ঢাকা ১১:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির ১০ বছর করে আটকাদেশ ইসলামপুরে স্বাক্ষর জাল করে এতিম খানার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ মাদারগঞ্জে ১৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসএসসির ফল বিপর্যয়, ৪৩৯ জনে পাস ১১১ জামালপুরে সাক্ষরতা কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা বিষয়ক কর্মশালা সরিষাবাড়ীতে বিধবা নারীকে বিয়ে করায় ঘরছাড়া নবদম্পতি ইত্তেফাকুল উলামা জামালপুর জেলা কমিটিতে শামসুদ্দিন সভাপতি ও মোহাম্মদ আলী সম্পাদক নির্বাচিত মাদারগঞ্জে চাচা-ভাতিজা হত্যা, রায়ের অপেক্ষায় দুই পরিবার হাসপাতালে বাবার মরদেহ রেখে পরীক্ষায় অংশ নেয়া নোভিদ পেল জিপিএ-৫ ইসলামপুরে ৯ শিক্ষকের বিদ্যালয়ে ৩ পরীক্ষার্থীই অকৃতকার্য গৃহবধূকে ধর্ষণের দায়ে দুই যুবকের মৃত্যুদণ্ড

জামালপুরে ব্র্যাকের অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত

জামালপুর : সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইফতেখার ইউনুছ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরে ব্র্যাকের উদ্যোগে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদারকরণে অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়েছে।  ৩০ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার ব্র্র্যাকের জামালপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ে এই ডায়লগ অনুষ্ঠিত হয়।

ডায়ালগ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইফতেখার ইউনুছ। তিনি বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগগুলোকে আরো জোরদার করতে হবে। কোন একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পুরো এলাকা কাভার করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে কে কোথায় কি ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে তার তথ্য একে অপরের জানা থাকা উচিৎ।

বিশেষ অতিথি জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার বলেন, প্রতিরোধ কার্যক্রমে আমরা একে অপরের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছি। বাল্যবিয়ের প্রেক্ষিত পাল্টে গেছে। আগে অভিভাবকেরা জোর করে অল্প বয়সেই ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দিতেন। এখন কিশোর বয়সে নিজেরাই পছন্দ করে বেআইনি প্রক্রিয়ায় বিয়ে করে। এর পরিণতি ভাল হয় না। পরনির্ভরশীলতা নারী নির্যাতনের অন্যতম কারণ। তাই নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসক্ষম করে গড়ে তুলতে হবে। তাদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায়িত করতে হবে।

ব্র্যাক জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি কর্মসূচির উদ্যোগে আয়োজিত অ্যাডভোকেসি ডায়লগের লক্ষ্য স্থির করা হয় নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ব্র্যাক ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগসমূহের সমন্বয় করা। প্রতিরোধ ও সেবাপ্রদানের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জসমূহ চিহ্নিত করা এবং সারভাইভারদের জন্য দ্রুত মানবিক সহায়তা নিশ্চিতে যৌথ উদ্যোগ নির্ধারণ করা।

ধারণাপত্র উপস্থাপন শেষে উল্লিখিত বিষয়ের উপর আলোকপাত করে বক্তব্য রাখেন জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন আখতার, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রোকোনুল ইসলাম, জেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের উপপরিচালক মনজুর আলম, উন্নয়ন সংঘের মানবসম্পদ উন্নয়ন পরিচালক ও বাংলারচিঠিডটকমের সম্পাদক জাহাঙ্গীর সেলিম, জামালপুর সদর থানার নারী ও শিশু বিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা আনোয়ার বেগম, ওয়ার্ল্ড ভিশন জেসমিন প্রকল্পের জেন্ডার স্পেশালিস্ট শফিকুর রহমান, অপরাজেয় বাংলাদেশের কেন্দ্র ব্যবস্থাপক আশরাফুল আলম, জেলা ব্র্যাকের বিভাগীয় প্রধানগণ এবং স্বপ্নসারথি দলের সদস্যরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক জেলা সমন্বয়ক আহমেদ ওমর ফারুক।

