ঢাকা ০৭:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই সরকারের অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার : আইনমন্ত্রী স্বাধীনতা পুরস্কার হস্তান্তর করেছেন প্রধানমন্ত্রী ২৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রতারক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর মনির গ্রেপ্তার মুন মেমোরিয়ালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা বকশীগঞ্জের কৃষকেরা বিনামূল্যে পেল বীজ সার গণপরিবহনে যাত্রীবান্ধব সেবার দাবিতে সনাকের মানববন্ধন শেরপুরে ১ লাখ ৬১ হাজার শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হবে টাইমের ২০২৬ সালের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় তারেক রহমান আগামী দুই মাসেও জ্বালানি তেলের সমস্যা হবে না : জ্বালানি মুখপাত্র

রানীগঞ্জ যৌনপল্লীতে অপরাজেয় বাংলাদেশের সংযোগ প্রকল্পের জামালপুর কার্যালয়ে চিকিৎসা শিবির অনুষ্ঠিত

জামালপুর : চিকিৎসাসেবা দেন ডাক্তার মোবাশ্বিরা হক, ডাক্তার ফৌজিয়া আবিদা ও সাকমো নিকুঞ্জ কর্মকার। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

দাতা সংস্থা ইউএন-উইমেন এর অর্থায়নে অপরাজেয় বাংলাদেশের সংযোগ প্রকল্পের উদ্যোগে জামালপুর শহরের রানীগঞ্জ যৌনপল্লীতে বসবাসরত নারীদের জন্য দিনব্যাপী চিকিৎসা শিবির পরিচালিত হয়েছে। যৌনপল্লী সংলগ্ন সংযোগ প্রকল্পের অফিসে ২৩ নভেম্বর, রবিবার এই চিকিৎসা শিবিরের আয়োজন করা হয়।

জামালপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মোবাশ্বিরা হক এবং জেলার মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ফৌজিয়া আবিদা রানীগঞ্জ যৌনপল্লীর নারী ও শিশু রোগীদের বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত শোনেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধসেবন ও পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য ব্যবস্থাপত্র লিখে দেন। রোগীদের প্রেসার মাপা ও ওজন মাপাসহ অন্যান্য কাজে দু’জন চিকিৎসককে সার্বিক সহযোগিতা করেন ইটাইল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার (সাকমো) নিকুঞ্জ কর্মকার।

জামালপুর : চিকিৎসাসেবা দেন ডাক্তার মোবাশ্বিরা হক, ডাক্তার ফৌজিয়া আবিদা ও সাকমো নিকুঞ্জ কর্মকার। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

এই চিকিৎসা শিবিরের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন অপরাজেয়-বাংলাদেশের সংযোগ প্রকল্পের দু’জন মাঠ কর্মকর্তা রীনা আক্তার ও হাফিজা খাতুন।

হাতের কাছে দু’জন ডাক্তার পেয়ে যৌনপল্লীর নারীরা খুবই খুশি। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নারী যৌনকর্মী বলেন, আমার হাতে শরীরে ব্যথা। ডায়াবেটিসের সমস্যা। মেলা দিন ধইরা আমি অসুস্থ। ওষুধ খাইতাছি। ডাক্তার ম্যাডামরে সবই বলন যায়। বাইরের ডাক্তারে মেলা টাকা ভিজিট নেয়। হাসপাতালে গেলে লাইনে দাঁড়াই থাকা লাগে। আমগরে এইখানেই ভালা অইছে। ফিরি কিছু ওষুধ দিলে আরও ভালা অইতো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন নারী যৌনকর্মীকে দেখা গেছে তিনি খুবই অসুস্থ। তিনি বলেন, আমার জ্বর অইছে। ঠান্ডাজ্বর। ডাক্তার দেখামু।

সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া দিনব্যাপী এই চিকিৎসা শিবিরে ১১০ জন রোগী দেখা হয়েছে। এর মধ্যে ছয়জন শিশু ও ছয়জন পুরুষ রোগী রয়েছেন। চিকিৎসা শিবিরে রোগীদের রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত শুনে রক্তচাপ ও ওজন পরিমাপ করে ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়। এছাড়াও তাদের মাঝে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

ডাক্তার মোবাশ্বিরা হক এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি তো অপরাজেয়-বাংলাদেশের সংযোগ প্রকল্পের আওতায় এখানে রোগী দেখছি প্রায় এক বছর ধরে। এই প্রকল্পের মাঠ কর্মকর্তারা খুবই কো-অপারেটিভ। সাধারণত কয়েক মাস পরপর এখানে চিকিৎসা শিবিরের আয়োজন করা হয়। ওনারা প্রতিমাসেই এখানকার নারী রোগীদের আমাদের অফিসে নিয়ে যান।  প্রতিমাসেই ২০ জন করে রোগী দেখি। ব্যবস্থাপত্র লিখে দেই। তারা ওষুধগুলো কিনে এনে খান। আমরা বুঝতে পারি যে তাদের কতটুকু উন্নতি হয়েছে। তবে সবাই পারে না। অনেক নারীরাই গরিব। তাদের অনেক সমস্যা। যদি বেশি জটিল রোগী হয়, তাহলে তাদেরকে হাসপাতালে রেফার করি। এখানে  সরকারি, বেসরকারিভাবে এই ধরনের চিকিৎসাসেবা অব্যাহত থাকলে কিছু রোগ ছড়িয়ে পড়বে না। তারা সুস্থ থাকতে পারবে।

ডাক্তার ফৌজিয়া আবিদা এ প্রতিবেদককে বলেন, এখানে বেশির ভাগই দেখা যাচ্ছে চর্মরোগী। অনেকের কোমরব্যথা, মাথাব্যথার রোগী আছে। আর কিছু গাইনি সমস্যা নিয়ে আসেন। তাদেরকে ওষুধ লিখে দিয়েছি। স্বাস্থ্য সুরক্ষার অন্যান্য পরামর্শও দিয়েছি। যাদের রোগ একটু জটিল তাদেরকে বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে বলেছি।

তিনি আরও বলেন, এরকম একটা সেক্টরে বা ক্যাম্পেইনে এসে রোগী দেখা, এটাই আমার প্রথম। আমার জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা বলা যায়। অবশ্যই ভালো লাগতেছে। যৌনপল্লীর নারীদের জন্য অপরাজেয় বাংলাদেশের একটি ভালো উদ্যোগ।

জামালপুর : চিকিৎসাসেবা দেন ডাক্তার মোবাশ্বিরা হক, ডাক্তার ফৌজিয়া আবিদা ও সাকমো নিকুঞ্জ কর্মকার। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সংযোগ প্রকল্পের মাঠ কর্মকর্তা রীনা আক্তার এ প্রতিবেদককে বলেন, রানীগঞ্জ যৌনপল্লীর নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অপরাজেয় বাংলাদেশের সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ২০০ নারীকে পর্যায়ক্রমে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। প্রতিমাসে ২০ জন নারীকে সিভিল সার্জন অফিসে নিয়ে যাই। সেখানে মেডিকেল অফিসার ডা. মোবাশ্বিরা হক চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সংযোগ প্রকল্পের এই অফিসে চতুর্থবারের মতো চিকিৎসা শিবিরের আয়োজন করা হলো।

জনপ্রিয় সংবাদ

জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই সরকারের অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী

রানীগঞ্জ যৌনপল্লীতে অপরাজেয় বাংলাদেশের সংযোগ প্রকল্পের জামালপুর কার্যালয়ে চিকিৎসা শিবির অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় ০৫:০১:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

দাতা সংস্থা ইউএন-উইমেন এর অর্থায়নে অপরাজেয় বাংলাদেশের সংযোগ প্রকল্পের উদ্যোগে জামালপুর শহরের রানীগঞ্জ যৌনপল্লীতে বসবাসরত নারীদের জন্য দিনব্যাপী চিকিৎসা শিবির পরিচালিত হয়েছে। যৌনপল্লী সংলগ্ন সংযোগ প্রকল্পের অফিসে ২৩ নভেম্বর, রবিবার এই চিকিৎসা শিবিরের আয়োজন করা হয়।

জামালপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মোবাশ্বিরা হক এবং জেলার মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ফৌজিয়া আবিদা রানীগঞ্জ যৌনপল্লীর নারী ও শিশু রোগীদের বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত শোনেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধসেবন ও পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য ব্যবস্থাপত্র লিখে দেন। রোগীদের প্রেসার মাপা ও ওজন মাপাসহ অন্যান্য কাজে দু’জন চিকিৎসককে সার্বিক সহযোগিতা করেন ইটাইল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার (সাকমো) নিকুঞ্জ কর্মকার।

জামালপুর : চিকিৎসাসেবা দেন ডাক্তার মোবাশ্বিরা হক, ডাক্তার ফৌজিয়া আবিদা ও সাকমো নিকুঞ্জ কর্মকার। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

এই চিকিৎসা শিবিরের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন অপরাজেয়-বাংলাদেশের সংযোগ প্রকল্পের দু’জন মাঠ কর্মকর্তা রীনা আক্তার ও হাফিজা খাতুন।

হাতের কাছে দু’জন ডাক্তার পেয়ে যৌনপল্লীর নারীরা খুবই খুশি। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নারী যৌনকর্মী বলেন, আমার হাতে শরীরে ব্যথা। ডায়াবেটিসের সমস্যা। মেলা দিন ধইরা আমি অসুস্থ। ওষুধ খাইতাছি। ডাক্তার ম্যাডামরে সবই বলন যায়। বাইরের ডাক্তারে মেলা টাকা ভিজিট নেয়। হাসপাতালে গেলে লাইনে দাঁড়াই থাকা লাগে। আমগরে এইখানেই ভালা অইছে। ফিরি কিছু ওষুধ দিলে আরও ভালা অইতো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন নারী যৌনকর্মীকে দেখা গেছে তিনি খুবই অসুস্থ। তিনি বলেন, আমার জ্বর অইছে। ঠান্ডাজ্বর। ডাক্তার দেখামু।

সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া দিনব্যাপী এই চিকিৎসা শিবিরে ১১০ জন রোগী দেখা হয়েছে। এর মধ্যে ছয়জন শিশু ও ছয়জন পুরুষ রোগী রয়েছেন। চিকিৎসা শিবিরে রোগীদের রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত শুনে রক্তচাপ ও ওজন পরিমাপ করে ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়। এছাড়াও তাদের মাঝে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

ডাক্তার মোবাশ্বিরা হক এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি তো অপরাজেয়-বাংলাদেশের সংযোগ প্রকল্পের আওতায় এখানে রোগী দেখছি প্রায় এক বছর ধরে। এই প্রকল্পের মাঠ কর্মকর্তারা খুবই কো-অপারেটিভ। সাধারণত কয়েক মাস পরপর এখানে চিকিৎসা শিবিরের আয়োজন করা হয়। ওনারা প্রতিমাসেই এখানকার নারী রোগীদের আমাদের অফিসে নিয়ে যান।  প্রতিমাসেই ২০ জন করে রোগী দেখি। ব্যবস্থাপত্র লিখে দেই। তারা ওষুধগুলো কিনে এনে খান। আমরা বুঝতে পারি যে তাদের কতটুকু উন্নতি হয়েছে। তবে সবাই পারে না। অনেক নারীরাই গরিব। তাদের অনেক সমস্যা। যদি বেশি জটিল রোগী হয়, তাহলে তাদেরকে হাসপাতালে রেফার করি। এখানে  সরকারি, বেসরকারিভাবে এই ধরনের চিকিৎসাসেবা অব্যাহত থাকলে কিছু রোগ ছড়িয়ে পড়বে না। তারা সুস্থ থাকতে পারবে।

ডাক্তার ফৌজিয়া আবিদা এ প্রতিবেদককে বলেন, এখানে বেশির ভাগই দেখা যাচ্ছে চর্মরোগী। অনেকের কোমরব্যথা, মাথাব্যথার রোগী আছে। আর কিছু গাইনি সমস্যা নিয়ে আসেন। তাদেরকে ওষুধ লিখে দিয়েছি। স্বাস্থ্য সুরক্ষার অন্যান্য পরামর্শও দিয়েছি। যাদের রোগ একটু জটিল তাদেরকে বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে বলেছি।

তিনি আরও বলেন, এরকম একটা সেক্টরে বা ক্যাম্পেইনে এসে রোগী দেখা, এটাই আমার প্রথম। আমার জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা বলা যায়। অবশ্যই ভালো লাগতেছে। যৌনপল্লীর নারীদের জন্য অপরাজেয় বাংলাদেশের একটি ভালো উদ্যোগ।

জামালপুর : চিকিৎসাসেবা দেন ডাক্তার মোবাশ্বিরা হক, ডাক্তার ফৌজিয়া আবিদা ও সাকমো নিকুঞ্জ কর্মকার। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সংযোগ প্রকল্পের মাঠ কর্মকর্তা রীনা আক্তার এ প্রতিবেদককে বলেন, রানীগঞ্জ যৌনপল্লীর নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অপরাজেয় বাংলাদেশের সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ২০০ নারীকে পর্যায়ক্রমে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। প্রতিমাসে ২০ জন নারীকে সিভিল সার্জন অফিসে নিয়ে যাই। সেখানে মেডিকেল অফিসার ডা. মোবাশ্বিরা হক চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সংযোগ প্রকল্পের এই অফিসে চতুর্থবারের মতো চিকিৎসা শিবিরের আয়োজন করা হলো।