ঢাকা ০৩:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই সরকারের অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার : আইনমন্ত্রী স্বাধীনতা পুরস্কার হস্তান্তর করেছেন প্রধানমন্ত্রী ২৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রতারক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর মনির গ্রেপ্তার মুন মেমোরিয়ালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা বকশীগঞ্জের কৃষকেরা বিনামূল্যে পেল বীজ সার গণপরিবহনে যাত্রীবান্ধব সেবার দাবিতে সনাকের মানববন্ধন শেরপুরে ১ লাখ ৬১ হাজার শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হবে টাইমের ২০২৬ সালের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় তারেক রহমান আগামী দুই মাসেও জ্বালানি তেলের সমস্যা হবে না : জ্বালানি মুখপাত্র

নানান প্রতশ্রুতিতে চর আর বীরের ভোটারদের শেষ মুহূর্তে মন জয়ে মরিয়া প্রার্থীরা

ইসলামপুর : বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর শেষ মুহূর্তের ভোটের প্রচারণা। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া বইছে দেশ জড়ে। গ্রামের সংসদ’চা-দোকানে গরম চায়ের কাপ সামনে নিয়ে আড্ডা-আলাপ চলছেই। আগামী নির্বাচনে জিতবে কোন দল? এবার কারা সরকারে যাবে? একজন বললেন, যত দিন যাচ্ছে ধানের শীষের অবস্থা ভালো। আরেকজন বললেন, ধানের শীষের টানাটানিতে দাঁড়িপাল্লা বেরিয়ে যেতে পারে।

চলছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসন বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল আর নদী ভাঙনে ক্ষতবিক্ষত এই জনপদে বইছে নির্বাচন প্রচারণার শেষ হাওয়া। শেষ মুহুর্তে চর আর বীর এই দুই ভাগে বিভক্ত ভোটারদের মন জয়ে মরিয়া প্রার্থীরা। এখানে মূল লড়াই হতে যাচ্ছে দুই সাবেক মিত্র বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। তবে দুর্গম যমুনার চরের অধিকাংশ মানুষ জানেন না গণভোট কি?

একদিকে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু, অন্যদিকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. সামিউল হক ফারুকী। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা সুলতান মাহমুদ ও সতন্ত্র প্রার্থী অর্নব ওয়ারেছ খান ঘোড়া মার্কা প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছন। নির্বাচনী লড়াইয়ের সমীকরণ ৩৫৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত ইসলামপুর আসনটি একটি উপজেলা, একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার দুই লাখ ৮২ হাজার ৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৪৪ হাজার ৪৫৮ জন এবং নারী ভোটার এক লাখ ৩৭ হাজার ৬২৯ জন। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন একজন।

বিগত ১২টি সংসদ নির্বাচনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিএনপি এই আসনে দুবার জয়ী হয়েছিল। একবার ১৯৯৬ সালের স্বল্পমেয়াদি নির্বাচনে এবং দ্বিতীয়বার ২০০১ সালে সুলতান মাহমুদ বাবু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। আসনটিকে নিজেদের তিলক হিসেবে বিবেচনা করে দীর্ঘ সময় ধরে মাঠ গুছিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ফলে জয়ের ব্যাপারে দুই পক্ষই শতভাগ আশাবাদী।

যমুনার দুর্গম চরাঞ্চলের ইন্দুলামারী গ্রামের ভোটার আক্কাস আলী বলেন, ভোটের সময় অনেক কিছুই বলে কিন্তু ভোটের শেষে কিছুই বলেন না। আামাদের দাবি উন্নয়ন ও নদী ভাঙন রোধ রক্ষা।

ইসলামপুরের মূল সংকট বন্যা ও নদীভাঙন। দুর্গম চরের শিক্ষার্থী শিহাব আলী বলেন, চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ এবার মুখিয়ে আছেন এমন একজনের জন্য, যিনি তাদের এই দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান করবেন।

নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত বিএনপির প্রার্থী সুলতান মাহমুদ বাবু বলেন, বিএনপি সব সময়ই এই এলাকায় শক্তিশালী ছিল আছে। তরুণেরা এবার ধানের শীষের পক্ষ নিয়েছে। তারা উন্নয়ন চায়। বিগত দিনে অনেক উন্নয়ন করেছি। তাই সবাই ঐক্যবদ্ধ। আগামী নির্বাচনে সকলে ধানের শীষে ভোট দেবে। বিজয় শতভাগ নিশ্চিত ইনশিআল্লাহ।

জামায়াত ইসলামী প্রার্থী ড. সামিউল হক ফারুকী বলেন, এবার তরুণ ও নারী ভোটারেরা জামায়াতকে বেছে নিয়েছে। আমরা যেহেতু তরুণ বেকারদের হাতে কাজ তুলে দিতে চেয়েছি। নারীদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চেয়েছি। সেহেতু নারী ও যুবকদের মধ্যে অভূতপূর্ব উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। সর্বস্তরের মানুষের সমর্থনে আমরা ইনশাআল্লাহ বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