আলোচনা শেষে সবার জন্য তিনটি লিখিত প্রশ্ন ছেড়ে দেওয়া হয়। যা হল- নারী, শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে অংশীজনদের মাঠ পর্যায়ে কি কি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়? চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কি কি উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে? এবং নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন বন্ধে কি কি উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে? অংগ্রহণকারীরা এসব প্রশ্নের নির্ধারিত ফরমেটে উত্তর লিখে দেন।

সভা শেষে সমমনা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে একটি ফোরাম গঠনের প্রস্তাব করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির ১০ বছর করে আটকাদেশ

জামালপুরে ব্র্যাকের অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় ১০:৫৫:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

জামালপুরে ব্র্যাকের উদ্যোগে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদারকরণে অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়েছে।  ৩০ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার ব্র্র্যাকের জামালপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ে এই ডায়লগ অনুষ্ঠিত হয়।

ডায়ালগ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইফতেখার ইউনুছ। তিনি বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগগুলোকে আরো জোরদার করতে হবে। কোন একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পুরো এলাকা কাভার করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে কে কোথায় কি ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে তার তথ্য একে অপরের জানা থাকা উচিৎ।

বিশেষ অতিথি জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার বলেন, প্রতিরোধ কার্যক্রমে আমরা একে অপরের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছি। বাল্যবিয়ের প্রেক্ষিত পাল্টে গেছে। আগে অভিভাবকেরা জোর করে অল্প বয়সেই ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দিতেন। এখন কিশোর বয়সে নিজেরাই পছন্দ করে বেআইনি প্রক্রিয়ায় বিয়ে করে। এর পরিণতি ভাল হয় না। পরনির্ভরশীলতা নারী নির্যাতনের অন্যতম কারণ। তাই নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসক্ষম করে গড়ে তুলতে হবে। তাদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায়িত করতে হবে।

ব্র্যাক জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি কর্মসূচির উদ্যোগে আয়োজিত অ্যাডভোকেসি ডায়লগের লক্ষ্য স্থির করা হয় নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ব্র্যাক ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগসমূহের সমন্বয় করা। প্রতিরোধ ও সেবাপ্রদানের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জসমূহ চিহ্নিত করা এবং সারভাইভারদের জন্য দ্রুত মানবিক সহায়তা নিশ্চিতে যৌথ উদ্যোগ নির্ধারণ করা।

ধারণাপত্র উপস্থাপন শেষে উল্লিখিত বিষয়ের উপর আলোকপাত করে বক্তব্য রাখেন জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন আখতার, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রোকোনুল ইসলাম, জেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের উপপরিচালক মনজুর আলম, উন্নয়ন সংঘের মানবসম্পদ উন্নয়ন পরিচালক ও বাংলারচিঠিডটকমের সম্পাদক জাহাঙ্গীর সেলিম, জামালপুর সদর থানার নারী ও শিশু বিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা আনোয়ার বেগম, ওয়ার্ল্ড ভিশন জেসমিন প্রকল্পের জেন্ডার স্পেশালিস্ট শফিকুর রহমান, অপরাজেয় বাংলাদেশের কেন্দ্র ব্যবস্থাপক আশরাফুল আলম, জেলা ব্র্যাকের বিভাগীয় প্রধানগণ এবং স্বপ্নসারথি দলের সদস্যরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক জেলা সমন্বয়ক আহমেদ ওমর ফারুক।

আলোচনা শেষে সবার জন্য তিনটি লিখিত প্রশ্ন ছেড়ে দেওয়া হয়। যা হল- নারী, শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে অংশীজনদের মাঠ পর্যায়ে কি কি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়? চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কি কি উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে? এবং নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন বন্ধে কি কি উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে? অংগ্রহণকারীরা এসব প্রশ্নের নির্ধারিত ফরমেটে উত্তর লিখে দেন।

সভা শেষে সমমনা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে একটি ফোরাম গঠনের প্রস্তাব করা হয়।