ঢাকা ০৭:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফটো ফিচার : সন্তান কখনো বাবার কাছে বোঝা হয় না সন্তানের প্রথম আশ্রয় মা, শিক্ষক, আজীবনের পথপ্রদর্শক : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অব্যবহৃত ৬ শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর জনগণের আস্থা অর্জন করতে পুলিশ সদস্যদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান পুলিশের যৌক্তিক দাবিসমূহ পূরণ করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াকিমুলের তৈরি স্মার্ট কারে চড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ মেলান্দহে মসজিদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন মাদারগঞ্জ-সারিয়াকান্দি নৌরুটে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টাকারী গ্রেপ্তার

যমুনা নদীতে আটকে পড়া সেই বরযাত্রী দল ১৬ ঘন্টা পর বাড়ি ফিরলেন

মাদারগঞ্জ : বরযাত্রীবাহী নৌকা জামথল ঘাটে ভিড়লে স্বজনদের মাঝে প্রাণ ফিরে আসে। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

ঘন কুয়াশায় পথ হারিয়ে যমুনা নদীর মাঝখানে আটকে পড়া নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ৪৭ জন বরযাত্রী দীর্ঘ সময় পর উদ্ধার হয়ে অবশেষে বাড়ি ফিরেছেন। ২৭ ডিসেম্বর, শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারা উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের তারতাপাড়া এলাকায় পৌঁছান।

এর আগে ২৬ ডিসেম্বর, শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বগুড়ার সারিয়াকান্দি থেকে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলাগামী বরযাত্রীবাহী নৌকাটি যমুনা নদীর মাঝখানে আটকে পড়ে। ঘন কুয়াশা ও হাড়কাঁপানো শীতের কারণে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। এ সময় নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন।

জানা গেছে, ২৬ ডিসেম্বর সকালে মাদারগঞ্জ উপজেলার তারতাপাড়া এলাকার সানোয়ার হোসেনের ছেলে নিলয় হাসান ছানির (২০) বিয়ে উপলক্ষে ৪৭ জন বরযাত্রী বগুড়া শহরের সাবগ্রামের চারমাথা এলাকায় যান। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বর-কনেসহ সন্ধ্যা ৬টার দিকে তারা বগুড়ার সারিয়াকান্দী উপজেলার কালীতলা ঘাট থেকে নৌকাযোগে মাদারগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

মাদারগঞ্জ : বরযাত্রীবাহী নৌকা জামথল ঘাটে ভিড়লে স্বজনদের মাঝে প্রাণ ফিরে আসে। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

নৌকাটি যমুনার মাঝনদীতে পৌঁছালে ঘন কুয়াশার কারণে নৌকার মাঝি দিক হারিয়ে ফেলেন। রাত ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় পথ খোঁজার চেষ্টা করা হলেও কুয়াশার কারণে কোন দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়নি। এ সময় জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করা হলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাৎক্ষণিক কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি।

শেষ পর্যন্ত অন্য কোন উপায় না পেয়ে নৌকাটি যমুনা নদীর মাঝখানেই নোঙর করে রাখা হয়। নৌকাটিতে ১৭ জন নারী ও নয়জন শিশুসহ মোট ৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। ২৭ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুয়াশা কিছুটা কাটলে বিকল্প দুই নৌকায় করে নিরাপদে জামথল ঘাটে পৌঁছাতে সক্ষম হন তারা।

বরযাত্রীর নৌকায় থাকা রফিকুল ইসলাম মেজর বলেন, ২৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আমরা সারিয়াকান্দির কালিতলাঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে মাদারগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দিই। কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার পর ঘন কুয়াশার কারণে মাঝি পথ হারিয়ে ফেলেন।

পথ খুঁজে না পাওয়ায় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে নৌকাটি নদীতেই নোঙর করে রাখা হয় এবং সারারাত সেখানেই অবস্থান করি। সকালে বিকল্প নৌকায় করে আমরা সবাই নিরাপদে জামথল ঘাটে পৌঁছাই। বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। এ জন্য মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি।

মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী এ প্রতিবেদককে বলেন, ঘন কুয়াশার কারণে পথ হারিয়ে যমুনা নদীতে আটকে পড়া নৌকার যাত্রীরা অক্ষত অবস্থায় ফিরে এসেছেন। তীব্র শীতের মধ্যে দীর্ঘ সময় নদীতে অবস্থান করলেও বরযাত্রীসহ নৌকার সবাই সুস্থ রয়েছেন। এ জন্য মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার সময়ে বিশেষ করে রাতের বেলায় নৌপথে চলাচল না করার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে

জনপ্রিয় সংবাদ

ফটো ফিচার : সন্তান কখনো বাবার কাছে বোঝা হয় না

যমুনা নদীতে আটকে পড়া সেই বরযাত্রী দল ১৬ ঘন্টা পর বাড়ি ফিরলেন

আপডেট সময় ০১:৫৬:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

ঘন কুয়াশায় পথ হারিয়ে যমুনা নদীর মাঝখানে আটকে পড়া নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ৪৭ জন বরযাত্রী দীর্ঘ সময় পর উদ্ধার হয়ে অবশেষে বাড়ি ফিরেছেন। ২৭ ডিসেম্বর, শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারা উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের তারতাপাড়া এলাকায় পৌঁছান।

এর আগে ২৬ ডিসেম্বর, শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বগুড়ার সারিয়াকান্দি থেকে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলাগামী বরযাত্রীবাহী নৌকাটি যমুনা নদীর মাঝখানে আটকে পড়ে। ঘন কুয়াশা ও হাড়কাঁপানো শীতের কারণে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। এ সময় নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন।

জানা গেছে, ২৬ ডিসেম্বর সকালে মাদারগঞ্জ উপজেলার তারতাপাড়া এলাকার সানোয়ার হোসেনের ছেলে নিলয় হাসান ছানির (২০) বিয়ে উপলক্ষে ৪৭ জন বরযাত্রী বগুড়া শহরের সাবগ্রামের চারমাথা এলাকায় যান। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বর-কনেসহ সন্ধ্যা ৬টার দিকে তারা বগুড়ার সারিয়াকান্দী উপজেলার কালীতলা ঘাট থেকে নৌকাযোগে মাদারগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

মাদারগঞ্জ : বরযাত্রীবাহী নৌকা জামথল ঘাটে ভিড়লে স্বজনদের মাঝে প্রাণ ফিরে আসে। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

নৌকাটি যমুনার মাঝনদীতে পৌঁছালে ঘন কুয়াশার কারণে নৌকার মাঝি দিক হারিয়ে ফেলেন। রাত ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় পথ খোঁজার চেষ্টা করা হলেও কুয়াশার কারণে কোন দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়নি। এ সময় জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করা হলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাৎক্ষণিক কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি।

শেষ পর্যন্ত অন্য কোন উপায় না পেয়ে নৌকাটি যমুনা নদীর মাঝখানেই নোঙর করে রাখা হয়। নৌকাটিতে ১৭ জন নারী ও নয়জন শিশুসহ মোট ৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। ২৭ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুয়াশা কিছুটা কাটলে বিকল্প দুই নৌকায় করে নিরাপদে জামথল ঘাটে পৌঁছাতে সক্ষম হন তারা।

বরযাত্রীর নৌকায় থাকা রফিকুল ইসলাম মেজর বলেন, ২৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আমরা সারিয়াকান্দির কালিতলাঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে মাদারগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দিই। কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার পর ঘন কুয়াশার কারণে মাঝি পথ হারিয়ে ফেলেন।

পথ খুঁজে না পাওয়ায় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে নৌকাটি নদীতেই নোঙর করে রাখা হয় এবং সারারাত সেখানেই অবস্থান করি। সকালে বিকল্প নৌকায় করে আমরা সবাই নিরাপদে জামথল ঘাটে পৌঁছাই। বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। এ জন্য মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি।

মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী এ প্রতিবেদককে বলেন, ঘন কুয়াশার কারণে পথ হারিয়ে যমুনা নদীতে আটকে পড়া নৌকার যাত্রীরা অক্ষত অবস্থায় ফিরে এসেছেন। তীব্র শীতের মধ্যে দীর্ঘ সময় নদীতে অবস্থান করলেও বরযাত্রীসহ নৌকার সবাই সুস্থ রয়েছেন। এ জন্য মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার সময়ে বিশেষ করে রাতের বেলায় নৌপথে চলাচল না করার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে