কাঁসা, বেগুন, গুড়, এই তিনে মিলেই ইসলামপুর। এ অঞ্চলে বিশেষ করে গোল বেগুন দেশবিখ্যাত। আর এই বেগুন চাষে স্বাবলম্বী হয়ে সচ্ছল জীবনযাপন করছেন উপজেলার প্রায় অর্ধলক্ষাধিক কৃষক।
ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বতীরের উর্বর বেলে-দোঁআশ মাটি বেগুন চাষের জন্য উপযোগী। তাই ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলী, চরগোয়ালিনী, চরপুঁটিমারী, গাইবান্ধা, পলবান্ধা ও গোয়ালেরচর ইউনিয়নের কৃষকরা বেগুন চাষের ওপরই অধিকতর নির্ভরশীল।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইসলামপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার তীরবর্তী উর্বর বেলে-দোঁআশ মাটিও বেগুন চাষের জন্য উপযোগী। ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদের বিভিন্ন চরে এ বছর ৮৫ হাজার মেট্রিক টন বেগুন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এক হাজার ৪৫০ হেক্টর একর জমিতে বিভিন্ন জাতের বেগুন চাষ হয়েছে। ফলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ বেগুন উৎপাদন হয়েছে। চরাঞ্চলের কৃষকেরা সকাল-বিকাল বেগুন ক্ষেতে গেলেই পাচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। তাই তারা বেগুনটালকে টাকার গাছ হিসাবে উল্লেখ করেছেন।
উপজেলার চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের কান্দারচর গ্রামের কৃষক আজগর আলী এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও সাত বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছি। ইতিমধ্যে দিগুণ লাভ করেছি। বেগুন বড় অর্থকরী ফসল। বেগুন চাষে পরিবারের ভাত-কাপড় এবং বেগুন চাষেই চলে আমাদের সারা বছরের খরচ।
একই সময় চরপুঁটিমারী ইউনয়নের আকন্দপাড়া গ্রামের শহিজল আলী এ প্রতিবেদককে বলেন, এক বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করতে সর্বোচ্চ খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকা। ওই খরচের টাকা বেগুন চারা রোপণের দুই মাসের মাথায় উঠে এসেছে। ওই ইউনিয়নের ডিগ্রীরচর গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হক বলেন, বর্তমানে আমার জমিতে রোপণ করা বেগুন গাছের বয়স প্রায় শেষ। এতে যা আশা করেছিলাম তার চেয়ে বেশিই পেয়েছি।
ওই গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী এ প্রতিবেদককে বলেন, এ বছর এক বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করেছি। একইভাবে বেগুন চাষে স্বাবলম্বী হয়েছে গাইবান্ধা ইউনিয়নের তেঘুরিয়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন, মুছা সরদার, ফজলুল হক, মজনু মিয়া, দানেছ আলী, ইন্তাজ আলী ও মোশারফ মন্ডলসহ উপজেলার নয় শতাধিক কৃষক।
ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল এ প্রতিবেদককে বলেন, বেগুন চাষের এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ইসলামপুুরের অধিকাংশ বেগুন চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। শীতকালীন বেগুন চাষে কৃষকদের সাথে সার্বক্ষনিক খোঁজ খবর রেখে পরামর্শ দেওয়ায় এবার উৎপাদন বেড়েছে। লাভবান হয়েছেন অনেক কৃষক।
লিয়াকত হোসাইন লায়ন : নিজস্ব প্রতিবেদক, ইসলামপুর, বাংলারচিঠিডটকম 



















