২৩ হাজার ৭৬৮ জন ভোটারের বিপুল ভোটে জয়লাভ করি। আমি এলাকার মানুষকে কথা দিয়েছিলাম যে, নির্বাচিত হয়ে তৃতীয় লিঙ্গের অবহেলিত মানুষদের বাসস্থান ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব। যাতে তারা আর সমাজের বোঝা হয়ে না থাকেন। এছাড়া অসহায় ও অবহেলিত মা-বোনদের মৌলিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করা এবং এলাকার রাস্তাঘাটসহ সার্বিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার ইশতেহারও ঘোষণা করেছিলাম।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট কোন প্রকার অভিযোগ ছাড়াই কেবল এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে আমাকে পদচ্যুত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কেবল আমাকেই সরানো হয়নি। বরং আমার এলাকার মানুষের কাছে দেওয়া সেই পবিত্র ওয়াদা বা ইশতেহার বাস্তবায়নের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমি কোন অপরাধ করিনি। তবে কেন পাঁচজন প্রার্থীকে হারিয়ে পাওয়া এই জনগণের রায়কে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হল? এতে আমাকে হাজার হাজার ভোটারের আমানতের সাথে চরম অবমাননা করা হয়েছে।”
মুন্নী আক্তার আরও বলেন, আমি সাংবিধানিক ও মানবিক অধিকার ফিরে পেতে এবং এই অন্যায়ের প্রতিকার চেয়ে ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ও গণমাধ্যম মিলিয়ে মোট ৫০টি স্থানে লিখিত আবেদন ও নথিপত্র পেশ করেছি। আমি বর্তমান সরকারের কাছে বিনীত আহবান জানাই, যেন এই বৈষম্য দূর করে আমাকে পুনরায় জনগণের সেবা করার এবং নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো পূরণ করার সুযোগ দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বেশ কয়েকজন সাংবাদিকসহ তৃতীয় লিঙ্গের বিপাশা, সোহাগী, সুন্দরী ও ববিতা, পুর্ণিমা, আধুরি ও মনিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিল্লাল হোসেন মন্ডল : নিজস্ব প্রতিবেদক, দেওয়ানগঞ্জ, বাংলারচিঠিডটকম 



















