ঢাকা ১০:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচলের আশ্বাস দিল ইরান জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, ‘প্যানিক বায়িং’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার সাংবাদিক প্রবেশে কেন্দ্র সচিবের নিষেধাজ্ঞা মাদারগঞ্জে যমুনার বালুর চরে ফিরেছে সবুজ প্রাণ মাদকাসক্ত ছেলেকে ধরিয়ে দিলেন মা, হল ছয় মাসের জেল জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ বাস্তবায়ন করা হবে : প্রধানমন্ত্রী দেশের সরকারি গুদামে ১৭.৭১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুদ রয়েছে : খাদ্যমন্ত্রী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তৈরি করতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া : তথ্যমন্ত্রী অনূর্ধ্ব-১৮ মহিলা জোনাল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি উন্মোচন

যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের চরে চরে বেগুন চাষে কৃষকের ভাগ্য বদল

ইসলামপুর : ক্ষেত থেকে বেগুন তুলে এনে বিক্রির জন্য জমা করছেন একজন কৃষক। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

কাঁসা, বেগুন, গুড়, এই তিনে মিলেই ইসলামপুর। এ অঞ্চলে বিশেষ করে গোল বেগুন দেশবিখ্যাত। আর এই বেগুন চাষে স্বাবলম্বী হয়ে সচ্ছল জীবনযাপন করছেন উপজেলার প্রায় অর্ধলক্ষাধিক কৃষক।

ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বতীরের উর্বর বেলে-দোঁআশ মাটি বেগুন চাষের জন্য উপযোগী। তাই ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলী, চরগোয়ালিনী, চরপুঁটিমারী, গাইবান্ধা, পলবান্ধা ও গোয়ালেরচর ইউনিয়নের কৃষকরা বেগুন চাষের ওপরই অধিকতর নির্ভরশীল।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইসলামপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার তীরবর্তী উর্বর বেলে-দোঁআশ মাটিও বেগুন চাষের জন্য উপযোগী। ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদের বিভিন্ন চরে এ বছর ৮৫ হাজার মেট্রিক টন বেগুন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এক হাজার ৪৫০ হেক্টর একর জমিতে বিভিন্ন জাতের বেগুন চাষ হয়েছে। ফলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ বেগুন উৎপাদন হয়েছে। চরাঞ্চলের কৃষকেরা সকাল-বিকাল বেগুন ক্ষেতে গেলেই পাচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। তাই তারা বেগুনটালকে টাকার গাছ হিসাবে উল্লেখ করেছেন।

উপজেলার চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের কান্দারচর গ্রামের কৃষক আজগর আলী এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও সাত বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছি। ইতিমধ্যে দিগুণ লাভ করেছি। বেগুন বড় অর্থকরী ফসল। বেগুন চাষে পরিবারের ভাত-কাপড় এবং বেগুন চাষেই চলে আমাদের সারা বছরের খরচ।

একই সময় চরপুঁটিমারী ইউনয়নের আকন্দপাড়া গ্রামের শহিজল আলী এ প্রতিবেদককে বলেন, এক বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করতে সর্বোচ্চ খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকা। ওই খরচের টাকা বেগুন চারা রোপণের দুই মাসের মাথায় উঠে এসেছে। ওই ইউনিয়নের ডিগ্রীরচর গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হক বলেন, বর্তমানে আমার জমিতে রোপণ করা বেগুন গাছের বয়স প্রায় শেষ। এতে যা আশা করেছিলাম তার চেয়ে বেশিই পেয়েছি।

ওই গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী এ প্রতিবেদককে বলেন, এ বছর এক বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করেছি। একইভাবে বেগুন চাষে স্বাবলম্বী হয়েছে গাইবান্ধা ইউনিয়নের তেঘুরিয়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন, মুছা সরদার, ফজলুল হক, মজনু মিয়া, দানেছ আলী, ইন্তাজ আলী ও মোশারফ মন্ডলসহ উপজেলার নয় শতাধিক কৃষক।

ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল এ প্রতিবেদককে বলেন, বেগুন চাষের এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ইসলামপুুরের অধিকাংশ বেগুন চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। শীতকালীন বেগুন চাষে কৃষকদের সাথে সার্বক্ষনিক খোঁজ খবর রেখে পরামর্শ দেওয়ায় এবার উৎপাদন বেড়েছে। লাভবান হয়েছেন অনেক কৃষক।

জনপ্রিয় সংবাদ

সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী

যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের চরে চরে বেগুন চাষে কৃষকের ভাগ্য বদল

আপডেট সময় ০৯:২৬:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

কাঁসা, বেগুন, গুড়, এই তিনে মিলেই ইসলামপুর। এ অঞ্চলে বিশেষ করে গোল বেগুন দেশবিখ্যাত। আর এই বেগুন চাষে স্বাবলম্বী হয়ে সচ্ছল জীবনযাপন করছেন উপজেলার প্রায় অর্ধলক্ষাধিক কৃষক।

ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বতীরের উর্বর বেলে-দোঁআশ মাটি বেগুন চাষের জন্য উপযোগী। তাই ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলী, চরগোয়ালিনী, চরপুঁটিমারী, গাইবান্ধা, পলবান্ধা ও গোয়ালেরচর ইউনিয়নের কৃষকরা বেগুন চাষের ওপরই অধিকতর নির্ভরশীল।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইসলামপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার তীরবর্তী উর্বর বেলে-দোঁআশ মাটিও বেগুন চাষের জন্য উপযোগী। ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদের বিভিন্ন চরে এ বছর ৮৫ হাজার মেট্রিক টন বেগুন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এক হাজার ৪৫০ হেক্টর একর জমিতে বিভিন্ন জাতের বেগুন চাষ হয়েছে। ফলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ বেগুন উৎপাদন হয়েছে। চরাঞ্চলের কৃষকেরা সকাল-বিকাল বেগুন ক্ষেতে গেলেই পাচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। তাই তারা বেগুনটালকে টাকার গাছ হিসাবে উল্লেখ করেছেন।

উপজেলার চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের কান্দারচর গ্রামের কৃষক আজগর আলী এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও সাত বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছি। ইতিমধ্যে দিগুণ লাভ করেছি। বেগুন বড় অর্থকরী ফসল। বেগুন চাষে পরিবারের ভাত-কাপড় এবং বেগুন চাষেই চলে আমাদের সারা বছরের খরচ।

একই সময় চরপুঁটিমারী ইউনয়নের আকন্দপাড়া গ্রামের শহিজল আলী এ প্রতিবেদককে বলেন, এক বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করতে সর্বোচ্চ খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকা। ওই খরচের টাকা বেগুন চারা রোপণের দুই মাসের মাথায় উঠে এসেছে। ওই ইউনিয়নের ডিগ্রীরচর গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হক বলেন, বর্তমানে আমার জমিতে রোপণ করা বেগুন গাছের বয়স প্রায় শেষ। এতে যা আশা করেছিলাম তার চেয়ে বেশিই পেয়েছি।

ওই গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী এ প্রতিবেদককে বলেন, এ বছর এক বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করেছি। একইভাবে বেগুন চাষে স্বাবলম্বী হয়েছে গাইবান্ধা ইউনিয়নের তেঘুরিয়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন, মুছা সরদার, ফজলুল হক, মজনু মিয়া, দানেছ আলী, ইন্তাজ আলী ও মোশারফ মন্ডলসহ উপজেলার নয় শতাধিক কৃষক।

ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল এ প্রতিবেদককে বলেন, বেগুন চাষের এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ইসলামপুুরের অধিকাংশ বেগুন চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। শীতকালীন বেগুন চাষে কৃষকদের সাথে সার্বক্ষনিক খোঁজ খবর রেখে পরামর্শ দেওয়ায় এবার উৎপাদন বেড়েছে। লাভবান হয়েছেন অনেক কৃষক।