ঢাকা ১০:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর বাণী : সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে রাষ্ট্রপতির বাণী : মানবিক ও নিরাপদ দেশ গড়ার আহ্বান আগামীকাল ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস একটি অসহায় পরিবারের পাশে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা দুর্গম যমুনার চরে হেকমত আতঙ্কে অবরুদ্ধ অসহায় এক পরিবার শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী মার্কিন ফার্স্ট লেডিকে ইউক্রেনের বেসামরিক সম্মাননা প্রদান মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তৎপরতা শুরু স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য এআই টুল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ রাখছে গুগল গার্মেন্টস শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের চরে চরে বেগুন চাষে কৃষকের ভাগ্য বদল

ইসলামপুর : ক্ষেত থেকে বেগুন তুলে এনে বিক্রির জন্য জমা করছেন একজন কৃষক। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

কাঁসা, বেগুন, গুড়, এই তিনে মিলেই ইসলামপুর। এ অঞ্চলে বিশেষ করে গোল বেগুন দেশবিখ্যাত। আর এই বেগুন চাষে স্বাবলম্বী হয়ে সচ্ছল জীবনযাপন করছেন উপজেলার প্রায় অর্ধলক্ষাধিক কৃষক।

ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বতীরের উর্বর বেলে-দোঁআশ মাটি বেগুন চাষের জন্য উপযোগী। তাই ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলী, চরগোয়ালিনী, চরপুঁটিমারী, গাইবান্ধা, পলবান্ধা ও গোয়ালেরচর ইউনিয়নের কৃষকরা বেগুন চাষের ওপরই অধিকতর নির্ভরশীল।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইসলামপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার তীরবর্তী উর্বর বেলে-দোঁআশ মাটিও বেগুন চাষের জন্য উপযোগী। ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদের বিভিন্ন চরে এ বছর ৮৫ হাজার মেট্রিক টন বেগুন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এক হাজার ৪৫০ হেক্টর একর জমিতে বিভিন্ন জাতের বেগুন চাষ হয়েছে। ফলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ বেগুন উৎপাদন হয়েছে। চরাঞ্চলের কৃষকেরা সকাল-বিকাল বেগুন ক্ষেতে গেলেই পাচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। তাই তারা বেগুনটালকে টাকার গাছ হিসাবে উল্লেখ করেছেন।

উপজেলার চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের কান্দারচর গ্রামের কৃষক আজগর আলী এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও সাত বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছি। ইতিমধ্যে দিগুণ লাভ করেছি। বেগুন বড় অর্থকরী ফসল। বেগুন চাষে পরিবারের ভাত-কাপড় এবং বেগুন চাষেই চলে আমাদের সারা বছরের খরচ।

একই সময় চরপুঁটিমারী ইউনয়নের আকন্দপাড়া গ্রামের শহিজল আলী এ প্রতিবেদককে বলেন, এক বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করতে সর্বোচ্চ খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকা। ওই খরচের টাকা বেগুন চারা রোপণের দুই মাসের মাথায় উঠে এসেছে। ওই ইউনিয়নের ডিগ্রীরচর গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হক বলেন, বর্তমানে আমার জমিতে রোপণ করা বেগুন গাছের বয়স প্রায় শেষ। এতে যা আশা করেছিলাম তার চেয়ে বেশিই পেয়েছি।

ওই গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী এ প্রতিবেদককে বলেন, এ বছর এক বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করেছি। একইভাবে বেগুন চাষে স্বাবলম্বী হয়েছে গাইবান্ধা ইউনিয়নের তেঘুরিয়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন, মুছা সরদার, ফজলুল হক, মজনু মিয়া, দানেছ আলী, ইন্তাজ আলী ও মোশারফ মন্ডলসহ উপজেলার নয় শতাধিক কৃষক।

ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল এ প্রতিবেদককে বলেন, বেগুন চাষের এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ইসলামপুুরের অধিকাংশ বেগুন চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। শীতকালীন বেগুন চাষে কৃষকদের সাথে সার্বক্ষনিক খোঁজ খবর রেখে পরামর্শ দেওয়ায় এবার উৎপাদন বেড়েছে। লাভবান হয়েছেন অনেক কৃষক।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী : সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল

যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের চরে চরে বেগুন চাষে কৃষকের ভাগ্য বদল

আপডেট সময় ০৯:২৬:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

কাঁসা, বেগুন, গুড়, এই তিনে মিলেই ইসলামপুর। এ অঞ্চলে বিশেষ করে গোল বেগুন দেশবিখ্যাত। আর এই বেগুন চাষে স্বাবলম্বী হয়ে সচ্ছল জীবনযাপন করছেন উপজেলার প্রায় অর্ধলক্ষাধিক কৃষক।

ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বতীরের উর্বর বেলে-দোঁআশ মাটি বেগুন চাষের জন্য উপযোগী। তাই ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলী, চরগোয়ালিনী, চরপুঁটিমারী, গাইবান্ধা, পলবান্ধা ও গোয়ালেরচর ইউনিয়নের কৃষকরা বেগুন চাষের ওপরই অধিকতর নির্ভরশীল।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইসলামপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার তীরবর্তী উর্বর বেলে-দোঁআশ মাটিও বেগুন চাষের জন্য উপযোগী। ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদের বিভিন্ন চরে এ বছর ৮৫ হাজার মেট্রিক টন বেগুন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এক হাজার ৪৫০ হেক্টর একর জমিতে বিভিন্ন জাতের বেগুন চাষ হয়েছে। ফলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ বেগুন উৎপাদন হয়েছে। চরাঞ্চলের কৃষকেরা সকাল-বিকাল বেগুন ক্ষেতে গেলেই পাচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। তাই তারা বেগুনটালকে টাকার গাছ হিসাবে উল্লেখ করেছেন।

উপজেলার চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের কান্দারচর গ্রামের কৃষক আজগর আলী এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও সাত বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছি। ইতিমধ্যে দিগুণ লাভ করেছি। বেগুন বড় অর্থকরী ফসল। বেগুন চাষে পরিবারের ভাত-কাপড় এবং বেগুন চাষেই চলে আমাদের সারা বছরের খরচ।

একই সময় চরপুঁটিমারী ইউনয়নের আকন্দপাড়া গ্রামের শহিজল আলী এ প্রতিবেদককে বলেন, এক বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করতে সর্বোচ্চ খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকা। ওই খরচের টাকা বেগুন চারা রোপণের দুই মাসের মাথায় উঠে এসেছে। ওই ইউনিয়নের ডিগ্রীরচর গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হক বলেন, বর্তমানে আমার জমিতে রোপণ করা বেগুন গাছের বয়স প্রায় শেষ। এতে যা আশা করেছিলাম তার চেয়ে বেশিই পেয়েছি।

ওই গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী এ প্রতিবেদককে বলেন, এ বছর এক বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করেছি। একইভাবে বেগুন চাষে স্বাবলম্বী হয়েছে গাইবান্ধা ইউনিয়নের তেঘুরিয়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন, মুছা সরদার, ফজলুল হক, মজনু মিয়া, দানেছ আলী, ইন্তাজ আলী ও মোশারফ মন্ডলসহ উপজেলার নয় শতাধিক কৃষক।

ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল এ প্রতিবেদককে বলেন, বেগুন চাষের এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ইসলামপুুরের অধিকাংশ বেগুন চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। শীতকালীন বেগুন চাষে কৃষকদের সাথে সার্বক্ষনিক খোঁজ খবর রেখে পরামর্শ দেওয়ায় এবার উৎপাদন বেড়েছে। লাভবান হয়েছেন অনেক কৃষক।