ইসলামপুরের নির্বাচনী মাঠে চর ও বীরের এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার গলায় বিজয়ের মালা উঠবে, তা নির্ভর করছে নদীভাঙা এই মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতির উপর।

জনপ্রিয় সংবাদ

জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই সরকারের অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী

নানান প্রতশ্রুতিতে চর আর বীরের ভোটারদের শেষ মুহূর্তে মন জয়ে মরিয়া প্রার্থীরা

আপডেট সময় ১০:১৫:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া বইছে দেশ জড়ে। গ্রামের সংসদ’চা-দোকানে গরম চায়ের কাপ সামনে নিয়ে আড্ডা-আলাপ চলছেই। আগামী নির্বাচনে জিতবে কোন দল? এবার কারা সরকারে যাবে? একজন বললেন, যত দিন যাচ্ছে ধানের শীষের অবস্থা ভালো। আরেকজন বললেন, ধানের শীষের টানাটানিতে দাঁড়িপাল্লা বেরিয়ে যেতে পারে।

চলছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসন বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল আর নদী ভাঙনে ক্ষতবিক্ষত এই জনপদে বইছে নির্বাচন প্রচারণার শেষ হাওয়া। শেষ মুহুর্তে চর আর বীর এই দুই ভাগে বিভক্ত ভোটারদের মন জয়ে মরিয়া প্রার্থীরা। এখানে মূল লড়াই হতে যাচ্ছে দুই সাবেক মিত্র বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। তবে দুর্গম যমুনার চরের অধিকাংশ মানুষ জানেন না গণভোট কি?

একদিকে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু, অন্যদিকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. সামিউল হক ফারুকী। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা সুলতান মাহমুদ ও সতন্ত্র প্রার্থী অর্নব ওয়ারেছ খান ঘোড়া মার্কা প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছন। নির্বাচনী লড়াইয়ের সমীকরণ ৩৫৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত ইসলামপুর আসনটি একটি উপজেলা, একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার দুই লাখ ৮২ হাজার ৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৪৪ হাজার ৪৫৮ জন এবং নারী ভোটার এক লাখ ৩৭ হাজার ৬২৯ জন। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন একজন।

বিগত ১২টি সংসদ নির্বাচনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিএনপি এই আসনে দুবার জয়ী হয়েছিল। একবার ১৯৯৬ সালের স্বল্পমেয়াদি নির্বাচনে এবং দ্বিতীয়বার ২০০১ সালে সুলতান মাহমুদ বাবু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। আসনটিকে নিজেদের তিলক হিসেবে বিবেচনা করে দীর্ঘ সময় ধরে মাঠ গুছিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ফলে জয়ের ব্যাপারে দুই পক্ষই শতভাগ আশাবাদী।

যমুনার দুর্গম চরাঞ্চলের ইন্দুলামারী গ্রামের ভোটার আক্কাস আলী বলেন, ভোটের সময় অনেক কিছুই বলে কিন্তু ভোটের শেষে কিছুই বলেন না। আামাদের দাবি উন্নয়ন ও নদী ভাঙন রোধ রক্ষা।

ইসলামপুরের মূল সংকট বন্যা ও নদীভাঙন। দুর্গম চরের শিক্ষার্থী শিহাব আলী বলেন, চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ এবার মুখিয়ে আছেন এমন একজনের জন্য, যিনি তাদের এই দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান করবেন।

নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত বিএনপির প্রার্থী সুলতান মাহমুদ বাবু বলেন, বিএনপি সব সময়ই এই এলাকায় শক্তিশালী ছিল আছে। তরুণেরা এবার ধানের শীষের পক্ষ নিয়েছে। তারা উন্নয়ন চায়। বিগত দিনে অনেক উন্নয়ন করেছি। তাই সবাই ঐক্যবদ্ধ। আগামী নির্বাচনে সকলে ধানের শীষে ভোট দেবে। বিজয় শতভাগ নিশ্চিত ইনশিআল্লাহ।

জামায়াত ইসলামী প্রার্থী ড. সামিউল হক ফারুকী বলেন, এবার তরুণ ও নারী ভোটারেরা জামায়াতকে বেছে নিয়েছে। আমরা যেহেতু তরুণ বেকারদের হাতে কাজ তুলে দিতে চেয়েছি। নারীদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চেয়েছি। সেহেতু নারী ও যুবকদের মধ্যে অভূতপূর্ব উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। সর্বস্তরের মানুষের সমর্থনে আমরা ইনশাআল্লাহ বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

ইসলামপুরের নির্বাচনী মাঠে চর ও বীরের এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার গলায় বিজয়ের মালা উঠবে, তা নির্ভর করছে নদীভাঙা এই মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতির উপর।