ঢাকা ০৯:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

মাদারগঞ্জে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন যুক্তরাষ্ট্রে নিহত লিমন

মাদারগঞ্জ : শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ তাদের বাড়িতে আনা হলে তাকে দেখতে ভিড় করেন বহু মানুষ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে হত্যাকাণ্ডে নিহত পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ৪ মে, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের লালডোবা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। নিহত লিমন লালডোবা এলাকার জহুরুল হকের ছেলে।

এর আগে ৪ মে সকাল ৮টা ৪৭ মিনিটে লিমনের মরদেহবাহী উড়োজাহাজ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পরে বিমানবন্দর থেকে লিমনের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে তার গ্রামের বাড়ি লালডোবা গ্রামে নেওয়া হয়। বিকাল ৩টা ১০ মিনিটে লিমনের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। প্রাইভেটকারে বাবা জহুরুল হক, মা লুৎফন হক, ছোট ভাই জোবায়ের হোসেনসহ অন্য আত্মীয়-স্বজন এবং অ্যাম্বুলেন্সে ফুফাত ভাই শাহীন ও শামীম আসেন।

মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় ভারি হয়ে উঠে চারপাশ। নিহত লিমনের মরদেহ শেষবারের মত একনজর দেখতে বাড়ির সামনে ভিড় করে শত শত মানুষ। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, সহপাঠী, এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সেখানে ছুটে আসে।

মাদারগঞ্জ : শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের জানাজায় বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

লিমনের জানাজায় জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক এ কে এম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ, মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব লুৎফর রহমান, মাদারগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল গফুরসহ পাঁচ শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন। জানাজায় ইমামতি করেন নিহত লিমনের ফুফাত ভাই হাফেজ মাওলানা সাইদুর রহমান। জানাজা শেষে লিমনের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে যাওয়া এক মেধাবী তরুণের দাফন সম্পন্ন হলেও তার নির্মম মৃত্যুর বিচার দাবিতে এখনও সোচ্চার পরিবার ও এলাকাবাসী।

লিমনের বাবা জহুরুল হক বলেন, আমার ছেলে লিমন পিএইচডির জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিল এবং সেখানে তাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানাচ্ছি। যেন বিদেশে পড়তে গিয়ে আর যেন কেউ এভাবে প্রাণ না হারায়।

লিমনের বাবা আরও বলেন, আমার সবচেয়ে কষ্ট হচ্ছে আমি নিজে অনেক কষ্ট করে ছেলে দুটোকে বড় করেছি। কোনদিন তাদের শারীরিক আঘাত করিনি। যা শাসন করেছি মুখে শাসন করেছি। আমার ছেলেকে এইভাবে মরতে হবে, কখনও ভাবতেই পারিনি। উপরওয়ালা জানেন ছেলেটাকে কি কষ্ট দিয়ে মারছে।

জানা গেছে, লিমন ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি করতে যান। সেখানে লিমন ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতিমালা বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন।

গত ১৬ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে জামিল আহমেদ লিমন (২৭) ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭) নিখোঁজ হন। পরদিন তাদের এক বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন। পরে ২৪ এপ্রিল, শুক্রবার  ফ্লোরিডার ট্যাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে লিমনের লাশ উদ্ধার করা হয়। সেই ব্রিজের আশপাশে ডুবুরি দলের অনুসন্ধানের পর তার ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া যায়। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে লিমনের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুগারবিয়েহকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে, নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা যায়। আগামী ৬ মে, বুধবার ফ্লোরিডার ট্যাম্পায় বৃষ্টির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নিহত বৃষ্টির গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর এলাকায়। তিনি ওই এলাকার জহির উদ্দিন আকনের মেয়ে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মানবিক রাষ্ট্র গঠনে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

মাদারগঞ্জে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন যুক্তরাষ্ট্রে নিহত লিমন

আপডেট সময় ১০:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে হত্যাকাণ্ডে নিহত পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ৪ মে, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের লালডোবা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। নিহত লিমন লালডোবা এলাকার জহুরুল হকের ছেলে।

এর আগে ৪ মে সকাল ৮টা ৪৭ মিনিটে লিমনের মরদেহবাহী উড়োজাহাজ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পরে বিমানবন্দর থেকে লিমনের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে তার গ্রামের বাড়ি লালডোবা গ্রামে নেওয়া হয়। বিকাল ৩টা ১০ মিনিটে লিমনের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। প্রাইভেটকারে বাবা জহুরুল হক, মা লুৎফন হক, ছোট ভাই জোবায়ের হোসেনসহ অন্য আত্মীয়-স্বজন এবং অ্যাম্বুলেন্সে ফুফাত ভাই শাহীন ও শামীম আসেন।

মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় ভারি হয়ে উঠে চারপাশ। নিহত লিমনের মরদেহ শেষবারের মত একনজর দেখতে বাড়ির সামনে ভিড় করে শত শত মানুষ। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, সহপাঠী, এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সেখানে ছুটে আসে।

মাদারগঞ্জ : শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের জানাজায় বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

লিমনের জানাজায় জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক এ কে এম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ, মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব লুৎফর রহমান, মাদারগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল গফুরসহ পাঁচ শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন। জানাজায় ইমামতি করেন নিহত লিমনের ফুফাত ভাই হাফেজ মাওলানা সাইদুর রহমান। জানাজা শেষে লিমনের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে যাওয়া এক মেধাবী তরুণের দাফন সম্পন্ন হলেও তার নির্মম মৃত্যুর বিচার দাবিতে এখনও সোচ্চার পরিবার ও এলাকাবাসী।

লিমনের বাবা জহুরুল হক বলেন, আমার ছেলে লিমন পিএইচডির জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিল এবং সেখানে তাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানাচ্ছি। যেন বিদেশে পড়তে গিয়ে আর যেন কেউ এভাবে প্রাণ না হারায়।

লিমনের বাবা আরও বলেন, আমার সবচেয়ে কষ্ট হচ্ছে আমি নিজে অনেক কষ্ট করে ছেলে দুটোকে বড় করেছি। কোনদিন তাদের শারীরিক আঘাত করিনি। যা শাসন করেছি মুখে শাসন করেছি। আমার ছেলেকে এইভাবে মরতে হবে, কখনও ভাবতেই পারিনি। উপরওয়ালা জানেন ছেলেটাকে কি কষ্ট দিয়ে মারছে।

জানা গেছে, লিমন ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি করতে যান। সেখানে লিমন ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতিমালা বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন।

গত ১৬ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে জামিল আহমেদ লিমন (২৭) ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭) নিখোঁজ হন। পরদিন তাদের এক বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন। পরে ২৪ এপ্রিল, শুক্রবার  ফ্লোরিডার ট্যাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে লিমনের লাশ উদ্ধার করা হয়। সেই ব্রিজের আশপাশে ডুবুরি দলের অনুসন্ধানের পর তার ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া যায়। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে লিমনের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুগারবিয়েহকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে, নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা যায়। আগামী ৬ মে, বুধবার ফ্লোরিডার ট্যাম্পায় বৃষ্টির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নিহত বৃষ্টির গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর এলাকায়। তিনি ওই এলাকার জহির উদ্দিন আকনের মেয়ে।